মঙ্গলবার   ২৬ মে ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪২৭   ০৩ শাওয়াল ১৪৪১

মরার উপর খাঁড়ার ঘা

বাড়িভাড়া পরিশোধের চাপ  

নূরুল ইসলাম

প্রকাশিত: ১৫ মে ২০২০  

দেশে বিরাজমান করোনা পরিস্থিতির কারনে পরিবহন শ্রমিক, সাধারন শ্রমিক খেটে খাওয়া মানুষ ও নিম্ন আয়ের মানুষের উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটছে এসব মানুষের। মানবেতর জীবন যাপনের মাঝে মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দঁড়িয়েছে বাড়িভাড়া পরিশোধের চাপ।

 

যদিও দু’একজন ছাড়া ইতিমধ্যেই অনেক বাড়ির মালিক ভাড়া পরিশোধের জন্য চাপ দিয়েছেন। এতেকরে এসব অভাবী মানুষ ভাড়া পরিশোধ করতে মুশকিলে পরেছেন। 


জানাযায়, লকডাউনের পর থেকেই এসব অভাবী মানুষের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দুইমাস হতে চললো লকডাউন ঘোষনা করা হয়েছে। এতেকরে এসব মানুষের বাড়িভাড়া জমে গেছে। কারো দুইমাস, আবার কারো তিন মাসের বাড়ি ভাড়া জমেছে।

 

লকডাউন শিথিল করা হলেও পরিবহন বন্ধ রয়েছে। মুলত: পরিবহন এর সাথে অনেক শ্রেনীপেশার মানুষের জীবিকা নির্ভর। তাই এই শ্রেনীর মানুষের রোজগার বন্ধ রয়েছে। মুলত: পরিবহন শ্রমিক. ভ্যানচালক, দিনমজুরসহ নিম্ন আয়ের মানুষগুলো বাড়িভাড়া পরিশোধ নিয়ে এই সমস্যায় পরেছেন।


এছাড়া জেলার অনেক মিলকারখানা শ্রমিকরাও এই পরিস্থিতির শিকার। এখনও অনেক মিলকারখানা বন্ধ থাকায় উপার্জনহীন অবস্থায় পড়েছেন এই শ্রমিকরা। ফলে এই পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে বাড়িভাড়া জমে গেছে। একদিকে সংসারের অভাব অন্যদিকে বাড়িভাড়া পরিশোধের চাপ এনিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন তারা। অভিযোগ উঠেছে, বাড়িভাড়া পরিশোধের জন্য ইতিমধ্যেই বাড়ির মালিক চড়াও হচ্ছে ভাড়াটিয়াদের উপর।  


পরিবহন শ্রমিক আমির হোসেন জানান, স্ত্রী ও এক মেয়ে নিয়ে তিন জনের তার সংসার। এক রুমের সাড়ে চার হাজার টাকার বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। লকডাউনের পর থেকেই সে বেকার হয়ে পড়েছেন। জমানো কিছু সঞ্চয় ছিল ঘরে সবাই সেই সঞ্চয় শেষ করে ধারদেনায় জড়িয়ে পড়েছেন।

 

এরই মধ্যে তার দুই মাসের বাড়িভাড়া জমে গেছে। ভাড়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন বাড়িওয়ালা। ভাড়া দ্রুত পরিশোধ করতে না পারলে বাড়ি ছাড়ারও হুমকি দিচ্ছেন। কিন্তু লকডাউন এর কারনে পরিবহন এখনও বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় ভাড়া পরিশোধ করতে মুশকিলে পড়েছেন এই পরিবহন শ্রমিক। 


অন্যদিকে, বাড়িওয়ালাদের দাবী বাড়িভাড়াই তাদের একমাত্র উপার্জনের পথ। এ থেকেই বিদ্যুৎবিল, গ্যাসবিল, পানির বিল পরিশোধ করতে হয়। তারপর এখান থেকেই সংসার চলে। ছেলে মেয়েদের পড়ার খরচ স্কুল কলেজের মাষ্টারের বেতন দিতে হয়। এভাবে দুইতিন মাসের ভাড়া আটকে গেলে আমার চলবো কি করে। এটা ভাড়াটিয়াদের বুঝতে হবে।

 

তাই চলমান করোনা পরিস্থিতিতে ভাড়াটিয়ারা অনাহারে অর্ধাহারে থাকলেও বাড়িভাড়া পরিশোধ করতেই হবে। বাড়িওয়ালাদের এমন মনোভাবে মানবেতর জীবন যাপনে ভাড়াটিয়াদের মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দঁড়িয়েছে বাড়িভাড়া। 

এই বিভাগের আরো খবর