সোমবার   ০৪ মার্চ ২০২৪   ফাল্গুন ২১ ১৪৩০

বায়ু দূষণ করছে বিসিকের জুতা তৈরীর স্প্রে

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৬ নভেম্বর ২০২২  

 

বায়ু দূষণ করছে ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ সড়কের বিসিক পাশ্ববর্তী আবাসিক এলাকায় অপরিকল্লিতভাবে গড়ে ওঠা একাধিক জুতা তৈরির দোকান। এখানে জুতা তৈরির বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন ক্ষতিকারক পদার্থ দূষণ করছে এলাকার বায়ু। বিশেষ করে জুতায় ব্যবহৃত চামড়া রং করার কাজে যে স্প্রে ব্যবহার করা হয় তাতে মারাত্বক বায়ু দূষণ হচ্ছে।

 

 

এই ক্ষতিকারক স্প্রের কারনে বিড়ম্বনায় পরছেন এখানকার পথচারী সহ এলাকাবাসি। শনিবার (৫ নভেম্বর) সম্পূর্ণ অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে ওঠা এসব জুতা তৈরীর দোকান ঘুরে দেখা গেছে এ চিত্র। যখন জুতায় স্প্রে করা হয় তখন এর আশে পাশে থাকা তো দূরের কথা এর সামনে দিয়ে যাওয়াও অনেক কষ্টকর। এরকম অশ্বস্থিকর পরিবেশে থেকে যারা জুতা তৈরীতে ব্যাস্ত তারাও সম্পূর্ণ মাস্ক মুক্ত।

 

 

এদিক থেকে তারা নিজেদেরও ক্ষতি করছে আবার অন্যদেরও। এ বিষয়ে কথা হয় জুতা তৈরীতে ব্যস্ত এক কারিগরের সাথে। তিনি জানান, আমরা এখানে কাজ করতে করতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। তাই আমাদের মাস্ক দরকার হয় না। কথা হয় আরেক জুতা তৈরীর দোকান মালিকের সাথে। তিনি বলেন, আমি ৭ বছর যাযৎ এখানে ব্যবসা করছি। আমার এই দোকানের কারনে কারো কোনও সমস্যা হচ্ছে না।

 

 

বায়ু দূষণের কথা বললে তিনি বলেন, ব্যবসা করি জুতার তাতে বায়ু দূষণ হয় কিভাবে। পাশের দোকান মালিকের সাথে কথা বললে তিনি জানান, জুতার স্প্রের কারনে পথচারীদের একটু সমস্যা হয়। যুগের চিন্তার সাথে কথা হয় এক পথচারী মোঃ মশিউরের সাথে। তিনি জানান, জুতা তৈরীতে ব্যবহৃত এই ক্ষতিকারক স্প্রের কারনে আমরা খুব সমস্যসার মধ্যে আছি।

 

 

এই ক্ষতিকারক স্প্রে আমাদের ফুসফুসে ঢুকে আমাদের শরীরের ভিতর নানা রকম রোগ সৃষ্টি করছে। যার কারনে প্রতিনিয়ত এই পথ দিয়ে যেতে আমাদের কঠিন বিড়ম্বনায় পরতে হচ্ছে। এই স্প্রের গন্ধ এতটাই প্রকট যে মাস্ক ব্যবহার করলেও কোন লাভ নাই। একাদশ শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মোঃ রাসেল যুগের চিন্তাকে বলেন, আমি প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে কলেজে যাই। জুতার এই স্প্রে নাক দিয়ে ঢুকলে আমার মাথা ঘোরা শুরু হয়।

 

 

যার ফলে কলেজে গিয়ে ঠিক মতো ক্লাস করতে পারি না। মাস্ক পরলেও মাথা ঘোরে। এক পর্যায়ে প্রচন্ড মাথা ব্যাথা শুরু হয়। এ বিষয়ে যুগের চিন্তার সাথে কথা বলেন ডাঃ মমিনুল হক। তিনি জানান, জুতা তৈরীতে ব্যবহৃত ক্ষতিকারক বিভিন্ন রংয়ের স্প্রে মানুষ এবং বায়ুর জন্য হুমকির কারণ। এতে হাপনি সহ বিভিন্ন রকমের শ্বাসকষ্ট জনিত রোগ হতে পারে।

 

 

যা আমাদের শরীর এবং স্থাস্থের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর। তিনি আরো জানান, এরকম পরিবেশে দীর্ঘদীন থাকার কারনে মরণ ব্যধি ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। শেষে তিনি বলেন, বায়ু দূষণের কারনে গড়ে সাত বছর করে আয়ু হারাচ্ছেন আমাদের বাংলাদেশিরা। তাই আমাদের সচেতন হতে হবে। বায়ু দূষণ রোধে নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করতে হবে।
 

এই বিভাগের আরো খবর