সোমবার   ১৪ অক্টোবর ২০১৯   আশ্বিন ২৯ ১৪২৬   ১৪ সফর ১৪৪১

‘প্রেমকুঞ্জ’  চাষাঢ়া শহীদ মিনার! (ভিডিও)

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০১৮  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪): অনেক কঠোর আন্দোলন সংগ্রামের পর ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৭১’র মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে ১৯৮৫ সালে স্থাপন করা হয় চাষাঢ়া শহীদ মিনার। তারপর থেকে পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ তেত্রিশটি বছর।

কিন্তু  ২০১৮ সালে এসে চাষাঢ়ার এ শহীদ মিনারটি বর্তমানে শুধু শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে নয়, এ স্থানটি এখন পরিচিতি পেয়েছে ভালোবাসার ‘প্রেমকুঞ্জ’ হিসেবে । কথায় আছে প্রেম মানে না কোনো বাধা। তবে শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের আনাগোনা।

 কিন্তু সবনিয়মনীতির বালাইকে তোয়াক্কা না করে বাঁধাহীনভাবেই শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ হয়ে উঠেছে প্রেমিকযুগলদের ভালোবাসার তীর্থস্থান। কখনও শহীদ মিনারের আড়ালে আবার কখনও শহীদ মিনারের বেদিতে বসেই জমে ওঠে বাধাঁহীন নির্লজ্জ ভালোবাসার উন্মুক্ত  নিদর্শন।

শত শত মানুষের ভীড়ে ভালোবাসার মানুষটির কাঁধে পরম নিশ্চিন্তে বসে আছে কলেজ পোশাক পড়া একটি মেয়ে। বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) চাষাঢ়া শহীদ মিনারে বেদিতে ক্যামেরাবন্দি হয়  প্রেমিক যুগলের এমনই এক চিত্র।  

তবে এ ভালোবাসার দৃশ্যটি শহীদ মিনারে অবস্থানরত পুলিশদের চোখ এড়িয়ে গেলেও  এড়ায়নি সমালোচকদের চোখ। তবে এ চিত্র নতুন কিছু নয়। জনবহুল স্থানে প্রায়শই আবেগের বশিভূত হয়ে সকল বাধাভুলে  প্রেমিকযুগলের এমন উন্মুক্ত ভালোবাসার এমন চিত্র লজ্জাজনক বলে মনে করছেন সমালোচকগণ। আর এ সকল ঘটনায় উদ্বিগ্ন অভিভাবক সমাজও।

শহীদ মিনারে আসা বেইলী রোডের বাসিন্দা নাজমুন্নাহার নীলা জানান, শহীদ মিনারের পাশেই বাসা। বাচ্চা ছোট হওয়ায় বিকেল বেলা বের হই প্রায় সময়ই । আর বের হওয়া মানেই শহীদ মিনার। জনবহুল এ শহরে একটি পরম শান্তির জায়গা। কিন্তু দিন যতই যাচ্ছে শহীদ মিনারের বাইরের পরিবেশের সাথে সাথে অভ্যন্তরের পরিবেশও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

ছেলে-মেয়েদের আড্ডাস্থল হিসেবে পরিণত হয়েছে। নানা রকম দৃষ্টিকটু দৃশ্যের কান্ডকারখানা চলে এখানে। ছেলেমেয়েদের নিয়ে এখানে আসা প্রায় নিষিদ্ধই হয়ে গেছে। পাশেই পুলিশ ফোর্স কিন্তু তাঁদের কোনো মাথা ব্যাথা নেই।

শহীদ মিনারে আসা  ষাটোর্ধ বয়সী মমিনুল হক জানান, শহীদ মিনার একটি পবিত্র স্থান। ৩৩ বছর আগে অনেক সংগ্রাম করে নারায়ণগঞ্জে এ শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়। যখনই এ শহীদ মিনারটি দেখি আমাদের শ্রদ্ধায় বুক ভরে যায়। কিন্তু এখনকার ছেলে মেয়েদের কাছে কিছু নির্দিষ্ট দিন ছাড়া এ শহীদ মিনার শুধু আড্ডারস্থল হিসেবেই মুখ্য।  

যে যেমন পারছে যেনতেনভাবে আসছে, জুতা পায়ে বেদিতে উঠে পড়ছে। সিগারেট ফুঁকছে। আরও কত কী যে দেখা যায় আসলে।  এটা নিশ্চয়ই কোনো সভ্য সমাজের দৃশ্য হতে পারে না ।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহল বলছেন, এ পবিত্র স্থানকে অবমাননা করে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সার্বক্ষণিক পুলিশের সামনেই তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন শ্রেণীর নর-নারীদের আড্ডাসহ চলতে থাকে নানা রকম অসামাজিক কর্মকান্ড।  কিন্তু প্রশাসনের দৃষ্টি বন্ধ। সিটি করপোরেশন কয়েকটা নীতিমালা সাটিয়ে দিয়েই তাদের দায়িত্ব ক্ষ্যান্ত রেখেছে। 

এদিকে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ রাতের বেলা ধারণ করে আরো ভয়াবহ রূপ। রাতের দিকে অপরাধীদের অভয়ারণ্য রাজত্বে পরিণত হয় এ চাষাঢ়া শহীদ মিনার। এছাড়া মাদকসেবীদের আনাগোনাও তখন অনেক বেড়ে যায়। এ সকল সমস্যা সমাধানে শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষার্থে  সিটি করপোরেশন ও সংশি¬ষ্ট প্রশাসনের সম্মেলিত কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার দাবী জানিয়েছেন  সচেতন মহল।
 

এই বিভাগের আরো খবর