বৃহস্পতিবার   ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪   ফাল্গুন ১০ ১৪৩০

নির্বাচনে মাঠে থাকছেন ছালাম-মাকসুদ  

লতিফ রানা

প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০২৪  

 

# মাঠে ছিলাম আছি এবং থাকবো : গাজী সালাম
# নির্বাচনটা ওপেন করে ফেলায় ভাল হয়েছে : মাকসুদ

 

 

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেবে না আওয়ামী লীগ। অর্থাৎ কাউকে দলীয় প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে না। দলের নেতারা নিজেদের ইচ্ছে মতো স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করতে পারবেন এবং যেকোনো প্রার্থীর পক্ষে দলের নেতারা ভোট করতে পারবেন। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

আর সরকারী দলের এমন সিদ্ধান্তে সারা দেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায়ও অনেকেই প্রার্থী হতে উৎসাহী হয়েছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে এই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার জন্য বেশ কয়েকজন শক্তিশালী প্রার্থী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই তালিকায় এর আগে বিভিন্ন সময় যারা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন তাদের নামসহ আছে বেশ কিছু নতুন প্রার্থীর নাম।

 

যার মধ্যে রয়েছেন ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে পরাজিত হলেও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিতি লাভ করা এবং মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের একাধিকবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান গাজী এমএ সালামের নাম। এবারের উপজেলা নির্বাচনে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বির তালিকায় আছে মুসাপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. মাকসুদ হোসেনের নাম।

 

এবারে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান এবং বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গাজী আব্দুস সালাম বলেন, বন্দর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে আমি ছিলাম, আছি এবং থাকবো ইনশাআল্লাহ। আমি ২০১৪ সালের নির্বাচনেও ছিলাম। সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি, আমার ভাগ্যে ছিল না বলে আমি পাস করতে পারিনি।

 

গত নির্বাচনেও (২০১৯ সালের উপজেলা নির্বাচন) দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্যও চেষ্টা করেছি, কিন্তু নৌকা প্রতীক পাইনি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার জন্যও প্রস্তুত ছিলাম। তবে তখন একটি সমঝোতার মাধ্যমে উপরের নেতৃবৃন্দের পরামর্শে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি। এবারও আমি শতভাগ আশাবাদী যদি দল থেকে মনোনীত করে তাহলেও হয়তো আমি মনোনীত হতে পারি।

 

এবার আমি আশাবাদী এবং মাঠে আছি। এরই মধ্যে আমার সমর্থকরা প্রচার প্রচারণা চালাইতেছে। আমার নির্বাচনী প্রচারণার ব্যানার ফেস্টুনে এই নির্বাচনী এলাকা ছেয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। এবারের নির্বাচন দলীয়ভাবে উম্মুক্ত করে দিলেও (কোন দলীয় প্রতীক বরাদ্দ না দিলে) আমি আশাবাদী। তবে সম্ভাবনা থাকবে জনগণের হাতে। তবে আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো ইনশাআল্লাহ।

 

আসন্ন উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছে আছে কি না জানতে চাইলে বন্দর উপজেলার মুসাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাকসুদ হোসেন বলেন, আমার তো ইচ্ছা আছেই। আমার ইচ্ছা আছে বলেই তারা প্রচারণা চালাচ্ছে। এখান থেকে অন্যান্য চেয়ারম্যানরা দাঁড়ালেও আমার তো আর দাঁড়াতে সমস্যা নেই। আমার ইচ্ছে, যেহেতু এবারের নির্বাচনটা ওপেন করে ফেলা হয়েছে, দলীয় প্রতীক থাকলেও স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করার জন্য একটি অপশন তো থাকবে (দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের মতো)।

 

উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বরাদ্দ না করার সিদ্ধান্ত এবং সকলের জন্য উম্মুক্ত করে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এটা হওয়াতে আসলে ভাল হয়েছে। দলীয় প্রতীক থাকলে দেখা যায় অনেক সময়ই প্রভাব খাটানোর একটি বিষয় চলে আসে। যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকে তাদের নির্বাচনী মাঠে কাজ করতে অনেকটা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। সেদিক থেকে এই সিদ্ধান্তটা ভালো হয়েছে। এবারে বন্দর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য আমার ইচ্ছে আছে।

 

উল্লেখ্য, মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান গাজী এমএ সালাম ২০১৪ সালের বন্দর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেই নির্বাচনে ১০ হাজার ৮৮১ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছিলেন এই আওয়ামী লীগ নেতা। ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও অংশ নিতে আগ্রহী ছিলেন। সেই নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বরাদ্দের নিয়ম থাকায় তিনি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য চেষ্টা করেন। কিন্তু দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন।

 

তবে শেষ মুহুর্তে তিনি দলীয় প্রভাবশালী কিছু নেতার সিদ্ধান্তে নির্বাচন থেকে সরে যেতে বাধ্য হন বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানানো হয়। এমনকি বন্দর উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান এমএ রশিদকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করার লক্ষ্যে সেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে অন্য কাউকে না রাখার জন্য একটি পরিকল্পনা করা হয় বলে তৎসময় ব্যাপকভাবে প্রচার হয়। সেই নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহীরাও তখন বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময় ক্ষোভ প্রকাশ করলেও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান তারা।

 

এমএ রশিদ ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে ৯ হাজার ৭৬১ ভোট পেয়ে চতুর্থ হয়েছিলেন এবং ২০১৯ সালের নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

 

অন্যদিকে এবারের উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বির তালিকায় থাকা মো. মাকসুদ হোসেন বন্দরের মুসাপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান। মাকসুদ হোসেন এই ইউনিয়ন থেকে তিনবার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই স্থানীয়ভাবে মাকসুদেরও একটি কর্মী ও সমর্থক বাহিনী তৈরি হয়েছে। তাই এবারের নির্বাচনে মাকসুদ হোসেনও নিজেকে একজন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রকাশ করতে পারবেন বলেও তার সমর্থকদের ধারণা। এস.এ/জেসি 

এই বিভাগের আরো খবর