সোমবার   ০৪ মার্চ ২০২৪   ফাল্গুন ২১ ১৪৩০

নারীর প্রতি সকল সহিংসতা-শোষণ-বৈষম্য রুখো

বীর মুক্তিযোদ্ধা লক্ষ্মী চক্রবর্তী

প্রকাশিত: ৮ মার্চ ২০২৩  

 

# আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ডাক: নারীকে এগিয়ে নেবে তথ্যপ্রযুক্তি


বিশ্বজুড়ে নারীরা হাজার বছর ধরে নানা শোষণ বৈষম্য বঞ্চনা ও নির্যাতনের সম্মুখীন। নারী মুক্তির আন্দোলন নানারূপে নানা দেশে বিকশিত হয়েছে। এই  লড়াইয়ে শুধু নারীরা শামিল হয়নি,  সেই সাথে অনেক  সমাজ সচেতন প্রগতিশীল পুরুষ ও এই সংগ্রামে অবদান রেখে চলেছে।  

 

 

আমাদের দেশেও নারী মুক্তি আন্দোলন তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য দ্বারা আত্মপ্রকাশ করেছে। দেশের অর্ধেক অংশ নারী সমাজ বর্তমানে  নানা শোষণ বৈষম্য ও পুরুষতান্ত্রিক নিপীড়নের শিকার। নির্যাতন নানা ধরনের ধর্ষণ, ফতোয়াবাজি, তালাক, যৌতুক প্রথা, এসিড নিক্ষেপ, নারী পাচার, যৌন নিপীড়ন এমনকি নিজ গৃহেও নারীরা নিরাপদ নয়।

 

 

দেশের শ্রমজীবী নারীরা কর্মক্ষেত্রে নানা বৈষম্যের শিকার। মৌলবাদী প্রতিক্রিয়াশীল চক্র নারীদের দেয়ালের চারপাশে বন্দী রাখার তৎপরতায় লিপ্ত। বর্তমানে বাংলাদেশের নারীরা ক্রমশই সচেতন হচ্ছে। প্রকৃত মুক্তির লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে নারী সমাজ।

 

 

সম্পত্তিতে সম-অধিকার প্রতিষ্ঠা অভিন্ন পারিবারিক আইন চালু, উত্তরাধিকার অভিভাবকত্ব, বিবাহ ও বিবাহ বিচ্ছেদ, ইত্যাদির ক্ষেত্রে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নারী পুরুষের সমতাভিত্তিক আইন কর্মক্ষেত্রে মজুরি সহ সকল বৈষম্য দূর করা প্রয়োজন বলে মনে করি।মিডও দলিলের পূর্ণ অনুমোদন ও বাস্তবায়ন, নারী উন্নয়ন নীতিমালার বাস্তবায়ন জাতীয় সংসদে নারীদের সরাসরি নির্বাচনী ব্যবস্থা চালু করা সহ সকল পর্যায়ে ৩৩% নারী রাখার বিধান চালু করতে হবে। 

 

 

নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি বিদ্যমান সকল বৈষম্য মূলক আইন সংস্কার গৃহস্থালী কাজে নারীর শ্রমের উপযুক্ত মর্যাদা ও সামাজিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে। আজ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস বর্তমানে সারা পৃথিবীতে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে।

 

 

প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থায় নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম একটি চলমান প্রক্রিয়া। ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস নারী মুক্তি আন্দোলনের প্রতিকী দিন হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে। সামাজিক বৈশ্বিক অবস্থা পরিবর্তনের ফলে শাসক গোষ্ঠী ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশে নিজেদের প্রয়োজনমতো সংযোজন বিয়োজন করে উপস্থাপনের ধরন পরিবর্তন করেছে।

 

 

কোন কোন ক্ষেত্রে বিকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরছে। নারী শ্রমিকদের ১৮৫৭ সালে শুরু হওয়া আন্দোলন নারীর রাজনৈতিক তথা ভোটাধিকারের আন্দোলনে পরিণত হয়। সেই লড়াই শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক নারী দিবসের স্বীকৃতি অর্জিত হয়েছে। 

 

 

১৮৫৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুচকারখানায় নারী শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির শ্রম ঘন্টা ১৬ থেকে ১০ ঘণ্টায় বাস্তবায়িত করার দাবিতে এবং কর্ম পরিবেশ উন্নয়নের দাবিতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।  ১৯০৮ সালের ৮ মার্চ আমেরিকার শ্রমজীবী নারীরা চূড়ান্ত বিক্ষোভ আন্দোলনের সূচনা করে। যার ফলে ভোটের ভোটাধিকার আন্দোলন চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছে  দেয় নারীদের।  

 

 

১৯১০ সালে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিন এর প্রস্তাবে সর্বসম্মতিক্রমে ৮ মার্চ নারী দিবস পালন করার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।  এরপর পরবর্তীতে সমাজতান্ত্রিক দেশ সমূহ এবং শ্রমিক সংগঠনসমূহ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন শুরু করে। ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘ ৮ মার্চকে আনুষ্ঠানিকভাবে নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। 

 

 

নারী মুক্তির জন্য পুঁজিবাদ ও পুরুষতন্ত্র উভয়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালাতে হবে। আর এ কারণেই পুঁজিবাদী বিরোধী লড়াই এবং নারী মুক্তি আন্দোলন একই সুতোয় গাঁথা। মুক্ত মানবের মুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের দেশে  নারী পুরুষের সম্মিলিতভাবে নারী মুক্তি আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে হবে। 

 

 

বহির্বিশ্বের সাথে বাংলাদেশের নারীরাও উন্নত যাত্রায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের  মাধ্যমে মেলবন্ধন সৃষ্টি করবে, বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তা চেতনায় নারী মুক্তির অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করবে এই প্রত্যাশা  রইলো। লেখক: বীর মুক্তিযোদ্ধা লক্ষ্মী চক্রবর্তী

এই বিভাগের আরো খবর