বুধবার   ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ৭ ১৪২৬   ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

পহেলা ফাল্গুন, ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে ফুলের বাজারে আগুন

প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪): কারো হাতে গোলাপ গুচ্ছ কারো হাতে অর্কিট, গোলাপের গুচ্ছ। কেউ কেউ আবার হরেক রকমের ফুল দিয়ে সাজানো মুকুট মাথায় দিয়ে বাসন্তী রঙের শাড়ি জড়িয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

 

যদিও পঞ্জিকানুসারে এ বছর পহেলা ফাল্গুন ও  বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ১৪ ফেব্রুয়ারি পালিত হবে। কিন্তু বিষয়টি অজ্ঞাত থাকায় অনেকেই আগের পঞ্জিকা মেনেই ১৩ ফেব্রুয়ারি পহেলা ফাল্গুন পালন করছে।


দিবস দুটি উপলক্ষে ইতিমধ্যেই নগরী সেজে উঠেছে ফুলেল সাজে। নগরীর ফুলের দোকান ছাড়াও প্রধান প্রধান সড়ক ও আনাচে কানাচে বসেছে ভ্রাম্যমাণ ফুলের দোকান। চারদিকে চোখ ধাঁধানো ফুলের সমারোহ দেখা গেলেও তা ধরতে মানা। একদর ফুল বেচাকেনা নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে ক্রেতাদের।

 

অন্য সময়ে ১০ টাকায় বিক্রি হওয়া গোলাপগুলো এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০-১০০ টাকা করে। অন্য ফুলের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। তবে এ দিবসগুলোতে কেন ফুলের  দাম কেন বাড়ানো হয় এ বিষয়ে কোনো যুক্তিযুক্ত তথ্য দিতে না পারলেও বেচাকেনা কম নিয়ে হতাশা জানিয়েছে বিক্রেতারা। 


এ দিবসগুলোতে স্বাভাবিক হারে ফুলের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি দেখা গেলেও ধীরে ধীরে তা নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন ক্রেতারা। তাই অনেকেই ফুল কেনা আর টাকা জলে দেয়া মনে করে কৃত্রিম ফুলের দিকে ঝুঁকছে ক্রেতারা ।


সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সড়কে সড়কে ফুলের সমারোহ। দোকান থেকে ভ্যান,ভ্যান থেকে  ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা হাতে নিয়ে ফুল বিক্রি করছে। এছাড়া সড়কের পাশে বসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও তাদেও অন্য ব্যবসায়ের পাশাপাশি ফুল নিয়ে বসেছে। কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ দিবসগুলোতে ফুল বিক্রি লাভজনক হওয়ায় অন্য ব্যবসায়ের পাশাপাশি ফুল বিক্রির দিকটিতে মনোনিবেশ  করছে তারা। 


মৌসুমী ফুল ব্যবসায়ী জাকির  হোসেন জানান, ফেব্রুয়ারি মাসে ফুলের চাহিদা বেশি থাকায়  জাকির হোসেনের এ উদ্যোগে। অন্যান্য বছরের ন্যায় এ বছরও সে লাল-সাদা গোলাপ, অর্কিটসের ফুলের ডালি সাজিয়ে বসেছে। তার কাছে পাওয়া যাচ্ছে ৩০-৬০ টাকা দামের গোলাপ । ফুলের তোড়া প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা করে। তার দাবি অন্যান্য দোকানগুলোর তুলনায় তার দোকানে ফুলের দাম অনেক কম। 


সারা বছর কাপড়ের ব্যবসায় করলেও ফেব্রুয়ারি মাসে অনিক মিয়ার দোকানে ফুল বেচা-কেনার ধুম পড়ে যায়। ১৪ ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই হরেক রকমের ফুল নিয়ে ক্রেতা হাঁকাচ্ছেন তিনি। অনিক মিয়া জানান, এ সময়টাতে অন্যান্য সময়ের তুলনায় ফুলের চাহিদা  বেশি থাকে। তাই এ কয়েকটা দিন তার জন্য ফুল ব্যবসায়ের অন্যতম সময়। অনিক মিয়া বলেন, কোনো নির্দিষ্ট দাম নেই। যার থেকে যেমন  নেয়া যাচ্ছে আর কি।

 
এ দিকে মৌসুমী ফুল ব্যবসায়ীদের জন্য কেনাবেঁচায় ভাটা পড়েছে বলে অভিযোগ ফুল ব্যবসায়ীদের। কালীরবাজারের ফুল ব্যবসায়ী আমিনুল্লাহ জানান, সারা বছর ফুল ব্যবসায় কোনোরকম চললেও এ সময়টাতে আমাদের নির্দিষ্ট কিছু টার্গেট থাকে। কিন্তু এ সময়টাতে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের তাড়নায়  বেঁচা কেনা অনেকটাই কমে আসে।

 

তাছাড়া আনুসাঙ্গিক অনেক কারণ তো আছেই। যেমন আগে গাজরা বা রজনীগন্ধার  ব্যবহার থাকলেও এখন মানুষ আর্টিফিসিয়াল ফুলের দিকে ঝুঁকছে। কৃত্রিম  ফুলের কারণে মানুষ ফুলের ব্যবহার অনেকাংশই কমিয়ে দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।


নগরীর বিভিন্ন দোকান ঘুরে  চাষাঢ়া শহীদ মিনারে এসে ফুলের মুকুট ও তোড়া কিনছে অর্পা আক্তার। বন্ধুদের নিয়ে ফাল্গুন উপলক্ষে ঘুরতে বের হয়েছে তারা। তার মতে শাড়ীর সাথে মানানসই ফুল ও দামের বনিবনা না হওয়ায় বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরতে হয়েছে তাদের। সর্বশেষ চাষাঢ়া শহীদ মিনারের সামনে এসে তারা ফুল কিনছে। 


এদিকে শহীদ মিনারের ভেতরে হাতে ফুল নিয়ে ঘুরতে দেখা যায় কিছু পথ শিশুকে। তাদের কাছ থেকে কেউ কিনছে  কেউ আবার দূরে ঠেলে দিচ্ছে। সেখানেই কথা হয় কলেজ শিক্ষার্থী মাহবুব হোসেনের সাথে।

 

ফুল কেনাকে  টাকা জলে দেয়া মনে করেন তিনি। হাসতে হাসতে মাহবুব জানান, যে টাকা দিয়ে ফুল কিনবো সে টাকা দিয়ে বন্ধুদের নিয়ে খাবদাব। ফুল কিনে টাকা জলে দেয়া কোনো মানে নেই। 


অনেকের কাছে ফুল কেনা টাকা জলে দেয়া মনে হলেও তবুও ভালোবাসা দিবসে প্রিয়জনকে শুভেচ্ছা জানাতে ফুলের দোকানগুলোতে ভীড় জমাচ্ছে ক্রেতারা।
 

এই বিভাগের আরো খবর