বৃহস্পতিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৪ ১৪২৬   ১৯ মুহররম ১৪৪১

পাল্টে গেছে বাজার চিত্র : ১০০ টাকায় পাঁচ কেজি শিম

প্রকাশিত: ৮ নভেম্বর ২০১৮  

স্টাপ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : সপ্তাহের ব্যবধানে পাল্টে গেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার দরের চিত্র। গত সপ্তাহেও যেখানে ১২০-১৪০ টাকা  কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল  এ সবজিটি। সেখানে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাল্টে গেছে গত তিন মাস সময় ধরে  ১’শ টাকার ওপরে কেজিতে  বিক্রি হওয়া শিমের দাম।  ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া শিম এখন ১০০ টাকায়ই পাওয়া যাচ্ছে ৫ কেজি শিম। যা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা।

পাইকারী বাজারগুলোতে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা। অন্যান্য বাজারগুলোতে বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকা।  এদিকে শিমের পাশাপাশি শীতের আগাম সবজি ফুলকপি,পাতাকপি,মুলা, বেগুন, পেঁপেসহ প্রায় সব সবজির দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে। বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) নগরীর দ্বীগুবাবু,নিতাইগঞ্জ, বৌ বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায় এ চিত্র। ব্যবসায়ীরা বলছে, বাজারে শীতের সবজি ভরপুর থাকায় দাম কমছে। তবে কখন বাড়বে তার কোনো ঠিক নেই।

দ্বীগুবাবু বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা এক পাল্লা (৫ কেজি) শিম বিক্রি করছেন ১০০ টাকা। অর্থাৎ প্রতিকেজি শিমের দাম পড়ছে ২০ টাকা। তবে যারা খুচরা বাজারে বিক্রির জন্য বেশি করে (৫-৭ পাল্লা) কিনছেন তাদের কাছ থেকে আরও কম দাম নেয়া হচ্ছে।

পাইকারী বাজারে ২০ টাকা কেজি হলেও তবে খুচরা বাজারে একটু বেশি। ২৫-৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে শিম। মাসদাইর বাজারে গিয়ে দেখা যায় সেখানে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে শিম।

শিমের দাম হঠাৎ কমে যাওয়া নিয়ে দ্বীগুবাবু বাজারের ব্যবসায়ী আলম বলেন, একদিকে শীতের সব সবজিই বাজারে ভরপুর। অন্যদিকে শিমের উৎপাদন এবার অনেক বেশি। ফলে শুধু শিম নয় সব ধরনের সবজির দাম কমেছে। সামনে হরতাল-অবরোধ বা ঝড়-বৃষ্টি না হলে দাম আরও কমবে। এখন যে শিমের পাল্লা ১০০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে সেই শিমই কিছুদিন পর ৫০ টাকা পাল্লা বিক্রি হবে।

বৌ-বাজারের ব্যবসায়ী স্বপন বলেন, এক সপ্তাহ আগেই এক পোয়া  শিম ৪০-৪৫ টাকা  কেজিতে বিক্রি করেছি। আর এখন এক কেজি শিম  বিক্রি করছি ২৫ টাকায়। যেখানে শিমের দাম শুনলেই ক্রেতারা হাঁটা ধরতো তারাই এখন ৫ কেজি করে  শিম কিনে নিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু শিম নয়, মুলা, কপি, লাউ, সব ধরনের সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কমেছে। বাজার ও মানভেদে এক জোড়া ফুলকপি পিচ বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০-৭০ টাকা। আর গত সপ্তাহে ৫০ টাকা পিচ বিক্রি হওয়া পাতাকপির দাম কমে ২৫ টাকায় নেমে এসেছে। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে টমেটো ও গাজরের দাম। পটল পাওয়া যাচ্ছে ২০ টাকা কেজিতে যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০ টাকা। এছাড়া  ২০-২৫ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে লম্বা বেগুন, গোল বেগুন, করলা, চিচিংগা, ঝিঙা,  ধুন্দল,লতি, উস্তা, বরবটি, মোগল শিম, কাঁচা কলা। যা এক সপ্তাহ আগেও এসকল সবজির দাম ছিলো ৬০-৭০ টাকা দরে। শসা কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকা।

শীতের সবজির পাশাপাশি বাজারে উঠেছে শীতের শাক। বাজার ভেদে এক আটি পালন শাক বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকা। লাল ও সবুজ শাক বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকায়। পুঁইশাক ও লাউশাক পাওয়া যাচ্ছে ৩০ টাকা আটি ।

সবজির পাশাপাশি দাম কমেছে কাঁচামরিচের। বাজার ও মানভেদে এক কেজি  কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩০  টাকা। যেখানে গত সপ্তাহে আধাকেজি কাঁচামরিচ কিনতে হয়েছে ৩০ টাকা দরে।

তবে অপরিবর্তিত রয়েছে টমেটো ও গাজরের দাম। গত সপ্তাহের মত প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা কেজি। আর গাজর বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে।

এদিকে সবজির দাম কম থাকায় খোশ মেজাজে ক্রেতারা। কয়েকজন ক্রেতার সাথে কথা বললে তারা জানায়, শীতে সবজি একদম তাজা পাওয়া যায়। খেতে বেশ ভালো লাগে। কিন্তু দামের যন্ত্রনায় সবজি কেনা মুশকিল হয়ে পড়েছিলো। কিন্তু এ সপ্তাহে সবজির দাম অনেক কমেছে দেখে স্বস্তি লাগছে।

দ্বিগুবাবু বাজার থেকে সবজি কেনা আছমা  বলেন, গত সপ্তাহে এক পোয়া শিম কিনেছিলাম ৩০ টাকা দিয়ে। এখন  ২ কেজি নিলাম ৪০ টাকায়।  বেগুন কিনলাম ২০ টাকা কেজিতে। সবমিলিয়ে  ১০০ টাকায় বাজার সারলাম। ভালোই লাগছে।

এদিকে আগের দামই বিক্রি হচ্ছে নতুন আলু। প্রতিকেজি নতুন আলু পাওয়া যাচ্ছে ১২০-১৪০ টাকা দরে।  গত সপ্তাহের মতই বাড়তি  রয়েছে পুরোনো আলুর দাম । প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২২-৩০ টাকা  দরে। আর পাল্লা প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকা করে। প্রতিকেজি  দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকা। আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩৫ টাকা কেজি। রসুন বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা আর দেশী আদা বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা আর  ভারতীয় আদা ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অপরিবর্তিত রয়েছে বয়লার মুরগি, ডিম, গরু ও খাসির মাংস এবং মাছের দামও। মুরগীর ডিম হালি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকা আর  ১’শ বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকায়। হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৬ টাকা আর ১’শ বিক্রি হচ্ছে ১১০০ টাকা। বয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৪০ টাকা কেজি। গরুর মাংস ৪৮০-৫০০ টাকা এবং খাসির মাংস ৬৫০-৭০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ইলিশের ভরপুর মাছের প্রতিটি দোকানে। কেউ কেজিতে কেউ আবার হালিতে কিনছে।  প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬০০-৮০০ টাকায়। আর পিস বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৫০০ টাকায়। আর ছোট আকারের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৫০০ টাকা। এক কেজি সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০-১০০০ টাকা পিস।

তবে প্রতি কেজি রুই মানভেদে ২৪০-৪০০ টাকা, কাতলা ৩৫০-৪০০ টাকা, আইল ৭০০-৮০০ টাকা, মেনি মাছ ৪৫০-৫০০, বেলে ৩৬০-৫০০ টাকা, বাইন ৪০০-৬০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ৫৫০-১০০০ টাকা, পুঁটি ৩০০ টাকা, পোয়া ৪০০-৬০০ টাকা, মলা ৩২০-৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০-৫০০ টাকা, বোয়াল ৪৫০-৫০০ টাকা, শিং ৪০০-৮০০, দেশি মাগুর ৫০০-৭০০ টাকা, শোল ৫০০-৭০০ টাকা, চাষের কৈ ২০০-২৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায়। তেলাপিয়া,পাঙ্গাস,সরপুটি পাওয়া যাচ্ছে ১২০-২০০ টাকা কেজি দরে পাবদা বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৫০০ টাকায়। 

এই বিভাগের আরো খবর