বুধবার   ২৭ মে ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১২ ১৪২৭   ০৪ শাওয়াল ১৪৪১

ভিপি বাদলের কর্মকান্ডে হতাশ জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১৪ মে ২০২০  

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদলের কর্মকান্ড নিয়ে প্রশ্ন  তুলছে অনেকে। বন্দরের মদনপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মহিদ উদ্দিন ভুইয়া ও সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে শোকজকে কেন্দ্র করে জেলাব্যাপী চলছে নানা কথা।

 

তদন্ত কমিটি না করেই তিনি যে শোকজপত্র পাঠিয়েছেন তা নিয়েও  প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। আবার তিনি শোকজে নিজেকে নিজে অনুলিপি দিয়েছেন। তার এমন কর্মকান্ড রাজনৈতিক অদূরদর্শীতা প্রকাশ পেয়েছে বলে মনে করেন অনেকে।   


বন্দরের মদনপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মহিদ ভূইয়া ও সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিনকে জেলা  আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদলের শোকজ করা নিয়ে গুঞ্জন শুরু  হয়েছে। ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ৯টি ওয়ার্ড থেকে ত্রাণ কমিটি করার নামে প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে ১ হাজার টাকা করে উত্তোলন করেছেন মর্মে অভিযোগ উঠে। অভিযোগ উঠার পর পরই জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদল,বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের একটি প্যাডে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ পাঠান। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট না পেয়ে জেলা কমিটি শোকজ করতে পারেন না বলে অভিমত জেলা নেতৃবৃন্দের।
 নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা আওয়ামীলীগের একজন  নেতা বলেন,ভিপি বাদল ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। যদি মদনপুর ইউনিয়নে অর্থ আত্মসাৎতের কোন ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে সে ব্যাপারে প্রথমে থানা কমিটি কর্তৃক একটি তদন্ত কমিটি করতে হবে। সেই তদন্ত কমিটির রিপোর্ট হাতে আসার পর জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে সাধারণ সম্পাদক আলোচনা করবে। এরপরই  রিপোর্ট পর্যালোচনা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শোকজ করার বিধান রয়েছে। অপরদিকে শোকজে ভিপি বাদল নিজেকেই নিজে অনুলিপি  দিয়েছেন। তাঁর এমন কর্মকান্ডে তার সাংগঠনিক দৃঢ়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি নিজে নিজেই যা মনে করবেন তা জেলা কমিটির নামে বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড কমিটিতে করে যাবেন এটা সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ড বল্লে ভুল হবে না।
এ ব্যাপারে বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এমএ রশিদ বলেন, মদনপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতাদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ জেলা কমিটিতে করা হয়েছে বলে আমি শুনেছি। এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে কি হয়েছে তা আমার জানা নেই। 
এব্যাপারে জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি আব্দুল কাদির বলেন, সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী যদি ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে কোন অনিয়ম বা সংগঠন বিরোধী কোন অভিযোগ উঠে তাহলে থানা কমিটি জেলা কমিটিতে তা অবগত করবে। এরপর জেলা কমিটির নির্দেশে থানা কমিটি তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করবে। অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ার আগে শোকজ করার বিধান নেই। আসলে মদনপুরে কি ঘটেছে এ ব্যাপারে আমি অবগত নই। তিনি আরো বলেন,জেলা কমিটি সরাসরি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্যাড ব্যবহার করতে পারে না। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ উল্লেখের সাথে সাথে কোন জেলা তাও উল্লেখ করতে হবে। 

এই বিভাগের আরো খবর