শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৪ ১৪২৬   ২০ মুহররম ১৪৪১

পুরনো কমিটি বহাল

ভিপি বাদলকে ওবায়দুল কাদেরের ভৎসনা

প্রকাশিত: ৩ আগস্ট ২০১৯  

মাহফুজ সিহান (যুগের চিন্তা ২৪) :সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটি গঠনতন্ত্রবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

 

তিনি বলেছেন, এই আহবায়ক কমিটি পুরোটাই অবৈধ। একই সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো.বাদলকে টেলিফোনে ভৎসনা করেছেন তিনি। 

 


সূত্র জানায়, গতকাল শুক্রবার রাতে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের একটি প্রতিনিধি দল সোনারগাঁয়ের আহবায়ক কমিটির বিষয়ে ওবায়দুল কাদেরের বাসায় দেখা করতে যান।

 

এসময় জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আরজু রহমান ভূঁইয়া সেখানে ওবায়দুল কাদের এই সময় সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটি অনুমোদনের বিষয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে জেলা আওয়ামী লীগের ৪০ জন নেতার স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্র দেন।

 

এসময় উপস্থিত ছিলেন  বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এড.আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আরজু রহমান ভূইয়া, আব্দুল কাদির, আদিনাথ বসু, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সদস্য শহিদুল্লাহসহ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। 

 


অভিযোগপত্রে তারা উল্লেখ করেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো.বাদল সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটি গঠন করেছে। যা সম্পূর্ণ অগঠনতান্ত্রিক ও স্বেচ্ছাচারিতার শামিল। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের এই ধরনের অগঠনতান্ত্রিক ও নিয়ম বহির্ভূত কর্মকাণ্ড আমাদের চরমভাবে হতাশ ও বিস্মিত করেছে।  এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশু সম্ভাবনা রয়েছে।

 

১৩ জুলাই জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় সম্মেলনের মাধ্যমে উপজেলা ও থানা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সেই মোতাবেক রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার উপজেলায় সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়। ১৩ জুলাইয়ের বর্ধিত সভায় কোন কমিটি ভেঙে দেওয়া কিংবা আহবায়ক কমিটি করার কোন সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় নাই।

 

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বর্ধিতসভার সিদ্ধান্তের কোন তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ অগঠনতান্ত্রিক ও স্বেচ্ছাচারিতামূলক আচরণ করে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির ঘোষণা দিয়ে দলের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা, দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। যা আগামীদিনের সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা চেইন অব কমান্ড চরমভাবে বিঘ্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

তাই নিন্ম স্বাক্ষরকারীগণ (৪০জনের মধ্যে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী, সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবু, সাবেক সাংসদ কায়সার হাসনাত, উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান, মোশারফ হোসেনের স্বাক্ষরও তন্মেধ্যে রয়েছে) জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অগঠনতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট সাংগঠনিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার জন্য আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি। 

 


এসময় অভিযোগপত্রটি দেখেই সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদলকে ফোন করে ভৎসনা করেন।

 

জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা জানান, দলের সম্মানিত সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারিকে ফোনে বলেন, ‘তোমার এই কমিটি দেয়ার কোন এখতিয়ার নেই। তুমি এই কমিটি দিতে পারোনা। এভাবে তোমরা কমিটি করে দিতে কিংবা ভেঙে দিতে পারোনা। এই সিদ্ধান্ত দেবে কেন্দ্র। এছাড়া তিনি ভিপি বাদলকে আগের পুরোনো কমিটিই বহাল থাকবে বলে নির্দেশ দেন। 

 


অভিযোগপত্রে স্বাক্ষরিত ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৮নং স্বাক্ষরিত ব্যক্তি শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এস এম জাহাঙ্গীরও রয়েছেন। যিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুমোদন দেয়া সোনারগাঁ উপজেলা আহবায়ক কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন। তিনিও এই আহবায়ক কমিটির বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। 

 


জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আরজু রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘দলের সেক্রেটারি ওবায়দুল কাদের বলেছেন সোনারগাঁয়ের আহবায়ক কমিটি দেয়ার এখতিয়ার জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেই। এই আহবায়ক কমিটির কোন বৈধতা নেই।

 

জেলা কমিটির এখতিয়ার নেই কমিটি ভাঙার কিংবা আহবায়ক কমিটি দেয়ার। এটি তারা বেআইনী কাজ করেছে। নেত্রী (আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) আসলে এই আহবায়ক কমিটি করে যারা দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন।’

 


জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আর্থিক লেনদেনের বিষয়েও সাধারণ সম্পাদক  ওবায়দুল কাদেরকে জানানো হয়েছে। তিনি আমাদের সামনেই সেক্রেটারি ভিপি বাদলকে টেলিফোনে বলেছেন ‘আহবায়ক কমিটি দেয়ার এখতিয়ার তোমাদের নেই।

 

তুমি সোনারগাঁয়ে কেন গিয়েছ? পরশু তোমাকে এসব থেকে বিরত থাকতে বলেছিলাম। সভানেত্রী আসলে এই আহবায়ক কমিটির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আগের সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিই পুনর্বহাল থাকবে।’ 

 


এব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদল বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের ভাইয়ের সাথে আমার গত পরশু কথা হয়েছে। আজকেও উনি ফোন দিয়ে জানিয়েছেন অন্য একটি প্রসঙ্গে। সেটি হচ্ছে ডেঙ্গুমুক্ত বাংলাদেশ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ নামে দুটি উদ্যেগ নেয়া হয়েছিলো সেটি আমরা করছি কিনা! কমিটির বিষয়টি ভিন্ন। কমিটি বৈধ না অবৈধ এটি কেন্দ্র সিদ্ধান্ত দেবে। আমাদের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশের খবর রাখেন।

 

প্রতিমাসে অথবা ১৫ দিন অন্তর অন্তর তিনি এবিষয়ে আলোচনা করেন এবং সিদ্ধান্ত নেন। কমিটির বিষয়ে ওবায়দুল কাদেরের সাথে কেন কথা হবে! আহবায়ক কমিটির কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বলেছে সাধারণ সম্পাদক এটি একেবারেই অসম্ভব।

 

আমার সাথে এধরণের কোন আলোচনাই হয়নি। জাতীয় শোক দিবসের মাসে কমিটি নিয়ে এতো মাথাব্যথা কেন। শোক দিবসের প্রোগ্রাম নিয়েই এখন আমাদের ভাবা উচিৎ।’   

এই বিভাগের আরো খবর