বুধবার   ২১ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৬ ১৪২৬   ১৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

ফেসবুকে সিদ্ধিরগঞ্জের আলোচিত সেই দুই ব্যক্তির ছবি : তোলপাড় 

প্রকাশিত: ১৮ মে ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলের মূর্তিমান আতংক আলোচিত সেই দুই ব্যক্তি ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। 

তাদের একজন হলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের একচ্ছত্র অধিপতি তথা আহবায়ক নাসিক ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ মতিউর রহমান মতি এবং অপরজন হলেন, নাসিক ১০নং ওয়ার্ডের দুধর্ষ ভয়ংকর সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী কাজী আমির। 

সম্প্রতি তাদের একটি অন্তরঙ্গ মুহুর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় সিদ্ধিরগঞ্জে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এনিয়ে সর্বত্রই আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে। আর উভয়ের বিরুদ্ধেই নানাবিধ অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িত থাকার কারণে রয়েছে অসংখ্য মামলা।

অনেকইে আবার মন্তব্য করেন, মূর্তিমান আতংক ভয়ংকর ওই দুই জনের অন্তরঙ্গতায় আবার অশান্ত হয়ে উঠতে  পারে সিদ্ধিরগঞ্জ।  

জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জের টেন্ডারবাজি, শীতলক্ষ্যা নদীতে বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ, মেঘনা আর পদ্মা তেলের ডিপো নিয়ন্ত্রণ, আদমজী জুট মিলের ইপিজেডসহ ৬নং ওয়ার্ডে অবস্থিত বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে পুরো এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করছেন মতি। 

তার বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় রয়েছে ২৫টিরও বেশি মামলা। বিভিন্ন সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করতে গড়ে তুলেছেন ২০ থেকে ২৫ জনের ক্যাডার বাহিনী। তারাই মতির নির্দেশ পালন করে থাকে। মতির ভয়ে ভুক্তভোগীরা দূরের কথা, খোদ থানা আওয়ামী লীগের কোনো নেতাই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না। 

অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় এমপির প্রশ্রয়ে তিনি কয়েকটি সেক্টর এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে জজ মিয়ার স্বাভাবিক মৃত্যু হলেও সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হন আতাউর রহমান। তার ছোট ভাই মাহবুবই হচ্ছেন মতিউর রহমান মতির অন্যতম সহযোগী। 

মতির হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন মাহবুব। এ ছাড়া রয়েছে ভাগ্নে মামুন, মাইগ্যা কাদির, জসিম, শামীম, মানিক, রাব্বি, মাহবুব, সেন্টু, হাবু, গুজা লিটন, সেলিম, ল্যাংড়া রবিউল, মানিক সরকার, আলামিনসহ আরও অনেকে। এদিকে মতিউর রহমান মতির প্রধান অর্থ কালেক্টর মানিক ওরফে মানিক মাস্টার।

সিদ্ধিরগঞ্জে রয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম সরকারি তেলের দুটি ডিপো। শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে রয়েছে মেঘনা এবং পদ্মার ডিপো। দুটি ডিপো থেকে প্রতিদিনই শত শত ট্রাক তেল নিয়ে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। 

ওইসব তেল সরবরাহকারী ট্যাংক লরি মালিক সমিতির সভাপতি ছিলেন রাশেদ মহাজন ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মন্ডল। সম্প্রতি মতি পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ট্যাঙ্ক লরি মালিক সমিতির নিয়ন্ত্রণ।  ওই সমিতির সভাপতি হিসেবে মতিউর রহমান এবং তারই সহযোগী আমানুল হক মন্ডল সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এখন দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের নেতৃত্বে এ দুটি ডিপোকে ঘিরে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী চোরাই তেল সিন্ডিকেট।

সম্প্রতি ৬নং ওয়ার্ডে একটি ভুমি বিরোধের জের ধরে মতির উপর হামলার ঘটনা ঘটেছিলো। তবে এ ঘটনার প্রতিপক্ষরা জানায় তারা নয় মতি জমি দখলদার সরিয়ে দিতে নিজেই মহিলাদের মারধর করেছিলো। আর তা প্রতিহত করতে গিয়ে মতি আহত হয়েছেন। 

অপরদিকে, সিদ্ধিরগঞ্জ আরামবাগ এলাকার এক সময়ের কলা বিক্রেতার ছেলে আমির হোসেন ওরফে আমির অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজী ও মাদক বিক্রিসহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে রাতারাতি কোটিপতি বনে যায় এবং তার কাজে যেন কেউ বাধা হয়ে না দাড়াঁতে পারে সেজন্য নিজেকে ছাত্রলীগের নেতা পরিচয় দিয়ে প্রকাশ্যেই বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। 

প্রশাসনের দৃষ্টি এড়াতে আরামবাগ মোল্লা বাড়ি সংলগ্ন যে বাড়িতে আমির বর্তমানে বসবাস করছে সে বাড়ির উপরে কয়েকটি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসি) স্থাপন করেছেন। 

এছাড়াও বিভিন্ন অপরাধ কর্ম করে অবৈধ টাকা উপার্জন করে বর্তমানে নিজে একটি বিলাসবহুল ৩ তলা বিল্ডিং নির্মান করেছেন যেখানে ভাড়াটিয়া হিসেবে রয়েছেন ফতুল্লা থানাধীন কুতুবপুর লামাপাড়া এলাকার একাধিক হত্যা, ধর্ষণ, অপহরন, অস্ত্রসহ ১৭ মামলার আসামি চিহিৃত মাদক স¤্রাট আবদুর রশিদ মিথুন।

আমির সে আলোচিত ও চিহ্নিত মাদক স¤্রাট মিথুনকে তার বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে ফ্লাট ভাড়া দিয়ে তার মাধ্যমেই বিভিন্ন স্থান থেকে ফেন্সিডিল ও ইয়াবা সংগ্রহ করে তা প্রকাশ্যে বিক্রি করে এলাকার যুব সমাজকে ধ্বংসের মুখে ধাবিত করছে। 

শুধু তাই নয় নবনির্মিত নিজ বিল্ডিংয়ের নীচতলায় আমির শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন নেতাদেরকে নিয়ে প্রতিদিনই মাদকের জলসাঘর বানায় এবং সে ফ্লাটের চাবিটি কাজি আমিরের কাছে রক্ষিত রয়েছে বলে বিশ্বস্তসুত্রে জানা যায়।

এছাড়াও প্রায় বছর খানেক পুর্বে লামাপাড়ার আবদুল রশিদ মিথুন মাদকসহ তার ব্যবহৃত যে গাড়িটি শিবুমার্কেট এলাকা থেকে র‌্যাব-১১ আটক করেছিলো সেই গাড়িটি দিয়েই আমির বর্তমানে বিভিন্ন অপকর্ম ও মাদকদ্রব্য আনায়ন করছে বলে জানান স্থানীয়রা।
 

এই বিভাগের আরো খবর