বুধবার   ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ৭ ১৪২৬   ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

না.গঞ্জে ‘খাদ্য ঘাটতি’ সাড়ে ৩ লাখ মেট্রিক টন 

প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

যুগের চিন্তা রিপোর্ট : শিল্পাঞ্চল, জনসংখ্যার আধিক্য, আবাদী জমির পরিমাণ কম থাকায় আবাদের পরিমাণ কম হওয়ায় উৎপাদিত খাদ্য শস্যের হিসাব অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ জেলাকে খাদ্য ঘাটতির জেলা হিসেবে চিহ্নিত করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। ৩৩ লাখ ৪ হাজার ৩৬৮ জন জনসংখ্যার এই জেলায় ২৯ লাখ ৪০ হাজার ৮৮৮ জন খাদ্য গ্রহণকারী জনসংখ্যার (১১ ভাগ শিশু বাদে) মোট খাদ্য চাহিদা (জনপ্রতি দৈনিক ৪৫৩ দশমিক ৬০ গ্রাম)  ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৯০৫ মেট্রিক টন। জেলায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চাল ও গমের মোট উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬৯৫ মেট্রিক টন। গেলো অর্থবছরের উৎপাদিত খাদ্য শস্যের হিসাব অনুযায়ী জেলায় খাদ্য ঘাটতি রয়েছে ৩ লাখ ৫১ হাজার ২১০ মেট্রিক টন। ‘এছাড়া খাদ্য মজুদেও গত বছরের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে এই জেলা। 

 

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে (৩০ জুন) পর্যন্ত খাদ্য (চাল, গম, ধান) মজুুদ ছিলো ৫৫ হাজার ৩৮৩ মেট্রিক টন। চলতি অর্থবছরের বছরের হিসাব অনুযায়ী (৮ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত জেলায় খাদ্য মজুদ রয়েছে ৫৫ হাজার ৭৮৯ মেট্রিক টন। তবে শিল্পাঞ্চল হওয়ায় খাদ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে এমন জেলা থেকে খাদ্যের মজুদ বাড়িয়ে এবং বেসরকারি উদ্যোগে ঘাটতি পূরণ করা হয় বলে জানিয়েছেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড.মো.গোলাম মোস্তফা জানান, ‘নারায়ণগঞ্জ জেলার অধিকাংশই শিল্পাঞ্চল। জনসংখ্যার অনুপাতে খাদ্য চাহিদা নির্ধারণ করা হয়। আর তাই নারায়ণগঞ্জে খাদ্য ঘাটতির জেলা। ভয়ের কোন কারণ নেই। যেসব এলাকায় খাদ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে সেখান থেকে এনে খাদ্য ঘাটতি পূরণ করা হয়।’ 

 

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো.মাইনুদ্দিন বলেন, ‘স্থানীয় এলাকাগুলো থেকে আমরা ধান, গম, চাল সংগ্রহ করি। তবে জেলার গুদামগুলোতে মজুদ খাদ্যের অধিকাংশই উত্তরাঞ্চলের জেলা থেকে সংগ্রহ করা হয়।’  

 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ৬৯৩ বর্গকিলোমিটারের এই জেলায় এখনো ৮২ হাজার হেক্টর ফসলি জমি, যাতে চাষ হয় নানা রকম ফসলাদি। ফসলি জমির মধ্যে ৪৬ হাজার ৬৩৪ হেক্টর আবাদী জমি, এক ফসলী জমির পরিমাণ ১৭ হাজার ১৮১ হেক্টর, দুই ফসলী জমির পরিমাণ ২১ হাজার ৩৩৫ হেক্টর এবং তিন ফসলি জমির পরিমাণ ৭ হাজার ৩৯৭ হেক্টর। ফসলের নিবিড়তা ১৭৫ ভাগ। এসব ফসলি জমিতে মৌসুম ভিত্তিক চাষাবাদের হিসাবে ৭২ ভাগ রবি শস্য, ২৩ ভাগ খরিপ-১ শস্য এবং ৫ ভাগ খরিপ-২ শস্য উৎপাদিত হয়। 

নারায়ণগঞ্জে গেলো অর্থবছরে ৬ হাজার ৭২৩ মেট্রিক টন কন্দাল ফসল (মুখী কচু, ওলকচু, মিষ্টি আলু, গাছ আলু, লতিরাজ, পানিকচু), ৫ হাজার ৭৭০ মেট্রিক টন মসলা জাতীয় ফসল (মরিচ, পিয়াজ, রসুন, আদা, হলুদ, ধনিয়াপাতা),  জেলায়  এবার ৩ লাখ ৬ হাজার ৫৪১ মেট্রিক টন সবজি (বেগুন, টমেটো, সীম, ফুলকপি, বাধাকপি, মুলা, লাউ, চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়া, পটল, বরবটি, শসা, ঝিঙ্গা, ডাটা, গোলআলু, পানিকচু, মানকচু, গাজর ইত্যাদি) উৎপাদন হয়েছে। এরমধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার ৮৪৪ মেট্রিক টন গোল আলু, ৫৭ হাজার মেট্রিক টন ফুলকপি ও বাধাকপি, ২৩ হাজার মেট্রিক টন চালকুমড়া ও মিষ্টিকুমড়া উৎপাদন হয়েছে। 

 

এর মধ্যে ৩ হাজার ৮২৯ টন পিয়াজ, ১ হাজার ৮১ মেট্রিক টন রসুন উৎপাদন হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জেলায় ৪০ হাজার ৪০ মেট্রিক টন বিভিন্ন ফলের উৎপাদন হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে ফলের মধ্যে আম, কাঁঠাল, জাম, লিচু, পেয়ারা, কলা, পেঁপে, কুল, নারিকেল, সুপারি, তাল, খেজুর, তরমুজ, কমলা, মাল্টা, জলপাই, আনারস, আমড়া, আমলকি, কামরাঙ্গা, বাতাবি লেবু, লেবু, বেল, কদবেল, সফেদা, আতা, শরীফা, ডেওয়া, ডালিম, লটকন, কাউফল, জামরুল, করমচা, চালতা, বিলাতি গাব, বাঙ্গী, তেঁতুল, অরবরই, বিলম্বি, স্ট্রবেরী, ড্রাগন ফুট, দেশী গাব চাষ হয় বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

 

তিন ধরণের গুদামে সংরক্ষণ :

তিন ধরণের গুদামে সংগ্রহকৃত খাদ্য সংরক্ষণ করা হয় বলে জানিয়েছেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো.মাইনুদ্দিন। তিনি বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জে ১টি সাইলো, বন্দরে ১টি সিএসডি (সেন্ট্রাল সাপ্লাই ডিপো) ও রূপগঞ্জের মুড়াপাড়ায়, সোনারগাঁয়ে ১টি, আড়াইহাজারের গোপালদীতে ১টিসহ মোট ৩টি এলএসডি (লোকাল সাপ্লাই ডিপো) এই তিন ধরণের গুদামে খাদ্য সংরক্ষণ করা হয়। এছাড়া অনেকগুলো খাদ্য গুদামের অবস্থা নাজুক। বৃষ্টি হলে পানি পড়ে খাদ্য নষ্ট হয়। নাজুক থাকা গুদামগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হবে, নতুবা সংস্কার কিংবা নতুন করে তৈরির উদ্যোগ নেয়া হবে। 

 

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো.মাইনুদ্দিন জানান, ‘জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়টি অস্থায়ী। নতুন ভবনের জন্য পিডব্লিউডি একটি প্রজেক্ট করেছে, যেখানে সরকারি সবগুলো দপ্তর একই সাথে থাকবে। সেটি হলে কার্যালয়ের সমস্যাটি কেটে যাবে। গাড়ি সংকট না থাকলে মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম চালাতে সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছেন মাঠ কর্মকর্তারা। এ সমস্যা থেকে উত্তোরণের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যেগ নেয়া হয়েছে। ফুড অফিসারদের মোটরসাইকেল দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, আশা করছি অতি দ্রুত তারা সেটি পেয়ে যাবে।’ 


 

এই বিভাগের আরো খবর