শনিবার   ২৪ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৯ ১৪২৬   ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

ফুটপাতে হকার সমাচার

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : সম্প্রতি আবারো নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে হকার বসাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) মেয়র ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান আবারো বিপরীতমুখী অবস্থান  নিয়েছেন। তবে এবার মেয়র আইভী ইতিমধ্যেই নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রথম মন্ত্রী (বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী) গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতিক),  পুলিশ সুপার, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের এমপি নজরুল ইসলাম বাবু এবং নারায়ণগঞ্জবাসীর সমর্থন পেয়েছেন। সদ্য যোগ দেয়া জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিনও একটি অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপারকে সমর্থন জানিয়েছেন।  এই হকার ইস্যুতে ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি মেয়র আইভীর উপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে মেয়র আইভী, সাংবাদিকসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। এর একদিন আগে চাষাঢ়া একটি ট্রাকে অস্থায়ী মঞ্চে শামীম ওসমান  ‘১৬ জানুয়ারি বিকেল ৪টা থেকে হকার বসবে এটা শামীম ওসমানের নির্দেশ’ এমন বক্তব্য দেন। হকার ইস্যুতে ১৬ জানুয়ারি হামলার ঘটনার পর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের মৌন ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে এবার জেলা পুলিশের দৃঢ় অবস্থানের কারণে হকারদের গতবারের মতো সরাসরি সমর্থন জানাননি শামীম ওসমান। হকারদের বিষয়ে নিজের অবস্থান ইতিমধ্যেই পরিস্কার করেছেন নাসিক মেয়র আইভী ও পুলিশ প্রশাসন।  

 

ফুটপাত দখল করে হকার বসা নিষেধাজ্ঞা পুলিশের : একাদশ জাতীয় নির্বাচনের মাত্র কদিন আগে পুলিশ সুপার হিসেবে নারায়ণগঞ্জে যোগ দিয়ে এসপি হারুন অর রশীদ দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন যে তিনি নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্যই কাজ করবেন। যেই কথা সেই কাজ। নগরবাসীর বৃহত্তর স্বার্থে তিনি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর ফুটপাত দখলমুক্ত করার ঘোষণা দেন। ফুটপাত দখলে কোন পুলিশও যদি জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন। নগরীর সড়কগুলোতে নিজে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে আপ্রাণ চেষ্টায় ১৫ জুন থেকে বঙ্গবন্ধু সড়ক ও নগরীর ২নং রেলগেট থেকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পর্যন্ত ফুটপাতগুলো দখলদারমুক্ত করতে সমর্থ্য হন। নগরবাসী ফাঁকা ফুটপাত পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন। বেশিরভাগ হকাররাও বুঝতে পারেন মূলত ফুটপাত দখল করার কারণেই নগরীতে যানজট ছড়িয়ে পড়ে, ছিনতাইকারী, পকেটমারের উপদ্রব বাড়ে। এছাড়া পুরো নগরে একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। যার দরুণ হকাররা পুলিশ সুপারের এসব গৃহিত কার্যক্রম শান্তির্পূণভাবে মেনে নিয়েছিলেন। 

 

সিপিবি নেতা হাফিজুল ফের খলনায়কের ভূমিকা  :  প্রায় ২৭ দিন পর অদৃশ্য কোথাকার ইঙ্গিত পেয়ে হকারদের সাথে নিয়ে ঘোলা পানিতে আবারো মাছ শিকারে নামেন সিপিবি নেতা হাফিজুল ইসলাম, হকার্স লীগ নেতা রহিম মুন্সী এবং আসাদ। এরআগের সপ্তাহে শামীম ওসমানের সাথে দেখা করার কথা বলে হকারদের জড়ো হতে বলেছিলেন শহীদ মিনারে। কিন্তু এমপি শামীম ওসমানও জনগণের স্বার্থ বিবেচনা করে হকারদের সাথে দেখা করেননি। ২০১৮ সালের প্রেক্ষাপট তৈরির নাটের গুরু হিসেবেও মানা হয় হাফিজ, রহিম ও আসাদকে। এরআগেও পানি ঘোলা করে জেলা প্রশাসকের (রাব্বী মিয়া) কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিলো তারা তিনজন। সেখানে হকারদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তারা দিতে পারেনি বলে জেলা প্রশাসক তা ফিরিয়ে দেন। নতুন জেলা প্রশাসকের (জসিম উদ্দিন) কাছেও আগের মতোই বঙ্গবন্ধু সড়কে হকারদের বসতে দেয়ার দাবি নিয়ে ১১ জুলাই স্মারকলিপি দেন। ওইদিন তাদের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়। সমাবেশ শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে তারা একটি স্মারকলিপি জমা দেয়। সমাবেশ চলাকালে ও স্মারক লিপি জমা দিতে লিংক রোড হয়ে যাবার সময় অনেকেই এসব আয়োজনের নাটের গুরু হিসেবে হাফিজুল ইসলামের দিকেই আঙ্গুল তোলেন বিশিষ্টজনেরা। জমা দেয়া স্মারকলিপিতে হকাররা বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সড়কের ফুটপাতে বসার অনুমতি প্রার্থনা করেন।

 

হকার নিয়ে চলতি বছর প্রথম কথা বলেন শামীম ওসমান : ১৩ জুলাই ফতুল্লার নম পার্কে সাবেক ও বর্তমান ডিসিকে সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশনের বাজেট নিয়ে শামীম ওসমান নাসিকের কাউন্সিলদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ ক্লাব থেকে আসার সময় গরীব মানুষ দেখি যাদের বেঁচে থাকার অধিকার নাই। এরা হকার। মানুষের পেটে লাথি মারা আল্লাহ কবুল করবেনা। তিনি বলেন, আমি দেখছি চুপচাপ। যাকে জানানোর দরকার আমি তাকে জানাচ্ছি। যখন করার দরকার করবো। এটা আমি জানি। এটা আঁটকানোর ক্ষমতা কারো নাই। নারায়ণগঞ্জের যানজট এভাবে কমানো যাবেনা। গরীবের পেটে লাথি দিয়ে নয় অন্যভাবে কর্মসংস্থান করুন। আমিও হকাদের বিপক্ষে। আমি যেখান দিয়ে যাই সেখান দিয়েই হকাররা জড়িয়ে ধরে। আমি এই অবস্থা চাইনা। নারায়ণগঞ্জে কিছু বাম দল আছে। আপনারা মেয়রকে গিয়ে বোঝান হকারদের একটা ব্যবস্থা করেন।’

 

হকারদের ফুটপাতে বসতে দেয়ার ব্যাপারে নিজের আপত্তির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন মেয়র আইভী : ১৪ জুলাই নগরভবন প্রাঙ্গণে নাসিকের বাজেট ঘোষণা শেষে জনতার মুখোমুখি অনুষ্ঠানে হকার প্রসঙ্গে কথা বলেন মেয়র আইভী।  তিনি বলেন, আমি যদি রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে পারি। ফুটপাতে জায়গা রাখার জন্য আমি যদি পুলিশের মাইর থেকে আর্মির বাড়িও খেতে পারি তাহলে সাধারণ মানুষ কেন ঐক্যবদ্ধ হতে পারবে না! হকাররা কি নারায়ণগঞ্জের সবার চেয়ে বড় হয়ে গেল! রাস্তায় যদি হকার বসে আরেকবারও যদি আমার সেখানে যেতে হয় তাহলে আমি যাব। তবুও হকার বসবে না মানে বসবে না। এটাই শেষ কথা।

 

বঙ্গবন্ধু সড়ক নিয়ে কেন এত ষড়যন্ত্র হচ্ছে এমন প্রশ্ন রেখে মেয়র আইভী বলেন, ফুটপাত জনগণের চলাচলের জন্য। কোনোভাবেই ফুটপাতে যেন হকার বসতে না পারে। কারণ হকারদের জন্য হকার মার্কেট করে দিয়েছি, অন্যান্য বিভিন্ন রোডেও কিন্তু হকার বসতে দেয়া হচ্ছে। তারপরও কি কারণে বঙ্গবন্ধু রোডে হকার বসতে হবে? শুধু আমি না আমার বাবা আলী আহম্মদ চুনকাও হকার মার্কেট করে দিয়েছিলো থানা পুকুর পাড়ে। সেখানেও হকাররা দোকান বিক্রি করে ফুটপাতে চলে আসছে। এখন কি আমরা তাদের (হকারদের) বসাবো আবার তারা চলে আসবে এভাবে তো চলতে পারে না। কেন বঙ্গবন্ধু নিয়ে এত ষড়যন্ত্র? বঙ্গবন্ধু  রোডে এমন কি আছে? ইতিমধ্যেই দেখলাম তারা ডিসি সাহেবের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে। সেখানে তারা একটি মিথ্যা কথা বলছে আমি নাকি তাদের পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা করিনি। তাহলে সলিমুল্লাহ্ রোডে এত বড় মার্কেট কিভাবে  কার জন্য করে দিলাম? ২০১১ সালে আমি হকার পুনর্বাসন করে  দিয়েছিলাম তখন টানা দু’বছর একটা হকারও ফুটপাতে ছিলো না। তাই প্রশাসনকে বলবো কোনোভাবেই যাতে ফুটপাতে হকার বসতে দেয়া হবে না।

 

হকারস নেতা হয়ে ওঠা বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টি (সিপিবি) নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি হাফিজুল ইসলামের উদ্দেশ্যে করে মেয়র আইভী বলেন, যে বাম নেতা নারায়ণগঞ্জের লাখো মানুষের কথা চিন্তা না করে সে গুঁটিকয়েক হকারের জন্য আজকে বাম নেতা সেজেছেন আমি তাকে ধিক্কার জানাই। আমি উনাকে অত্যন্ত সম্মান ও শ্রদ্ধা করি। যখন তারা যা চেয়েছে আমি তাদের কোনোদিনও না করি নাই। এটা কি ধরণের কাজ হতে পারে! গুঁটিকয়েক হকারদের জন্য সে মাঠে নেমেছে তাদের হকার নেতা রহিম মুন্সী। আপনারা জানেন তার নিজের পাঁচতলা বাড়ি আছে। অন্যান্য তথাকথিত হকার নেতাদেরও সম্পর্কে খোঁজ নেয়ার প্রশাসনকে অনুরোধ জানাচ্ছি। মানুষকে জিম্মি করে কেন ফুটপাতে হকারি করবে?

 

মেয়র আইভী বলেন, গত  ১৬ জানুয়ারী (২০১৮ সালে) এই হকারকে কেন্দ্র করে আমার উপরে নারায়ণগঞ্জের ‘বিশিষ্ট সন্ত্রাসী’ প্রকাশ্যে শাহ নিজাম (মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক) ও নিয়াজুল (এমপি শামীম ওসমানের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত) গুলি চালিয়েছিলো তারপরও  কি এ দলের (বামদলের) নেতাদের লজ্জিত হওয়া উচিত না? যেভাবে আমি আপনাদের বিপদ-আপদে পাশে এসে দাঁড়াই আপনাদেরও উচিত না আমার পাশে দাঁড়ানো।
হকারস মার্কেটের বর্তমান অবস্থার খোঁজখবর নেয়ার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, কারা এ হকার মার্কেটকে জমতে দিচ্ছে না, কারা নারায়ণগঞ্জে ফুটপাতে হকার বসিয়ে চাঁদাবাজি করছে এগুলো বের করেন। এই চাঁদাবাজির মধ্যে যেমন আছে দলের লোক তেমনিই অন্যান্য সংস্থার লোকও আছে। আমার আপনার মত প্রভাবশালী লোকও আছে। এই যে কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজি হয় এটা আগে দয়া করে লিখেন প্রশাসনের সুবিধা হবে চাঁদাবাজদের ধরারর জন্য। বঙ্গবন্ধু রোডে এত কি মধু? হকার বসতে হবে কিন্তু আমার জনগণ হাঁটতে পারবে না। কেন আইভীকে রোডে এনে ফেলে মারতে হবে?

মেয়র আইভী বলেন, আমরা হকারস মার্কেটকে বহুতল মার্কেট করতে ইতিমধ্যেই প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। আমরা কি নিশ্চয়তা দিতে পারি যে হর্কাস মার্কেট করার পর হকাররা ফুটপাতে নয় মার্কেটে বসবে। যা যা দরকার করে দিব আমরা কোনো সমস্যা নাই।

 

বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাত হকারমুক্ত ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করে জেলা পুলিশ : ১৪ জুলাই নাসিকের বাজেট অনুষ্ঠানে ‘বর্তমানে চাষাঢ়ার যানজটপূর্ণ বিশৃঙ্খল পরিবেশ আর নেই। নারায়ণগঞ্জ পুলিশ একক প্রচেষ্ঠায় চাষাঢ়াকে যানজট ও মুক্ত করেছে। বঙ্গবন্ধু সড়কের পূর্বের চিত্র কিন্তু এখন আর নেই। এখানে সুস্থ পরিবেশ বিরাজ করছে। বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাত হকারমুক্ত বলে আমরা ঘোষণা করতে পারি।’ বলে উল্লেখ করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম। তিনি আরো বলেন, নগরীর ২নং রেল গেটের হকার উচ্ছেদ হয়েছে। বর্তমান পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ যোগদানের পর থেকে পুলিশ প্রশাসন একক ভাবে আমাদের সীমাবদ্ধতার মধ্যে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। মেয়র মহাদয়ের সাথে আমরা সবসময়ই যোগাযোগ করি। মীরজুমলা সড়ক যেটাতে একসময় সড়কে হকারদের প্রভাবের মধ্যে ছিল। স্কুলের ছাত্রছাত্রীদেরও চলাচলে সমস্যা হতো সেই রাস্তাও পরিষ্কার করে দিয়েছি। নারায়ণগঞ্জের প্রধান যেই হকার সমস্যা সেটা থেকে মনে হয় নগরবাসী পরিত্রাণ পেয়েছে। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (হারুন অর রশিদ) ৭ মাস আগে যোগদান করেছেন। ৭ মাসে ৫ বার তিনি শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। আমরা যে কাজ করছি এটা কিন্তু তারই বহিঃপ্রকাশ। আমরা নারায়ণগঞ্জে কাজ করি আমরাও আপনাদের মতো গর্ববোধ করি।

 

জেলা প্রশাসনের অবস্থান : ‘১৩ জুলাই নমপার্কে জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন বলেন,  আমার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ এই নারায়ণগঞ্জ। শত সংগ্রাম, শত অর্জনের নগরী এই নারায়ণগঞ্জ। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি এটাই কাজে প্রমাণ করে দিতে চাই আমি কোন ব্যাক্তির নই, আমি সকল মানুুষের জন্য, একজন সংসদ সদস্যের সাথে যাওয়ার চেয়ে  একজন মানুষ হিসেবে সবার সাথেই থাকতে চাই। আমরা সেটিকে রাখবো যে কোন মূল্যে। জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন  আরো বলেন, এখনকার যিনি পুলিশ সুপার আছেন তিনি আজ থেকে আমার ৩৫ বছরের পূর্বে পরিচিত এবং চেনাজানা। তিনি (পুলিশ সুপার) এসে অনেক কিছুতেই গতি সঞ্চার করেছেন। আমরা বিশ্বাস করি দুই শক্তিকে এক করে, পুরোনো রাব্বী মিয়া স্যারের যেসব ভালো কাজ ছিলো সেগুলোকে এক করে আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যে নির্দেশনা আছে, এখানে যারা সংগ্রামী মানুষ ও নেতৃবৃন্দ আছে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে একটা সুন্দর নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলবো।’

এরদুদিন আগে ১১ জুলাই হকাররা  ফুটপাতে বসার দাবি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিতে গেলে তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বলেন,  ‘সমস্যাটি যেমন আপনাদের (হকার) আবার এই ফুটপাত দিয়ে আপনাদের বোনেদের, মায়েদের  চলাচলের সমস্যা হয়। ফুটপাত থেকে অবৈধ দখলদারদের সরানোর কাজটি এখানে ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে কেউ কিছু করে নাই। আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীর উপকারের জন্য করেছি । আপনাদের বিষয় নিয়ে পুলিশ সুপারের সাথে বসে কথা বলে দেখবো।’

 

পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী এবং নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী এমপি গোলাম দস্তগীর গাজীর (বীর প্রতিক) সমর্থন পান আইভী : ১৪ জুলাই বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে মেয়র আইভীর ভূয়সী প্রশংসা করেন মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। তিনি নারায়ণগঞ্জের হকারমুক্ত ফুটপাত নিয়েও কথা বলেন। মন্ত্রী অনুষ্ঠানে বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে এক সময় যে যানজট ছিল। ব্যবসায়ীরা যানজটে পড়ার ভয় করতো। বলতো সারাদিনে ফিরে আসা মুশকিল কিন্তু আজকে কত সুন্দরভাবে আসলাম কোন যানজট নেই। হকারমুক্ত খুব সুন্দর একটা শহর। ঢাকাতেও এত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন শহর দেখি নাই। এই ব্যবস্থাপনা তৈরি করতে পুলিশ ও জেলা প্রশাসন সহায়তা করেছে। এতো সুন্দর একটা শহর তৈরী করার জন্য সিটি করপোরেশন পুলিশ ও জেলা প্রশাসনসহ সকল জনগণকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

সুন্দর নগরীর প্রশংসা করে বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ প্রভাবশালী এমপি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু : নাসিকের বাজেট অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ একসময় যানজটের নগরী ছিলো। আজ সেই নারায়ণগঞ্জ সকলের জন্য পরিচ্ছন্ন।  গ্রীন নারায়ণগঞ্জের স্বপ্ন আমরা দেখতে পারিনি কিন্তু মেয়র আইভী সেটি করে দিতে  পেরেছেন। এটাই অনেক বেশি পাওয়া । একজন মেয়র হিসাবে তিনি তা করতে পেরেছেন। যে সুন্দর সুন্দর  রাস্তা-ঘাট  হয়েছে তা ইউরোপকে হার মানিয়েছে। এই সত্যকে কেউ গোপন রাখতে পারবে না। এই সত্যের সাথে কেউ মুনাফিকী বা বেইমানি যেনো না করে তাহলেই আমাদের ভাগ্য পরিবর্তন হবে। এটি আমাদের সহায়ক শক্তি হিসাবে গতিশীল নেতৃত্ব পেতে সাহায্য করবে।’

 

ফুটপাতে হকার বসা বন্ধ করে দেয়ার পর আবারো ফুটপাত দখল নিয়ে নাগরিক সমাজের প্রতিক্রিয়া : ১১ জুলাই ফুটপাতে আবারো হকার বসার দাবি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার পরপরই এনিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন জেলার নাগরিক সমাজ। 

 

নাগরিক কমিটি নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি এড.এবি সিদ্দিকী জানান, ‘আমার মনে হচ্ছে হাফিজ রাজনীতি করার জন্যই এমনটি করছে। গতবছরও সে এমনটাই করেছে। এখানে শুধুমাত্র হকারদের স্বার্থ দেখলে চলবে না এখানে সাধারণ মানুষের সুবিধা অসুবিধা আছে কিনা সেটাও হাফিজকে দেখতে হবে। হকারদের অবশ্যই পূর্নবাসনের পর উচ্ছেদ প্রয়োজন কিন্তু তাই বলে সাধারণ মানুষের সুবিধা-অসুবিধাকে উপেক্ষা করার কোনো অধিকার হাফিজুল ইসলামের নেই। 

 

বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি নিখিল দাস বলেন, ‘হাফিজুর রহমানের সাথে আমরা একমত নই। আমরা অবশ্যই চাই হকার সমস্যার স্থায়ী সমাধান হোক। কিন্তু তাই বলে সাধারণ মানুষের সমস্যা করে নয়।’

 

হকারদের দাবি এবং নেতৃত্বদানকারী নেতাদের অবস্থান অযৌক্তিক মন্তব্যে করে গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা সমন্বয়ক তরিকুল সুজন বলেন, ‘বর্তমানে হকারদের যে অবস্থান তাতে মনে হচ্ছে হকারদের পুর্নবাসন নয় এখানে চাঁদাবাজদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

 

নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, ‘হাফিজুল ইসলামের আজকের কর্মকান্ড গুঁটি কয়েক চাঁদাবাজদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্যই নারায়ণগঞ্জের হাজার হাজার মানুষকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়েছে। গতবারও সে এমন কাজই করেছিলো। এটা সম্পূর্ণ স্ববিরোধী রাজনীতি। এখন সে যদি  রাজনীতির নামে অপরাজনীতি করে এটা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’

 

নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমরা বিগত সময়গুলোতে দেখেছি হাফিজুল ইসলাম হকারদের সাথে নিয়ে বিভিন্নভাবে নারায়ণগঞ্জকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করছে। সে পুলিশ সুপারের অনুপস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জকে আবারো একটা বিব্রতকর পরিস্থিতি ফেলার চেষ্টা করছে। তাদের দাবি যাই হোক ফুটপাত সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য, এটা ব্যবসা করা জন্য নয়।’

 

নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বী বলেন, ‘ চাষাঢ়া থেকে মন্ডলপাড়া পর্যন্ত এ রাস্তায় যাতে কোনোভাবেই হকার বসতে না পারে এ বিষয়টি আমরা  পুলিশ প্রশাসন সিটি করপোরেশকে আগে থেকেই বলে আসছি এবং এখনও একই অবস্থানে আছি। এখানে সকাল বিকেল কিংবা রাতে  কেনো কোন সময়ই হকার বসতে দেয়া যাবে না। আজকে যারা হকারদের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছে এটাতে আমরা সমর্থন করি না এবং আমরা এর প্রতিবাদ জানাই। আমরা মনে করি এটা হকার পুনর্বাসন নয় এটা হচ্ছে হকারদের ব্যবহার করে চাঁদাটাকে পুনরায় বহাল করার একটা প্রক্রিয়া। হাফিজসহ যারা এ হকারদের এ দাবিকে সম্মতি দিয়ে তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে তাদেরও আমরা সমর্থন করি না।’

 

এই বিভাগের আরো খবর