বৃহস্পতিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৪ ১৪২৬   ১৯ মুহররম ১৪৪১

পুলিশের অভিযান নিয়ে যা বললেন আজমেরী ওসমান

প্রকাশিত: ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা, ফতুল্লা মডেল থানা ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা আজমেরী ওসমানের আল্লামা ইকবাল রোডের বাসায় অভিযান চালায়।

 

এ অভিযানের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন আজমেরী ওসমান। ওই স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেন তার বিরুদ্ধে একটি কুচক্রীমহল আপপ্রচার চালাচ্ছে। 

 

স্ট্যাটাসে আজমেরী ওসমান উল্লেখ করেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর ও বন্দর) আসনে চারবার নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য প্রয়াত বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব একেএম নাসিম ওসমান ছিলেন গণমানুষেষর নেতা। গরীব-দুঃখী ও মেহনতি মানুষের প্রাণ। এরই ধারাবাহিকতায় পিতার আদর্শকে ধারণ করে দুঃস্থ, অসহায় সর্বসাধারণের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে তারই একমাত্র পুত্র আজমেরী ওসমান। 

 

সেই সুবাধে সরাসরি কোন রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত না হলেও সমাজ সেবামূলক বিভিন্ন কাজে আপমর জনতার ভালবাসায় সুনাম ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। সম্প্রতি একটি মহল এ সুনাম ক্ষুণ্ন করার লক্ষে অপপ্রচার চালাচ্ছে। যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

 

স্ট্যাটাসে আরও উল্লেখ করা হয়, সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ‘প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের পুত্র আজমেরী ওসমানের ফ্ল্যাটে ব্লক রেইড চালিয়েছে পুলিশ। এসময় আজমেরী ওসমানের দুই সহযোগিকে আটক করা হয়েছে।’ এমন তথ্যে কেউ বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য বলা হচ্ছে।আইনের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। প্রকৃতপক্ষে পুলিশ তাদের কাজের স্বার্থে কাজ করছে। এতে সাধুবাদ জানানো আমাদের কর্তব্য। 

 

কিন্তু যতদূর জানা গিয়েছে যাদেরকে আজমেরী ওসমানের সহযোগী বলা হচ্ছে তারা আসলে জাতীয় পার্টির অঙ্গসংগঠন জাতীয় ছাত্র সমাজের জেলা নেতৃত্ব দেয়। তাদের যে বিষয়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে, সে বিষয়ে আজমেরী ওসমান অবগত নয়। কারণ আজমেরী ওসমান কখনো কোন মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দেয়না। 

 

যারাই এধরনের কাজ করেছেন তাদেরকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।অতীতে এগুলো সকলেই দেখেছেন ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাংবাদিক ভাইয়েরা প্রকাশ করেছেন। তাই একটি কুচক্রিমহল যে অপপ্রচার করছে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। ভবিষ্যতে এসব কর্মকাণ্ড কেউ করলে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো।

 


উল্লেখ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা, ফতুল্লা মডেল থানা ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা আজমেরী ওসমানের আল্লামা ইকবাল রোডের বাসায় অভিযান চালায়।এ অভিযানের সময় আজমেরী ওসমান পালিয়ে গেলেও তার সহযোগী দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন- জেলা ছাত্রসমাজের আহ্বায়ক, ফতুল্লার ইসদাইর এলাকায় মো. ফকির চানের ছেলে শাহাদাৎ হোসেন রুপু (৩২) এবং সোনারগাঁয়ের নাজিরপুর এলাকার গোলজার হোসেনের ছেলে গলাচিপা ডিএন রোডের বাসিন্দা মোখলেছুর রহমান (৩৫)।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার কর্মকর্তা (ডিআইও-২) সাজ্জাদ রোমন জানান, মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে করা একটি মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে আজমেরী ওসমানের বাসায় অভিযান চালানো হয়েছিল।

 

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, নগরের অমলাপাড়া এলাকার জনৈক বাচ্চুকে দলবল নিয়ে মারধর করেন আজমেরী ওসমান। এ ঘটনায় বাচ্চু বাদী হয়ে গতকাল রাতে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা করেন। এই মামলার পর আজমেরীর বাসায় অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে সরকারি তোলারাম কলেজের সামনের সড়কে ১০ থেকে ১২টি গাড়িতে পুলিশ প্রবেশ করে। কলেজ-সংলগ্ন দেওয়ান মঞ্জিলে আজমেরী ওসমানের বাসা ঘেরাও করেন পুলিশের শতাধিক সদস্য। অভিযানের শুরুতেই বাড়ির ভেতর থেকে বাদানুবাদের শব্দ শোনা যায়। একপর্যায়ে পুলিশ আজমেরী ওসমানের অফিসে তল্লাশি চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করে।

এই বিভাগের আরো খবর