বুধবার   ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪   ফাল্গুন ৮ ১৪৩০

প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষার দাবিতে অভিনব প্রতিবাদ

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১  

নিজের শরীরকে একটি ওষুধ কারখানার প্রতীকি রূপ দিয়ে প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষার দাবিতে অভিনব প্রতিবাদী পারফর্মিং আর্ট প্রদর্শন করেছেন সমগীতের কেন্দ্রীয় সভাপতি শিল্পী অমল আকাশ। তারা সারা শরীরে ছিল বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্যাকেট। মাথায় সুচ-সিরিঞ্জ। হাতে অক্সিজেন সিলিন্ডার। মুখে অক্সিজেন মাস্ক। তার সংযোগ সিলিন্ডারে নয় হাতে ধরে রাখা সবুজ গাছের গোড়ায়। প্রতিকী রূপে নগরীর সড়কে ঘুরে ঘুরে প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষার বার্তা পৌঁছে দেন তিনি।

 

গতকাল (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিআরবি রক্ষার দাবিতে নারায়ণগঞ্জে সাংস্কৃতিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। নগরীর চাষাঢ়ায় কেন্দ্রীয় পৌর শহীদ মিনারে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট এ সমাবেশের আয়োজন করে। এতে পারফর্মিং আর্ট পরিবেশন করেন শিল্পী অমল আকাশ। সড়কে চলাচলরত উৎসুক মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘বিশুদ্ধ পানি, বায়ু ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না। বাতাসে বিষাক্ত কার্বন, সিসা আর পানিতে ডাইংয়ের ক্যামিকেল। সবার আগে পরিবেশ বাঁচানো প্রয়োজন। পরিবেশ বাঁচালে হাসপাতাল লাগবে না, ওষুধ লাগবে না। ওষুধ খেতে খেতে শরীর হয়েছে ওষুধের কারখানা। সুন্দরবন রক্ষা করো, সিআরবি রক্ষা করো। প্রাকৃতিক হাসপাতাল ধ্বংস করে কৃত্রিম হাসপাতাল চাই না, বিদ্যুৎ কেন্দ্র চাই না।’

 


চট্টগ্রামের সিআরবি রক্ষার দাবিতে আয়োজিত প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটভুক্ত বিভিন্ন সংগঠন গান, কবিতা, নাটক পরিবেশন করে। এসব পরিবেশনায় সুন্দরবন, সিআরবিসহ প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার দাবি তোলা হয়। আবৃতি আলেখ্য পরিবেশন করে উন্নয়নের নামে প্রাণ-প্রকৃতি ধ্বংসের প্রতিবাদ জানায় শ্রুতি সাংস্কৃতিক একাডেমির খুদে তিন সদস্য মেঘ মালা, মহুয়া মাটি ও মেধা।

 

সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ভবানী শংকর রায়ের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক শিল্পী রফিউর রাব্বি, কবি শাহেদ কায়েস, সংস্কৃতি কর্মী ধীমান সাহা জুয়েল, জিয়াউল ইসলাম, তরিকুল সুজন, কবি কাজল কানন প্রমুখ।

 

এ সময় রফিউর রাব্বি বলেন, ‘সিআরবিতে শতবর্ষী অনেক গাছ রয়েছে। বিভিন্ন আন্দোলণের সাক্ষী এই সিআরবি। এটি চট্টগ্রামের ফুসফুস। যেই চট্টগ্রাম সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত ছিল সেইখানে উন্নয়নের নামে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন, রেলওয়েসহ সবাই এই আয়োজনে যুক্ত ছিল। উন্নয়নের নামে অবকাঠামো নির্মাণের নামে খালি প্রাকৃতিক জায়গা দখল চলছেই। প্রাকৃতিক সম্পদের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের এই মহাযজ্ঞের বিরুদ্ধে আমরা দাঁড়াবোই। তাহলেই আমরা আমাদের ভবিষ্যত রক্ষা করতে পারবো।’
 

এই বিভাগের আরো খবর