সোমবার   ০৪ মার্চ ২০২৪   ফাল্গুন ২১ ১৪৩০

নির্বাচনকে সামনে রেখে উপজেলা আ.লীগে অভ্যন্তরীণ কোন্দল

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৯ নভেম্বর ২০২৩  


আসন্ন জাতীয় দ্বাদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে বন্দর উপজেলা আ’লীগের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে আওয়ামী লীগের তৃনমুল কর্মী সমর্থকরা। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আ’লীগের মনোনয়ন বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে।

 

 

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ কারণে নারায়ণগঞ্জের আ’লীগের শীর্ষ নেতাদের সমন্বয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য উপজেলা আ’লীগের তৃনমুল নেতাকর্মীদের সাথে সৃষ্ট দ্বন্দের অবসান দাবী করে দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
 

 


তৃনমুল কর্মীরা জানিয়েছেন,আগামী নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ১৮ ডিসেম্বর। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে কেন্দ্র করে বন্দর উপজেলায় আ’লীগের মধ্যে দলীয় কোন্দল নিরসন করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

 

 

এক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জের শীর্ষ আ’লীগ নেতাদের হস্তক্ষেপ খুবই জরুরী। আমরা কখনোই দলীয় কোন্দল চাই না। উপজেলা আ’লীগের মধ্যকার বিভক্তি চলমান থাকলে দলের জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। এমন সময়ে সকলে এক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করাটা বাঞ্চনীয়। উপজেলা আ’লীগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতাদের মধ্যে বর্তমানে বিভক্তি চলছে।

 

 

সাম্প্রতিক কালে আমরা দেখছি বন্দর উপজেলা আ’লীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এমএ রশিদ,নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ধামগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুম আহমেদসহ একাধিক নেতাকর্মী।

 

 

একদিকে আর অপরদিকে রয়েছে উপজেলা আ’লীগের সহসভাপতি ও মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী এমএ সালাম ও মদনপুর ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মুহিত ভূইয়া ও সাধারন সম্পাদক নাজিম উদ্দিনসহ বেশ কিছু নেতাকর্মী আরেকদিকে।

 

 

দলের ভেতরে এমন বিভাজনে দলীয় কোন্দল সৃষ্টি হয়েছে যা দলের জন্য ক্ষতিকারক। এই বিভক্তির কারনে বিগত সময়ে বিএনপির জামাতের অবরোধের বিপরিতে তারা পৃথকভাবে মঞ্চ তৈরী করে আলাদা সমাবেশ করেছে। এতে করে বিপাকে পড়তে হয়েছে তৃনমুল কর্মী সমর্থকদের।

 

 

তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পূণরায় প্রধানমন্ত্রীর শপথবাক্য পাঠ করার প্রত্যয়ে বন্দর উপজেলা আ’লীগকে সকল বিভাজন ভাসিয়ে দিয়ে এক পতাকা তলে এনে ঐক্যবদ্ধ করে শক্তিশালী করার জোর দাবী জানাচ্ছি সরকারী দলের শীর্ষ নেতৃত্বস্থানীয় নেতাদের কাছে।
 

 


নারায়ণগঞ্জের শীর্ষ আওয়ামী লীগের নেতারা আশা করছেন, স্থানীয় রাজনীতির কারণে অনেক সময় দলীয় বিভক্তি তৈরি হলেও জাতীয় নির্বাচনের সময় তা থাকবে না। যারা প্রকৃত অর্থে পরিক্ষিত ভাবে আ’লীগ করে তারা কখনো দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ থাকে না। খুব শীঘ্রই আমরা বন্দরে আ’লীগ নেতাদের সাথে বসবো। শেখ হাসিনা প্রশ্নে আমরা সবাই এক।
 

 


তবে রাজনীতি পর্যবেক্ষকেরা মনে করেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনের যে কয়েক মাস বাকি আছে, তার মধ্যে এসব দ্বন্দ মেটানো কঠিন হবে দলটির জন্য। তবে আ’লীগের শীর্ষ নেতারা বসে এটা সমাধান করলে দলের শৃঙ্খলা আরো দামী হয়ে উঠবে।

 


 
উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন নেতা জানিয়েছেন,সিটি এলাকার কয়েকজন নেতা তাদের নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য উপজেলা আ’লীগের ভেতরে কোন্দল বা দলাদলির সুযোগ তৈরী করে দিচ্ছে। এতে করে উপজেলা আ’লীগের এক নেতার পক্ষপাতমূলক আচরণ, পছন্দের লোকেদের প্রাধান্য দেয়া এবং দলের ত্যাগী কর্মীদের প্রতি অবহেলার অভিযোগ সামনে এসেছে।

 

 

এমনকি আওয়ামী লীগের অনেক নেতা দলের নাম ব্যবহার করে ধনী হয়ে উঠেছে,কিন্তু দলের কর্মসূচীতে তারা যান না,দলের কর্মীদের মূল্যায়ন করেন না। আবার সিটি এলাকার বাসিন্দা হয়ে পদ পদবী নেই এমন নেতাও উপজেলা আ’লীগের বদনাম বলে বিভাজন সৃষ্টি করেছে। আমরা চাই দলের স্বার্থে অন্তত সকলে মিলেমিশে সাংগঠনিক কাজ করতে। এতে দলীয় শীর্ষ নেতাদের আন্তরিকতা জরুরী।
 

 


এ ব্যাপারে বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগ সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা এমএ রশিদ বলেন, উপজেলা আ’লীগে কোন বিভাজন নেই। আ’লীগ একটি সুশৃঙ্খল দল। কর্মীদের মধ্যে অভিমান থাকতে পারে। দিনশেষে সবাই এক।
 

 


বন্দর উপজেলা আ’লীগ সহ সভাপতি ও মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী এমএ সালাম বলেন, উপজেলা আ’লীগে কোন বিভাজন নেই। তবে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে তারা উপজেলা আ’লীগের কেউ না।

 

 

যুগে যুগে মোস্তাক ছিল। মোস্তাকরা থাকবে। তবে আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। যত ষড়যন্ত্রই হউক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পূণরায় নির্বাচিত না করা পর্যন্ত আমরা মাঠে আছি এবং থাকব।  
 

এই বিভাগের আরো খবর