বৃহস্পতিবার   ২৩ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ৯ ১৪২৬   ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

ফতুল্লায় মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত 

প্রকাশিত: ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯  

ফতুল্লা (যুগের চিন্তা ২৪) : শতভাগ শিশু ভর্তি ও ঝরেপড়া রোধ নিশ্চিতকল্পে ফতুল্লায় শত শত মায়ের উপস্থিতিতে মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে ফতুল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।


বিদ্যালয়ের ম্যানেজিংকমিটির সভাপতি ও ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান স্বপনের সভাপতিত্বে অতিথি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিিিথ হিসেবে উপসিস্থত ছিলেন, সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাহিদা বারিক।

 

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি নারায়ণগঞ্জ মঞ্চের আসন ছেড়ে দর্শকদের সাড়িতে গিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দাড়িয়ে বক্তব্য রেখে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলেন।


 
নাহিদা বারিক বারিক বলেন, প্রতিটি মায়ের উচিৎ তার সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিসছে এবং ঠিকমত লেখাপড়া করছে কিনা। সন্তানকে মানুষের মত মানুষ করতে হলে সর্বপ্রথম মায়ের ভূমিকা সঠিকভাবে পালন করতে হবে। সন্তানের প্রতি মায়েদের খেয়াল রাখতে হবে। আর লেখাপড়া ক্ষেত্রে স্কুলের শিক্ষকদের পাশাপাশি মায়েদের সব সময় লক্ষ্য রাখতে হবে। সব মায়েরা যেন তাদের সন্তানদের বাল্যবিবাহ না দেন সেদিকে সচেতন হতে হবে। এসময় উপস্থিত মায়েরা তাদের সন্তানদের বাল্য বিবাহ না দেয়ার হাত তুলে ওয়াদা করেন।
 

অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন, সদর উপজেলার সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাবিনা নার্গিস, স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সালমা সুলতানা, ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য মীর ফয়সাল আলী, সালাউদ্দিন মুক্তি, হাবিবুর রহমান আজাদ, নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরী, মাহাবুবুর রহমান খোকা, ফতুল্লা রিপোটার্স ক্লাবের সভাপতি রনজিৎ মোদক, সাধারণ সম্পাদক কাজি আনিসুর রহমান প্রমুখ।


 
এদিকে ইউএনও নাহিদা বারিক যখন বক্তব্য রাখছেন এবং দর্শক সাড়িতে বসা এক মাকে  কান্না করছে। তখন ইউএনও নাহিদা বারিকের চোখ পড়েন সেই সেই মায়ের দিকে। এসময় ইউএনও বক্তব্য বন্ধ রেখে ঐ মাকে টেনে এনে বুকে জড়িয়ে ধরেন এবং মায়ের কান্নার কারণ জানতে চায়। পরে সেই মা কান্না কন্ঠে তার সমস্যার কথা জানান। 

 

তার দুটি সন্তানের লেখাপড়া করানোর ইচ্ছে থাকা সত্বেও সাধ্য না থাকার কারণে হতাশা হয়ে পড়েন। যার কারনে ইউএনও’র বক্তব্য শুনে কান্না করেন।তখন তিনি সেই মাকে একটি সেলাই মেশিন দেয়াসহ সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। আর তার দুই সন্তান যেন অর্থের অভাবে লেখাপড়া বন্ধ না করেন সেজন্য অনুরোধ করেন এবং সন্তানদের রেখাপড়া করার জন্য সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

 

অনুষ্ঠান শেষে স্কুলের শহিদ মিনার উদ্বোধন করেন ইউএনও নাহিদা বারিক।এসময় ফতুল্লার ৪টি স্কুলের ১৪ জোড়া স্কুল বেঞ্চ বিতরণসহ স্কুলের বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার উদ্বোধন করেন তিনি।

এই বিভাগের আরো খবর