বৃহস্পতিবার   ০২ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ১৯ ১৪২৬   ০৮ শা'বান ১৪৪১

বন্দর ঘাটে অবৈধ দোকান ও স্ট্যান্ড, মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদাবাজি

প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

যুগের চিন্তা রিপোর্ট : বন্দর ১নং খেয়াঘাট টার্মিনালের ভিতরে রাস্তার দু’পাশে বেশ কয়েকটি জায়গায় বসানো হয়েছে অবৈধ দোকানের পসরা। অন্যদিকে টার্মিনাল থেকে পূর্বদিকে বন্দর ঘাট রোডের মুখে সড়কের অধিকাংশ জায়গা দখল গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ সিএনজি ও অটোরিক্সার স্ট্যান্ড। অবৈধ এসব দোকান ও স্ট্যান্ড থেকে বন্দর থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খাঁন মাসুদসহ একটি মহলের বিরুদ্ধে প্রতিদিন মোটা অংকের চাঁদা তোলার অভিযোগ রয়েছে। তবে এখানে স্থানীয় প্রশাসনের নজর না থাকাতে প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাচ্ছে হাজারো লোকজন।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বন্দর টার্মিনালের ভিতরের ছোট্ট রাস্তার দু’পাশের বসানো হয়েছে শ-খানেক ভাসমান দোকান। এতে মূল রাস্তার জায়গা সংকুচিত হয়ে যাওয়াতে হাঁটাচলায় চরম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এ সময় অভিযোগ করে অনেকেই জানান, বহুদিন ধরেই টার্মিনালের ভিতরে দোকান বসানোর বিষয়টি সকলের ভোগান্তির কারণ হলেও আজ পর্যন্ত কেউ এটি সমাধান করতে আসেনি। কেননা এর পেছনে রয়েছে বিশাল রকমের চাঁদাবাজি। চাঁদাবাজরাই এসব অবৈধ দোকান ও স্ট্যান্ডের ত্রাণকর্তা।


স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি সূত্র জানিয়েছে, বন্দর ঘাটে অস্থায়ী দোকান ও বাজার বসিয়ে সেখান থেকে দৈনিক ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করা হয়। বৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড থাকার পরও পাশেই এখানে ৪০ থেকে ৬০ টির মতো সিএনজি নিয়ে অবৈধ স্ট্যান্ড গড়ে তোলে প্রতিদিন প্রত্যেক সিএনজি থেকে ৩০-৪০ টাকা করে চাঁদা ওঠানো হয়। ছাত্রলীগ নেতা খান মাসুদের পক্ষে মাসুম ও ডালিম নামে দুই জন প্রতিদিন নিয়মকরে চাঁদার টাকা তোলে। মাসে সবমিলিয়ে ১০ লাখ টাকার মতো চাঁদা তোলে খান মাসুদের লোকজন। প্রশাসনের লোকজনকে তারা ম্যানেজ করে চলে ভেবে স্থানীয় কেউ এসব অবৈধ কাজে বাঁধা দিতে আসেনা। 


বন্দর ঘাটের সামনে মোহাম্মদ তপন নামে এক ব্যক্তি জানান, বন্দর টার্মিনালের ভিতরে অনেকদিন ধরেই ছোট ছোট দোকান বসিয়ে অবৈধভাবে ব্যবসা করছে দোকানীরা। এতে আমাদের চলাচল করতে অনেক সমস্যা হয়। বিশেষ করে বৃদ্ধ এবং নারীদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। কিন্তু এখনো এই সমস্যার সমাধান হচ্ছেনা। তাই প্রশাসনের কাছে অনুরোধ দ্রুত যেন এই অবৈধ দোকান এখান থেকে সরানো হয়।


এছাড়া ঘাটের আশপাশের এলাকার ঘুরে দেখা গেছে, বন্দর ফায়ার সার্ভিসের সামনে ঘাট রোডের মুখে গড়ে ওঠা সিএনজি ও আটো রিক্সার স্ট্যান্ডের জন্য একটু পরপরই পুরো সড়ক জুড়ে যানজট তৈরি হচ্ছে। আর সেই যানজট অতিক্রম করে ঘাটের টার্মিনাল পর্যন্ত আসতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে সাধারণ মানুষ। এখান থেকেও খান মাসুদের লোকজন চাঁদা তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। 


এবিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন্দরের এক দোকানদার বলেন, আসলে এই স্ট্যান্ড অবৈধ এটা সকলেই জানে ।কিন্তু এটা ছাত্রলীগ নেতা খাঁন মাসুদের অধীনে থাকাতে সমস্যা হলেও কেউ এই বিষয়ে কথা বলতে পারেনা। এমনকি প্রশাসনেরও নজর নেই।


আমির হোসেইন ও নজরুল মিয়া নামে দুই স্থানীয় যুবক জানান, এসব দোকান থেকে চাঁদা তোলা হয় খান মাসুদের নামে। খান মাসুদকে অস্ত্র, গুলি, ফেনসিডিল, মদসহ ২০১৭ সালে একবার গ্রেপ্তার করেছিলো র‌্যাব-১১। সে এই এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। পুলিশও তাকে মনে হয় ভয় পায়। এর কারণ পুলিশের ওপর হামলা ও এক উপপরিদর্শকের (এসআই) কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ২০১৬ সালে খান মাসুদকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। ওই সময় তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আটটি গুলি ও ১৭টি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। কিন্তু এসব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও দেদারচে সে ঘাটে চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে। দেখার কেউ নেই। ঘাটে তার ভয়ে এসব নীরবে সহ্য করছে সকলে। 


মইনুল ইসলাম নামে একজন ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, আমি রিক্সা নিয়ে সোনাকান্দা থেকে বন্দর ঘাটের উদ্দ্যেশে বের হয়েছিলাম তবে ঘাট পর্যন্ত আসতে পারি নি। সিএনজি এবং অটো রিক্সার স্ট্যান্ডের কারণে থামতে হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের গেইটের সামনে। 


চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে খান মাসুদের মুঠোফোনে কয়েকদফায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভবপর হয়নি।

 
তবে অবৈধ স্ট্যান্ড ও চাঁদাবাজির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখার কথা জানিয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে প্রায় সময় আমাদের পুলিশের সদস্যরা গিয়ে অবৈধ স্ট্যান্ড এবং দোকানগুলো উচ্ছেদ করে। তবে একদিকে উচ্ছেদ করে আসলে অন্যদিকে তারা বসে পরে। কিন্তু এখন যেহেতু এটি সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়েছে তাই দ্রুতই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া কেউ যদি এখান থেকে অবৈধভাবে টাকা তুলে থাকে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।’  

এই বিভাগের আরো খবর