বুধবার   ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪   ফাল্গুন ৮ ১৪৩০

বন্দর খেয়াঘাটে অর্ধ কোটি টাকা চাঁদাবাজি

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২  


# নাসিকের টোকেন দিয়েই চক্রটি এই চাঁদাবাজি করে

# যুবলীগ নেতা খান মাসুদ, রিপন, ডিউক ও হিমেলের নিয়ন্ত্রণ


বন্দর ১নং সেন্টার খেয়াঘাটে অবৈধ ইজিবাইক, মিশুক ও অটো রিকশা থেকে চলছেন রমরমা চাঁদাবাজি। ক্ষমতাশীল দলের নাম বিক্রি করে বছরের পর বছর চলছে এ চাঁদাবাজি। নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলার ১নং সেন্টার খেয়া ঘাটের নদীর পূর্ব পাড়ে ইজারার নামে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা অবৈধ ইজিবাইক থেকে চাঁদাবাজি করছেন স্থায়ী একটি চাঁদাবাজ সেন্ডিকেট।

 

 

 

জানা যায়, বন্দর ১নং সেন্টার খেয়াঘাটের সিএনজি স্ট্যান্ডটি প্রতি বছর বাংলা মাসের প্রহেলা বৈশাখ থেকে চৈত্র মাস পযর্ন্ত এক বছরের ইজারা দেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন। তারই মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রস্তাবিত সিডিউলের মধ্যে লেখা থাকে বন্দর ১নং খেয়াঘাটের সিএনজি ও বেবি স্ট্যান্ডের ইজারা।

 

 

কিন্তু বেবী ও সিএনজি স্ট্যান্ড এর নামে ইজারা এনে অটো স্ট্যান্ড থেকে বছরে অর্ধ কোটি টাকা চাঁদাবাজি করেন বন্দরের একটি প্রভাবশালী চাঁদাবাজ সেন্ডিকেট। সরেজমিনে দেখা যায়, বন্দর ১নং খেয়াঘাটে ইজিবাইক, মিশুক ও অটো রিকশা থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন লেখা ২০ টাকা টোকেন এর মাধ্যমে চাঁদা আদায় করছেন কিছু চাঁদাবাজ।

 

 

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন থেকে এ বছর সিএনজি স্ট্যান্ডটি ১২ লক্ষ টাকার মাধ্যমে ইজারা পান যুবলীগ নেতা হিমেল খান। জানা যায়, হিমেল খান নিজেকে যুবলীগ নেতা পরিচয়ে ও মেয়র আইভীর নাম বিক্রি করে বিভিন্ন জায়গায় সেন্ডিকেট এর মাধ্যমে ট্রেন্ডারবাজি করে থাকেন।

 

 

এক সময় হিমেল খানকে বন্দর এলাকায় কেউ না চিনলেও বর্তমানে তাকে মেয়র আইভীর লোক বলে সকলেই চেনেন। বন্দর এলাকায় হিমেল খান এর রয়েছে একটি বিচ্চু বাহিনীর গ্যাং। তিনি মেয়র আইভীর ছবি ব্যবহার করে বন্দরে বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় ব্যানার ফেস্টুন লাগান।

 

 

আর সাধারণ মানুষকে বুঝান তিনি অনেক বড় নেতা। হিমেল খানের মূল পেশা হচ্ছে ট্রেন্ডারবাজি করা। গরুর হাটের ইজারার ট্রেন্ডার থেকে শুরু করে তিনি বিভিন্ন জায়গার ট্রেন্ডারে ভাগ বসান। আরও জানা যায়, হিমেল খান নিজের নামে ইজারা এনেও এই সিএনজি স্ট্যান্ড এর ইজারা মিজানুর রহমান রিপন এর নামে দিয়ে দেন।

 

 

বর্তমানে এই স্ট্যান্ডটি মাহবুব হাসান ডিউক পরিচালনা করছেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন লেখা ছাপানো টোকেনে ইজারাদার মিজানুর রহমান রিপন ও পক্ষে মাহবুব হাসান ডিউক এর নাম দেওয়া আছে। এ বিষয়ে একজন ইজিবাইক চালক জানান, আমরা প্রতিদিন ২০টাকা করে চাঁদা দেই।

 

 

আমাদের এখানে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ অটো চলাচল করে। বন্দর ঘাটের সামনে আসলেই তাদের ২০ টাকা করে দিতে হয়। তারা স্থায়ী লোক তাদের টাকা না দিলে এখানে গাড়ি রাখতে দেয়না এবং মারধর করে।

 

 

এ বিষয়ে একজন মিশুক চালক বলেন এখানে ৩০০ থেকে ৪০০ মিশুক গাড়ি চলে। টোকেন এন মাধ্যমে ২০ টাকা করে নিয়ে যায়। বন্দর বাজারের সামনের থেকে এই টাকা তুলে। তিনি আরও জানান, সড়কে গাড়ি চালাতে হলে তাদের ২০ টাকা করে দিতে হয়, টাকা না দিলে মারধর করে।  অনেক সময় চাকা ফুটা করে দেয়।

 

 

এ বিষয়ে খেয়া ঘাট এলাকার স্থায়ী কয়েকজন জানান, ক্ষমতার ব্যবহার করে এখানে একটি সেন্ডিকেট চাঁদাবাজি করেন। আমরা জানি তারা সিএনজি স্ট্যান্ড সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেন্ডার আনেন কিন্তু সিএনজি স্ট্যান্ডের ট্রেন্ডার এনে তারা ব্যাটারী চালিত অটো রিকশা ও মিশুক থেকে ২০ টাকা করে তুলেন।

 

 

এই স্ট্যান্ডে রয়েছে বিশাল এক সেন্ডিকেট। যুবলীগ নেতা খান মাসুদ, রিপন, ডিউক, হিমেল সহ আরও কয়েকজন মিলে এই অবৈধ স্ট্যান্ডগুলো থেকে তাদের লোক দিয়ে চাঁদা তুলেন। সূত্রে জানা যায়, বন্দর ১নং খেয়া ঘাটে ২শত থেকে ৩শত ব্যাটারী চালিত অটো চলে।

 

 

২০ টাকা করে ৩শত অটো থেকে প্রতিদিন ৬হাজার টাকা চাঁদা তুলা হয়। যার বছরে ২০ লক্ষ টাকা চাঁদা তোলা হয় এবং মিশুক রয়েছে ৪শতর উপরে। ২০ টাকা করে মিশুক থেকে প্রতিদিন ৮ হাজার টাকা চাঁদা উঠানো হয়। বছরে মিশুক থেকে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা চাঁদা তুলা হয়।

 

 

তাছাড়াও বৈধ ইজারার সিএনজির স্ট্যান্ড থেকে বছরের ২০ লক্ষ টাকা চাঁদা তোলা হয়। বছরে এই অর্ধ কোটি টাকা ক্ষমতাশীল চাঁদাবাজদের পকেটে যায়। দিনের বেলায় প্রকাশ্যে নাসিকের টোকেন দিয়ে চাঁদাবাজি করলেও প্রশাসনের কোন ভূমিকা নেই।  এন.এইচ/জেসি

এই বিভাগের আরো খবর