সোমবার   ১৪ অক্টোবর ২০১৯   আশ্বিন ২৯ ১৪২৬   ১৪ সফর ১৪৪১

বলিউডে রবীন্দ্রনাথ

প্রকাশিত: ৭ আগস্ট ২০১৮  

বিনোদন ডেস্ক (যুগের চিন্তা ২৪) : মজার ব্যাপার হলো, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প নিয়ে সিনেমা প্রথমে বলিউডেই নির্মাণ হয়। ‘বলিদান’ গল্প নিয়ে ১৯২৭ সালে নির্মিত হয় ‘বলিদান’। সিনেমাটি ছিল নির্বাক, সেটাই স্বাভাবিক। নাভাল গান্ধীর পরিচালনায় এই সিনেমাটি শুধুমাত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্য নয়। ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে।

 

পরবর্তীতে ভাষার কারণে হোক কিংবা বলিউডের মসলা সিনেমার প্রতাপে হোক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প নিয়ে হাতে গোনা কয়েকটি সিনেমা হয়েছে সেখানে। রবীন্দ্র সংগীতও ব্যবহার করা হয় বলিউডের সিনেমার গানে।

 

মিলান (১৯৪৬)

১৯২৭ সালের পরে ১৯৪৬। প্রায় বিশ বছর পরে নৌকাডুবি উপন্যাস অবলম্বনে নিতিন বোস নির্মাণ করেন ‘মিলান’ ছবিটি। ছবিতে অভিনয় করেন দিলিপ কুমার, পাহাড়ি স্যান্যাল, মিরা মিশ্রা। সিনেমাটি সে সময় ২৫ লাখ রুপি আয় করে। 

 

কাবুলিওয়ালা (১৯৬১)

১৯৪৬ সালে পরে ১৯৬১। ১৫ বছর পরে নির্মাণ হয় জনপ্রিয় গল্প ‘কাবুলিওয়ালা’ থেকে একই নামে সিনেমা। অবশ্য এর আগেই ১৯৫৭ সালে বাংলা ভাষায় নির্মিত হয়েছিল। ছবিতে মিনি চরিত্রে অভিনয় করেছিল ঠাকুরবাড়ির মেয়ে শর্মিলা ঠাকুর। হেমেন গুপ্তের পরিচালনায় এবং বিমল রায়ের প্রযোজনায় সিনেমার অন্যতম সেরা আকর্ষণ ছিলেন বলরাজ সাহনি। 

 

উপহার (১৯৭১)

‘কাবুলিওয়ালা’র দশ বছর ১৯৭১ সালে নির্মাণ হয় উপহার। ছোট গল্প ‘সমাপ্তি’ এর উপর ভিত্তি করে সিনেমাটি নির্মাণ হয়। ছবিটিতে মৃন্ময়ী চরিত্রে অভিনয় করেন জয়া ভাদুড়ি। বিদেশী ভাষার চলচিত্র হিসেবে ৪৫তম অস্কারের জন্য ভারত থেকে এই ছবিটিকে নির্বাচন করা হয়। ছবিটির পরিচালক ছিলেন বিখ্যাত ফিল্ম ডিরেক্টর সুধেন্দু রায়। মজার ব্যাপারে হচ্ছে, সুধেন্দু বাংলাদেশের মানুষ!তাঁর জন্ম পাবনাতে।

 

লেকিন (১৯৯১)

‘লেকিন’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যতগুলো গল্প নিয়ে বলিউডে সিনেমা নির্মাণ হয়েছে। সবথেকে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ছোট গল্প ‘ক্ষুধিত পাষাণ’ এর উপর ভিত্তি করে নির্মিত হয় ‘লেকিন’ ছবিটি। ছবিতে মূল চরিত্রে অভিনয় করেন বিনোদ খান্না এবং ডিম্পল কাপাডিয়া।

 

ইগো- দি ডিফারস (২০১০)

২০১০ সালে নির্মিত হয় ইগো- দি ডিফারস ছবিটি। ছবির কাহিনী ছিল ছোট গল্প ‘পোস্টমাস্টার’ র উপর ভিত্তি করে। ছবিটির পরিচালক এবং চিত্রনাট্যকার ছিলেন এআর সরকার।

 

এছাড়াও ১৯৯৭ সালে কুমার সাহানি ‘চার অধ্যায়’ উপন্যাস থেকে একই নামে হিন্দী সিনেমা নির্মাণ হয়। ‘চার অধ্যায়’ উপন্যাসটি প্রকাশ পায় ১০৩৪ সালে। 

ঋতুপর্ণ ঘোষের পরিচালিত ‘চোখের বালি (২০০৩)’ এবং ‘নৌকাডুবি (২০১১)’ সিনেমা দুটি পরবর্তীতে হিন্দী ভাষাতেও অনূদিত হয়। নৌকাডুবির হিন্দি ভার্সনের নাম হয় ‘কাশমাকাশ’।

 

বলিউডে রবীন্দ্র সংগীতের ধারাকে জনপ্রিয় করে তোলেন কিংবদন্তী সুরকার শচীন দেব বর্মণ। পরবর্তীতে বাপ্পি লাহিড়ী সহ অন্যান্য সুরকাররা সেই পথে আগান। এছাড়া বলিউডের রাজেশ রোশান, হেমন্ত কুমার, পঙ্কজ মল্লিকরাও তাঁদের সিনেমায় রবীন্দ্র সংগীত ব্যবহার করেন।