শুক্রবার   ২৪ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ১০ ১৪২৬   ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

বন্দরের আমৈর কান্দাপাড়া সপ্রাবি’র শিক্ষাব্যবস্থায় চরম বিপর্যয় 

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০২০  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : বন্দর উপজেলার ধামগড় ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের আওতাধীন ৭১নং আমৈর কান্দাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট, বিদ্যমান শিক্ষকদের মধ্যে অন্তঃকোন্দল ও ম্যানেজিং কমিটির উদাসীনতার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থায় চরম বিপর্যয় ও নৈরাজ্য বিরাজ করার ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সচেতন অভিভাবকমহল। 

 

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে ও বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, ১৯৯৩ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে এবং ২০০৯ সালে রেজিস্টার স্কুল হিসেবে অনুমোদন পায়। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে সমগ্র দেশব্যাপী ২৬ হাজার স্কুলকে জাতীয়করণ করার সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী উক্ত বছরেই স্কুলটি জাতীয়করণ করা হয়।

 

নিয়ম অনুযায়ী ১জন প্রধান শিক্ষক, ৪জন সহকারি শিক্ষক, ১জন প্রাক প্রাথমিক শিক্ষক ও ১জন দপ্তরী থাকার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি প্রধান শিক্ষক ও দপ্তরীবিহীন চলছে। 

 

বর্তমানে বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক ৩জন থাকলেও সরকারি বিভিন্ন কাজে বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া ও যোগাযোগ রক্ষা করার কারণে প্রায়ই সমগ্র স্কুলটিকে ১ বা ২ জন শিক্ষক পরিচালনা করে থাকেন। ফলে ১জন শিক্ষক ১টি ক্লাসে পড়াতে গেলে অবশিষ্ট ২টি শ্রেণির শিক্ষার্থীকে প্রায়ই বসে থাকতে হয়। 

 

এদিকে সহকারি শিক্ষক মনির হোসেন ও নাসির উদ্দিন উভয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ পাবার জন্য নিজেদের মধ্যে ঝগড়া ও অন্তঃকোন্দলের সৃষ্টি করে রাগান্বিত হয়ে দুপুর বেলায় বিদ্যালয় থেকে চলে যাবার প্রবণতা আছে বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

 

এতে করে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্কুলে উপস্থিত থাকলেও প্রয়োজনীয় ক্লাস পাচ্ছেনা বিধায় তাদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং বছরের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের সিলেবাস পরিপূর্ণ হচ্ছেনা। ফলে অনেক সচেতন অভিভাবক তাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অত্র স্কুলের অদূরে প্রতিষ্ঠিত চাইল্ড আইডিয়াল কিন্ডারগার্টেনে শিশুদের ভর্তি করছেন। 

 

দিনের পর দিন অত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে এবং শিক্ষাব্যবস্থায় চরম বিশৃঙ্খলা তৈরী হচ্ছে। স্কুলের প্রয়োজনে ও সরকারি নানান কাজে সম্পৃক্ত থাকায় কিন্ডারগার্টেনের মত শিক্ষার্থীর ভর্তি বাড়াতে নতুন শিক্ষার্থীদের বাড়িতে ভর্তি কার্যক্রমে শিক্ষকরা যাবার সময় পাচ্ছেন না বলে জানান অত্র স্কুলের একজন সহকারি শিক্ষক। 

 

শিক্ষাব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম সহ নানাবিধ কারণে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাটি স্থানীয়দের মনে একটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং বিপুল অংকের অর্থ খরচ করে একটি সুন্দর অবকাঠামো নির্মাণ করেও সরকার অত্র অঞ্চলে প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তারে তার কাঙ্খিত উদ্দেশ্য অর্জন করতে পারছেনা বলে স্থানীয়রা মনে করেন। 

 

এ বিষয়ে অত্র স্কুলের সহকারি শিক্ষক মনির হোসেন জানান, স্কুলটি প্রথমে কমিউনিটি স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়, ঠিক তখন থেকেই আমি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছি। কিন্তু প্রধান শিক্ষক হিসেবে সরকারি কোন সুযোগ-সুবিধা ও স্বীকৃতি না পাওয়ায় ২০১৭ সালে আমি একটি মামলা করি, যা এখনো বিচারাধীন। অন্য শিক্ষকদের সাথে আন্তঃকোন্দলের অভিযোগটি সত্যি নয় বলে তিনি দাবি করেন।  

 

অত্র স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান জানান, শিক্ষক সংকট আছে বিষয়টি সবার জানা। আমরা উপজেলায় শিক্ষকের জন্য কয়েকবার যোগাযোগ করেছি। আগামী কিছুদিন পর সরকার নতুন শিক্ষক নিয়োগ দিচ্ছে, তখন আমরা ১জন শিক্ষক পাবো বলে আশ্বাস পেয়েছি। তখন এসমস্যা কমে যাবে বলে আমাদের প্রত্যাশা। আর আমরা স্কুলের বিষয়ে উদাসীন নই, সাধ্যমত শিক্ষার প্রসারে কাজ করে যাচ্ছি’।  

 

এ বিষয়ে বন্দর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সোহাগ হোসেন জানান, প্রধান শিক্ষকের বিষয়ে ১টি মামলা বিচারাধীন আছে, নিস্পত্তির আগে স্কুলটি প্রধান শিক্ষক পাচ্ছেনা। আর ১জন সহকারি শিক্ষক অন্যত্র বদলী হয়ে যাওয়ায় শিক্ষক সংকট সেখানে আছে। সরকারিভাবে শিক্ষক নিয়োগ আগামী কিছুদিন পর হতে যাচ্ছে। তখন অত্র স্কুল ১জন সহকারি শিক্ষক পাবে।     
 

এই বিভাগের আরো খবর