শুক্রবার   ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২১ ১৪২৬   ০৮ রবিউস সানি ১৪৪১

বিদায় বেলায় চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করলেন এসপি হারুন

প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : পুলিশ সদর দপ্তরে বদলি হওয়া নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদের ব্যাপারে তদন্ত করা হবে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দিলেও অভিযোগ অস্বীকার করলেন এসপি হারুন।

 

বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ লাইনসে আনুষ্ঠানিকভাবে সদ্য বদলি হওয়া পুলিশ সুপার হারুন আর রশিদকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেয়া হয়।

 

এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাবেক এসপি হারুন অর রশীদ গত পহেলা নভেম্বর বিসিবি’র পরিচালক শওকত আজিজ রাসেলের স্ত্রী ও ছেলেকে তুলে নিয়ে আসার বিষয়ে জানান, গাড়ি তল্লাশি করে বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য পাওয়ার কারনে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়ে তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে।

 

এরপর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শওকত আলী রাসেলের ছেলে ও স্ত্রীকে নারায়ণগঞ্জের ডিবি পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল।

 

এসপি হারুন দাবি করেন, ঘটনার দিন তার সহকর্মী পুলিশ কর্মকর্তার মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে লাঞ্ছিত করায় বিষয়টি তিনি মেনে নিতে পারেন নি। তার প্রেক্ষিতে অস্ত্র তাক করা ব্যক্তি কত বড় ধনী বা ক্ষমতাশালী সেটা বিবেচনা করা হয়নি।

 

অপরাধী হিসেবে বিবেচিত করে অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা হয়েছে এবং মামলার পরেই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই পুলিশ শওকত আজি রাসেলের বাড়িতে পুলিশ রেইড দিয়েছে। 


চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে এসপি হারুন বলেন, শওকত আজিজ রাসেল পালিয়ে যাওয়ায় তার সন্তানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল এবং তার স্ত্রী স্বেচ্ছায় এসেছেন। চাঁদা না দেয়ায় তাদের ধরে আনা হয়েছে এ অভিযোগ সত্য নয় বলেও দাবি করেন এস.পি হারুন।

 

তিনি বলেন,আমার বিশ্বাস উর্ধতন কর্তৃপক্ষ অবশ্যই বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন এবং তাতে  অভিযোগের সত্যতা বের হয়ে আসবে। এসময় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে এস.পি হারুন বলেন, আমি মনে করি আমি কোন ভুল করি নি। তদন্তেই সেটা প্রমান হবে। 

 

এসপি হারুনের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, র‌্যাব-১১ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক (সিও) কাজী শামসের উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভপতি এ্যাডাভোকেট মাহাবুবুর রহমান মাসুম, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম ও নুরে আলমসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।  

 

এর আগে হারুন অর রশিদ এসপি হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলামের কাছে তার দায়িত্ব বুুঝিয়ে দিয়ে এসপি অফিস থেকে বিদায় নেন।

 

উল্লেখ্য, গত ২ নভেম্বর শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্য্যালয়ে এসপি হারুন অর রশিদ আকস্মিক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে গণমাধ্যমকে জানান, শুক্রবার মধ্য রাতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের সাইনবোর্ড এলাকায় শওকত আজিজ রাসেলের গাড়ি তল্লাশি করে বিপুল পরিমান মদ, বীয়ার ও গুলি জব্দসহ গাড়িচালককে আটক করার কথা। তবে তার বাড়িতে গিয়ে অভিযানের কথা সেদিন কিছুই বলেননি।

 

এর পরদিন অভিযান ও আটকের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ গণমাধ্যমে ভাইরাল হলে ৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির নির্দেশে এসপি হারুনকে পুলিশের সদর দপ্তরে টি আর শাখায় বদলি করা হয়।

 

এদিকে আজ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে অনুষ্ঠিত আইন শৃংখলা বিষয়ক মন্ত্রীসভার বৈঠক শেষে নারায়ণগঞ্জের এসপি হারুনের ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন, এটি পুলিশের অভ্যন্তরীন বিষয়। হারুনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ব্যাপারে তদন্ত শুরু হবে।
 

এই বিভাগের আরো খবর