শুক্রবার   ০৩ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ১৯ ১৪২৬   ০৯ শা'বান ১৪৪১

নারায়ণগঞ্জ শহরের সড়কে সড়কে টহল দিচ্ছে সেনাবাহিনী

প্রকাশিত: ২৪ মার্চ ২০২০  

যুগের চিন্তা রিপোর্ট : নারায়ণগঞ্জ শহরের সড়কে সড়কে টহল দেয়া শুরু করেছে সেনাবাহিনী। এছাড়া জেলার পাঁচটি উপজেলার সড়ক-মহাসড়কগুলোতেও টহল দেয়া শুরু করেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। 

 

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো.জসিম উদ্দিন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম, সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ, নাসিক সিও আবুল আমিনসহ জেলার উচ্চ পদস্ত কর্মকর্তাদের সাথে সেনাবাহিনীর সদস্যদের সাথে বৈঠক শেষে কাজে নামে সেনাবাহিনী। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট  ও জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন জানান, ‘জেলার ৫টি উপজেলায় সেনাবাহিনীর একটি করে টিম মোতায়েন করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ শহরে সদর উপজেলায় মোতায়েন করা সেনাবাহিনীর টিম কাজ করবে।এছাড়া অসাধু ব্যবসায়ীরা যদি দ্রব্যমুল্যের দাম বাড়িয়ে জনদুভোর্গ সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয়ে তদারকি করবে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করবে তারা।’

করোনা সংক্রান্ত এই সভার পরপরই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে থেকে বেরিয়ে শহরের চাঁনমারী, রাইফেল ক্লাব, চাষাঢ়া, গ্রিণ্ডলেজ ব্যাংক মোড় সড়কসহ বঙ্গবন্ধু সড়কের নানা জায়গার সড়কে টহল দিতে দেখা যায় সেনাবাহিনীর সদস্যদের। 

করোনা মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনকে সহায়তা করতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেলা শহরগুলোতে সামাজিক দুরুত্ব ও সতর্ক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নারায়ণগঞ্জে জেলা প্রশাসনের সাথে এক বৈঠক শেষে কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী। 

সোমবার (২৩ মার্চ) এই ঘোষণা দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সামাজিক দূরত্ব ও সতর্কতা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনকে সহায়তা করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়োজিত করার কথা জানান তিনি। 

 

সোমবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনকে সহায়তা করতে সারাদেশে দায়িত্ব পালন করবে  সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) থেকে সশস্ত্র বাহিনী দায়িত্ব পালন শুরু করবে। 

এতে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের বাংলাদেশে সংক্রমণ, বিস্তৃতির সম্ভাব্যতা ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বেসামরিক প্রশাসনের অনুরোধে বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলো এবং উপকূলীয় এলাকায় ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী নিয়োজিত থাকবে। আজ থেকে বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সামাজিক দূরত্ব ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থাগ্রহণের সুবিধার্থে সশস্ত্র বাহিনী তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে।

 

এছাড়া জানানো হয়, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে সশস্ত্র বাহিনী করোনাভাইরাস সংক্রান্ত  রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা, সন্দেহজনক ব্যক্তিদেও কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা পর্যালোচনা করবে। বিশেষ করে বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদেও কেউ নির্ধারিত কোয়ারেন্টিনের বাধ্যতামূলক সময় পালনে ত্রুটি ও অবহেলা করছে কিনা তা পর্যালোচনা করবে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা স্থানীয় সেনা কমান্ডারের কাছে অবস্থা পর্যালোচনার জন্য আইন অনুসারে সশস্ত্র বাহিনীর নিকট অনুরোধ জানাবে।

 

নৌবাহিনী উপকূলীয় এলাকায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় কাজ করবে। বিমানবাহিনী হাসপাতালের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী ও জরুরি পরিবহন কাজে নিয়োজিত থাকবে।

এদিকে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ভিডিও বার্তায় গণপরিবহন বন্ধের কথা জানান।

বার্তায় তিনি বলেন, সরকার দেশের মানুষ, যাত্রীসাধারণ, গাড়ির মালিক শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সবার জ্ঞাতার্থে জানানো যাচ্ছে আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল ২০২০ পর্যন্ত সারাদেশে গণপরিবহন লকডাউন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ওষুধ, জরুরি  সেবা, জ্বালানি, পচনশীল পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। পণ্যবাহী যানবাহনে কোনও যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। এই ঘোষণার পরপর নারায়ণগঞ্জের গণপরিবহনগুলো একেবারেই কম দেখা যায়। 

 

এছাড়া করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে মঙ্গলবার বিকাল থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত সারাদেশে সব ধরনের যাত্রীবাহী  নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্ত নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ)।

বিআইডাব্লিউটিএ-এর পরিচালক (ট্রাফিক) মো. রফিকুল ইসলাম তালুকদার মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সারাদেশে সব যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে, পণ্যবাহী কার্গো চলাচলের ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে করোনাভাইরাসে সংক্রমণ ঠেকাতে সকল লোকাল, কমিউটার ও মেইল ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে বাংলাদেশ  রেলওয়ে। সোমবার মধ্যরাত থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।

 

এর আগে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল সারাদেশে ছুটি ঘোষণা করে সরকার। তবে এ সময়ে খোলা থাকবে হাসপাতাল ও জরুরি সেবা। এছাড়া আগামী ২৫ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের সুপারমার্কেটগুলোসহ সব দোকান বন্ধ থাকবে। তবে কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান এবং নিতপ্রয়োজনীয় পণ্যেও দোকান খোলা থাকবে।

এছাড়া গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। 

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে সোমবার পর্যন্ত করোনাভাইরাসে ৩৩ জন আক্রান্তের তথ্য জানিয়েছে সরকার। যাদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং পাঁচজন সুস্থ হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩ জন। 
 

এই বিভাগের আরো খবর