বুধবার   ১৬ অক্টোবর ২০১৯   আশ্বিন ৩০ ১৪২৬   ১৬ সফর ১৪৪১

প্রধানমন্ত্রী যাতে তাঁর দুচোখে সারা দেশটাকে দেখেন : রফিউর রাব্বি

প্রকাশিত: ৬ অক্টোবর ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক ও নিহত ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বি বলেছেন, আমরা চাই প্রধানমন্ত্রী যাতে তাঁর দুইচোখ দিয়ে সারা দেশটাকে দেখেন মানুষদেরকে দেখেন। একচোখ দিয়ে যাতে মানুষদেরকে সেখানে না দেখে। এক চোখ দিয়ে দুর্বৃত্তদের দেখবে, এক চোখ দিয়ে জনগণদের দেখবে, এটি না করে দুইচোখ দিয়ে সারা দেশটাকে দেখেন, মানুষদেরকে দেখেন, দেশের জনগণকে দেখেন-এই আহ্ববান জানাই।

 

রোববার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শহরের আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তন প্রাঙ্গণে মেধাবী কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যাকাণ্ডের ৭৯ মাস পূর্তিতে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে ধারাবাহিক মোমশিখা প্রজ্বলন কর্মসূচীতে তিনি এসব কথা বলেন।

 

ত্বকী হত্যার ঘাতকদের ৬৪ ধারায় স্বীকরোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রসঙ্গে রফিউর রাব্বি বলেন, স্বীকরোক্তি দিয়ে ৬৪ ধারায় আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে তারপরও তার বিচার হচ্ছেনা তাকে আইনের আওতায় আনা যাচ্ছেনা। অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে, যেখানে ৯০ দিনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করার। আজকে পৌনে সাত বছর অভিযোগপত্র তারা পেশ করেনা কেন ? প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে।

 

তিনি আরও বলেন, আজকে ৭৯ মাস হয়েছে ত্বকীকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা দীর্ঘ প্রায় পৌনে ৭ বছর ধরে বিচার চেয়ে আসছি। বিভিন্ন সময় প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন তিনি বিচার করবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত করেন নাই। আমরা যে বিষয়টি দেখেছি সেটি হচ্ছে দুর্বৃত্তদেরর রক্ষায় রাজনীতি করা। আবার মাঝে মধ্যে জনগণের বিরুদ্ধে গেলে তারা দু’চারটি বিচারের আয়োজন করে জনগণকে যে বিষয়টি বোঝাতে চায় সেটি হচ্ছে, সরকার সুশাসনের পক্ষে এবং সুশাসন টিকিয়ে রাখার জন্য তারা সচেষ্ট। কিন্তু প্রকৃত অর্থে কী করে জনগণ তা বুঝতে পারে  এবং এটির জ্বলন্ত উদাহরণ হচ্ছে ত্বকী হত্যা। 

 

ত্বকী হত্যার বিচার কার্য বন্ধ হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ত্বকী  হত্যার ঘাতক যারা সরকারি দলের সাথে জড়িত তাদের নাম প্রকাশের পরে ত্বকী হত্যার এ বিচার কার্যটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এবং এটি বন্ধ যে সরকার প্রধানের নির্দেশেই হয়েছে এটি আমাদের বুঝতে কারোরই বাকি থাকেনা। তারা মুখে যাই বলুক না কেন আজকে তারা কিছু কিছু দুর্বৃত্তদের বিপক্ষে অবস্থান করে কাউকে কাউকে তারা গ্রেপ্তার করছে এবং যাদের গ্রেপ্তার করছে তারা জন্মগতভাবেই দুর্বৃত্ত। আমরা এদের আমলনামা দেখেই জানতে পারছি এরা একটি দুটিনা তার অসংখ্য দল করতে করতে আওয়ামী লীগের সাইড নিয়েছে। আওয়ামী লীগে এমন অসংখ্য দুবৃত্তদের আশ্রয় প্রশ্রয় এখন পাচ্ছে।

 

রফিউর রাব্বি বলেন, আমরা একটি বিষয় বলতে চাই দুর্বৃত্তদেরর রক্ষার রাজনীতি করে এ দেশে উন্নয়ন, অগ্রগতি এটি কখনওই সম্ভব হবেনা। দুর্বৃত্তদেরর বিরুদ্ধে এই নাটকীয় দু’চারটি অভিযান, এটি চালিয়ে কোনো লাভ হবেনা প্রতিনিয়ত যদি দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা না যায়। জুয়ার সাথে জড়িত, চাঁদাবাজীর সাথে জড়িত, মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত যেমনি রয়েছে, তেমনি যারা বিদেশে টাকা পাচার করছে তারাও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। পাশাপাশি এই দেশে যারা লাশের পর লাশ ফেলেছে তাদেরকেও বিচারের আওতায় এনে বিদ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আমরা দেখছি যে তারা বিচারের আয়োজন করেছে দুচারটি এমন নজীর রয়েছে। কিন্তু খুব সূক্ষ্মভাবে সে অপরধীগুলোকে খুব সহজে তারা স্পর্শ করেত চায়না।

 

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুবলীগ সভাপতির গ্রেপ্তার প্রসঙ্গ এনে তিনি বলেন, আলোচনা হচ্ছে তাদের যুবলীগের সভাপতির তাকে নাকি খুঁজেই পায়না, তাকে ধরা হয়না কিছুই হয়না । আজকে দেখলাম যে তাকে ধরা হয়েছে সাথে সেেথ যে সংবাদটি দেখলাম তাকে দল থেকে এই এই অপকর্মের কারণে বহিষ্কাার করা হয়েছে। এত বছর ধরে, এই ১১-১২ বছর ধরে তারা এ অপকর্মগুলো করলো এতদিন তাদের চোখে ধরা পড়লোনা। আজকে হঠাৎ করে তারা ধরা পড়ে গেল।

 

তিনি আরও বলেন, হঠাৎ হঠাৎ এই যে নাটক, এই নাটক যদি চলতে থাকে তাহলে আমাদের এখানে প্রশাসন নিরপেক্ষ হওয়ার কেনো কারণ নাই। আমরা দাবি করবো প্রতিনিয়ত যারা এই খুন খারপের সাথে জড়িত রয়েছে, যারা ত্বকী হত্যার সাথে জড়িত যে ওসমান পরিবারের কথা আমরা বলছি তারা শুধু ত্বকীকেই হত্যা করেনি, তারা ত্বকীর পূর্বে-পরে বহু হত্যাকা- নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত করেছে। তাদের সাথে চ্যালা-চামুন-া যারা রয়েছে তারাও নারায়ণগঞ্জে খুনের রাজত্ব ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। আমরা তাই দাবি জানাচ্ছি  তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন এবং এদেরকে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করুন।

 

সংগঠনের সাবেক সভাপতি জিয়াউল ইসলাম কাজলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন, সাবেক সভাপতি জাহিদুল হক দীপু এবং  নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি অ্যাড. মাহবুবুর রহমান মাসুম।

 

উপস্থিত ছিলেন-খেলাঘর আসর জেলা কমিটির সভাপতি রথীন চক্রবর্তী, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা সমন্বয়ক নিখিল দাস, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি হাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শিবনাথ চক্রবর্তী, সমমনার সভাপতি দুলাল সাহা, ন্যাপের জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাড.আওলাদ হোসেন, গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক তারিকুল সুজন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জেলা কমিটির লিগ্যাল এইড সম্পাদক শাহানারা বেগম, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি প্রদীপ ঘোষ বাবু, যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল আলম নান্টু, প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক অভি জাহিদ প্রমুখ।

এই বিভাগের আরো খবর