বুধবার   ২৭ মে ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪২৭   ০৪ শাওয়াল ১৪৪১

নেত্রী কারাগারে আলাদাভাবে তেমন কোন পরিকল্পনা নেই : গিয়াস উদ্দিন

প্রকাশিত: ২০ আগস্ট ২০১৮  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) সপ্তম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় যোগদেন তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগে। এসএসসি পাশ করেই গড়ে তুলেন একটি বিদ্যালয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায়ই নির্বাচিত হন সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে। মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে অবদান রাখেন দেশের স্বাধীনতা অর্জনে। 

রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে জাতীয়পার্টি আওয়ামীলীগের রাজনীতির পর ২০০১ সালে যোগ  দেন বিএনপির রাজনীতিতে। নির্বাচিত হন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন। বৈচিত্রময় এই রাজনৈতিক জীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের অনেক গল্প উঠে এসেছে যুগের চিন্তা ২৪ এর ঈদ আড্ডায়। আড্ডার অংশ বিশেষ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

যুগের চিন্তা: কেমন আছেন?

গিয়াস উদ্দিন: অলহামদুলিল্লাহ! শারীরিক ও পারিবারিকভাবে ভালো আছি। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে তেমন ভাল নেই। সরকারের এমন জুলুম নির্যাতনের পর আমরা সুস্থ থাকতে পারি না।

যুগের চিন্তা: কোরবানির তাৎপর্যটা কী আপনার কাছে?

গিয়াস উদ্দিন: আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগের মহিমা নিয়ে কোরবানি আসে।

যুগের চিন্তা: এবারের ঈদের পরিকল্পনা কী?

গিয়াস উদ্দিন: আজ বিএনপির অনেক নেতাকর্মী বাড়িঘর ছাড়া, কেউ জেলে আছে কেউ পালিয়ে আছে গুম হয়ে গেছে। এবারের ঈদে এটাই দুঃখ যে একটা স্বাধীন দেশে এমন অসংখ্য মানুষ ঈদের আন্দটা ভোগ করতে পারবে না। নেত্রী কারাগারে আলাদাভাবে তেমন কোন পরিকল্পনা নেই। নেতাকর্মী আর পরিবারের সঙ্গেই ঈদ কাটাবো।

যুগের চিন্তা: শৈশবের ঈদের কথা মনে পড়ে?

গিয়াস উদ্দিন: ছোটবেলা যখন কোরবানি আসতো হাটে গিয়ে গরু দেখতাম, কিনতাম। মনে পড়ে, গরু কেনার জেন্য সেই গাবতলি হাটে চলে যেতাম বাবার সঙ্গে। গরু কিনে যতই চেষ্টা করুক গাড়িতে করে নিয়ে আসবে লাভ হতো না। গরুর পেছনে হাটতে হাটতেই বাড়ি চলে আসতাম। এতো আনন্দ ছিলো তখন। আর প্রতিদিনতো  এলাকায় নতুন নতুন গরু আসতো। 

ঘুম থেকে উঠেই চলে যেতাম কোরবানির পশু দেখতে। বন্ধুরা মিলে কোরবানির পশু দেখতে হাটে হাটে ঘুরতাম। আর যখন রাস্তা দিয়ে কেউ গরু নিয়ে যেতো তখন জিজ্ঞেস করতাম ভাই দাম কতো? কোন হাট থেকে কিনলেন? ঈদের দিনের চেয়েও বেশি এই আনন্দটা কাজ করতো ঈদের আগে।
যুগের চিন্তা : ঈদের সালামি দেয়া বা নেয়ার কথা  মনে পড়ে?

গিয়াস উদ্দিন: ছোটবেলাতো সালামি নিতাম ই। যখন নবাব বাড়িতে বিয়ে করলাম তখনতো সেখানে গেলেই সকলে ধরতো ঈদি দেন ঈদি দেন। তারা সালামি কে ঈদি বলে। এটা খুব এঞ্জয় করতাম। এখনো নবাব বাড়িতে গেলে ঈদি দিই।

যুগের চিন্তা: ঈদের পরের রাজনৈতিক পরিকল্পনা কী?

গিয়াস উদ্দিন: এই সরকারের মেয়াদ শেষ হলে দলের কর্মসূচী অনুযায়ী সর্বোচ্চ কাজটাই করবো। পাশাপাশি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য প্রচার প্রচারণা করতে হবে।

যুগের চিন্তা: কেমন করে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন পার করলেন, পথচলাটা কেমন ছিলো?

গিয়াস উদ্দিন: সপ্তম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলাম। স্কুল  কলেজ পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে যোগদান করি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায়ই মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে সিদ্ধিরগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করি।

১৯৬৯ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার পর রেবতীমোহন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ হাতে নিই। রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কাজকর্মও করতে থাকি। ঢাকা  বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায়ই সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই দুইবার।

বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন যায়গায় কাজ করতে করতে ১৯৮৫ সালে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। এর মধ্যে এরশাদের জাতীয় পার্টির সঙ্গে যুক্ত হই। তারপর আওয়ামীলীগে এসে ১৯৯৬ সালে থেকে মনোনয়ন চেয়ে পাইনি। সবশেষ ২০০১ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হই।

যুগের চিন্তা: এইযে আওয়ামীলীগ-জাতীয় পার্টি তারপর বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হলেন, কখনো কী মনে হয়নি এর মাধ্যমে আদর্শ চ্যুতি হলেন?

গিয়াস উদ্দিন: এটা অনেকেই মনে করতে পারেন আমি মনে করি না। আমাদের দেশের যে রাজনীতি চলছে এই রাজনীতিতে বিএনপি আওয়ামলীগ বা জাতীয় পার্টি কোন নির্দিষ্ট আদর্শ অনুসরন করে না। এখানে আদর্শ হচ্ছে দেশ প্রেম, দেশের উন্নয়নে কাজ করা, মানুষের কল্যানে কাজ করা।

এই আদর্শ সকল দলেরই আছে। ইসলামিক দলগুলো যেমন কোরআন সুন্নার রাষ্ট্র চায়, কমিউনিস্ট দলগুলো সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র চায়। আওয়াী বিএনপিরতো এমন কিছু নেই। ফলে মানুষের কল্যানে কাজ করার স্বার্থেই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন যায়গায় কাজ করেছি।    

যুগের চিন্তা: জীবনের কোন অপূর্ণ ইচ্ছা আছে?

গিয়াস উদ্দিন: মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে পেরেছি এটাই বড় একটা তৃপ্তি। আর মুত্যুর আগে মুখের শ্লোগানে না প্রকৃতপক্ষেই দেশে মুক্তি যুদ্ধের আকাঙ্খার বাংলাদেশ দেখে মরতে চাই।

যুগের চিন্তা: আপনার পরিবার নিয়ে বলুন।

গিয়াস উদ্দিন: দুই বছর আগে বাবা মা মৃত্যু বরন করেছেন। তিন, বোন তারা তাদের সংসার করছেন। তার বাইরে আমার স্ত্রী, চার ছেলে, একজন নাতনি ও পাঁচ জন নাতি সবাই মিলে একসঙ্গেই আছি।

যুগের চিন্তা: আপনার রাজনীতিতে সফলতা ব্যর্থতা কী কী?

গিয়াস উদ্দিন: আত্মতৃপ্তি আছে যে রাজনীতিতে আমি যথেষ্ঠ সফল। রাজনীতিতে না গেলে হয়তো মহান মুক্তিযুদ্ধে যাওয়া হতো না। রাজনৈতিক চেতনার কারনেই মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করি। দেশের স্বাধীনতায় নিজের অবদান রাখার বিষয়টি আমাকে আত্মতৃপ্তি দেয়। রাজনীতির কারনেই গ্রামের একটি নি¤œমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান আজকের গিয়াসউদ্দিন হয়ে উঠলো।

ব্যর্থতার বিষয়টা একক নয়। সম্মিলিতভাবে একটা ব্যর্থতা আছে। যে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা এতোবড় একটা মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে দেশ পেলাম সে দেশ পাকিস্তানি শাসনের চেয়েও ভয়ঙ্কর একটা সময় পার করছে। এটাই সামগ্রিকভাবে ব্যর্থতা।

যুগের চিন্তা: অবসর কাটান কী করে?

গিয়াস উদ্দিন: অবসরে বাগান করি, বই পড়ি। কোরআন হাদিস পড়ি।

যুগের চিন্তা: নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতাদের প্রতি কোন আহ্বান জানাতে চান?

গিয়াস উদ্দিন: বিএনপির চেয়ারপার্সন জেলে। তারেক রহমান মিথ্যা মামলায় দেশের বাহিরে।  সামনেই নির্বাচন, এই অস্থায় সকলের প্রতি ঐক্যবদ্ধ ভাবে আন্দোলন গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

যুগের চিন্তা: রাজনীতিতে কার কাছে বেশি কৃতজ্ঞ?

গিয়াস উদ্দিন: মরহুম মিজানুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তার কাছে কৃতজ্ঞ। তিনি আমাকে রাজনীতি শিখিয়েছেন।
যুগের চিন্তা: শুনেছি অবসরে কবিতা লিখেন। একটা কবিতা শোনান।

গিয়াস উদ্দিন: হা হা হা আমি কবিতা লিখার চেষ্টা করি কিন্তু প্রকাশ করি না।
(কবিতার শেষ চার লাইন)

আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই,
ইনশাল্লাহ হবে, হতেই হবে
প্রভাতের আলোর মতো আলো হাতে আসবে আমাদের সুসন্তানেরা
নতুন করে গড়ে তুলবে একদিন মুক্তিযুদ্ধের সোনার বাংলাদেশ।
 
যুগের চিন্তা: নারায়ণগঞ্জবাসীর উদ্দেশ্যে ঈদ শুভেচ্ছায় যদি কিছু বলতে চান।

গিয়াস উদ্দিন: নারায়ণগঞ্জ -৪ আসনের মানুষের কাছে অনেক অনেক কৃতজ্ঞ। আমি সাধারণ ঘরের একটা সন্তান। অপনারা বারবার ভোট দিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। আপনাদের প্রতি আমি আজীবন কৃতজ্ঞ। আমার পরিবার ভবিষ্যত প্রজন্মও কৃতজ্ঞ থাকবে। সকলে মিলে মিশে আনন্দের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করুন এটাই প্রত্যাশা।

যুগের চিন্তা: সময় দেয়ার জন্য যুগের চিন্তা পরিবারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ।

গিয়াস উদ্দিন: আপনাকেও ধন্যবাদ। যুগের চিন্তা পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা পোষণ করছি।
 

এই বিভাগের আরো খবর