বুধবার   ২৭ মে ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪২৭   ০৪ শাওয়াল ১৪৪১

নগরীর প্রধান ৩ সড়কেই বেহাল দশা, মুক্তি মিলছে না সহসা

প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০১৮   আপডেট: ১৪ মে ২০১৮

মাহফুজ সিহান (যুগের চিন্তা ২৪) : দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নারায়ণগঞ্জ নগরীতে প্রবেশের প্রধান তিন সড়ক ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড, চাষাঢ়া-শিমরাইল সড়ক ও চাষাঢ়া-পাগলা- পোস্তগোলা সড়ক বেহাল দশায় পরিনত হয়েছে। এ ছাড়া সড়কগুলোতে চলছে খোঁড়াখুঁড়ির মহোৎসব। নগরী থেকে বের হওয়ার প্রতিটি রাস্তাই এখন চলাচলের অনুপযুক্ত।

 

রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও সংস্কারের অভাবে নগরজুড়ে উড়ছে ধুলোবালি আর সামান্য বৃষ্টিতে পানি জমে ঘটছে দূর্ঘটনা, আর যানজট তো নৈমত্তিক বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে এখন এসব রাস্তায় চলাচল করা নগরবাসীর জন্য সবচেয়ে বড় দুর্ভোগ। এর মধ্যে চাষাঢ়া-সাইনবোর্ড লিঙ্করোড পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার ১০০ মিটার সড়কের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) । অপরদিকে শিমরাইল চিটাগাংরোড থেকে হাজীগঞ্জ পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার সড়কের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে সওজ। ডাকবাংলো থেকে পাগলা হয়ে পোস্তগোলা সেতু পর্যন্ত রাস্তার কাজ দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) এর ঢাকা অঞ্চল।

 

চিটাগাংরোড থেকে হাজীগঞ্জ পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার সড়কের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) নারায়ণগঞ্জ। তবে হাজীগঞ্জ থেকে মেট্রোহলের সামনে সলিমুল্লাহ সড়ক পর্যন্ত রাস্তারও রয়েছে বেহাল দশা। এটুকু রাস্তার অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল অবস্থায় রয়েছে। বারবার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে নি। এ অংশের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা। রাস্তায় উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়েই কয়েক মাস ধরে নারায়ণগঞ্জের রাস্তাঘাট হয়ে পড়েছে বিপন্ন। আর এই উন্নয়ন কর্মাকান্ডের খপ্পরে নগরবাসী পড়েছেন মহাবিপাকে। শুধুমাত্র শুষ্ক মৌসুমেই এসব উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করার নিয়ম থাকলেও কেউ মানছে না নিয়মনীতি। যাতে নগরবাসীর ভোগান্তি কিছুটা কমানো যায়। সরেজমিন গত কয়েকদিন ধরে চাষাঢ়া-সাইনবোর্ড লিংক রোডের চাষাঢ়া, নারায়ণগঞ্জর রাইফেলস ক্লাবের সামনে, আর্মি মার্কেটের সামনে, লামাপাড়া, শিবুমার্কেট, ফতুল্লা স্টেডিয়ামের সামনে, জালকুড়ি, ভুইগড়, চাষাঢ়া থেকে সলিমুল্লাহ সড়ক, মেট্রোহল, খানপুর ৩০০শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে, বরফকল, ড্রেজার পরিদপ্তর, এছাড়া এ সড়কের এ অংশের হাজীগঞ্জ, আইটিস্কুল, পাঠানটুলী, চৌধুরীবাড়ি, জেলা পরিষদের ডাকবাংলো থেকে অক্টো অফিস, পঞ্চবটি, পাগলা সড়কগুলো ঘুরে দেখা গেছে, এসব এলাকার রাস্তাগুলো বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্ত তৈরী হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতে পানিবদ্ধতা, দুর্বল নির্মাণ ও সংস্কারকাজ, পরিকল্পনাহীন রাস্তার উন্নয়নকাজ ও সঠিকভাবে পরিদর্শনের অভাবে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকামুখী ৩টি সড়কই ভাঙ্গাচোরা হয়ে পড়ে আছে।

 

যা প্রায় সারাবছরই নগরবাসীর দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিটি সড়কেরই একই হাল। বাইরের মূল রাস্তা ও তার আশপাশের অলিগলির অনেক রাস্তাই ভাঙ্গাচোরা। প্রায় প্রতিটি সড়কেই ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অবশ্য কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা এসব ভাঙ্গা রাস্তা অতিদ্রুতই সংস্কারে বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করেছে, যা চলমান রয়েছে। তবে নতুন সকল রাস্তা সংস্কার করা হলে রাস্তার বর্তমান চেহারাই পাল্টে যাবে। তবে কবে নাগাদ এসব রাস্তায় চলাচলে নাগরিক দুর্ভোগ লাঘব হবে তা কেউ বলতে পারেন না। সরেজমিনে দেখা যায়, মূল সড়কের মাঝখান দিয়ে একটি লেনের মতো করে সোজা রাস্তা বরাবর খনন কাজ চলছে। রাস্তার মাঝে কাটা- ছেঁড়া হলেও সড়কের দু’পাশ দিয়ে গাড়ি চলছে। মূল সড়ক ছোট হয়ে যাওয়ায় বেঁধেছে তীব্র যানজট। এ যানজট ছড়িয়ে পড়েছে গোটা নগরীতে। এছাড়া রাস্তা পার হতে পথচারীদের বেগ পেতে হচ্ছে। রাস্তা ছোট হওয়ায় ধীরগতিতে গাড়ি চলছে আবার কখনো থেমে আছে। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ১০ মিনিটের রাস্তায় সময় লাগছে প্রায় এক থেকে দুই ঘণ্টা। মূলত নিয়মিত সংস্কার না করায় এসব গর্ত থেকে প্রতিনিয়তই বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। এসব গর্তে পড়ে রাস্তায় চলাচলকারীদের সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দিনে-রাতে ঘটছে প্রতিনিয়ত নানা দুর্ঘটনা। এছাড়া সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তায় পানি জমে যাওয়ার কারণে পুরনো গর্তগুলো বোঝার কোন উপায় না থাকায় রিকশা, ভ্যান, সিএনজি অটোরিকশাসহ মিনিবাসগুলোকে রাস্তায় আটকে থাকতে ও নানা দুর্ঘটনায় পড়তে দেখা যায়, যার শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে ঢাকামুখী তিনটি সড়কের বেহালদশা মিডিয়ায় তুলে ধরলেই কেবল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। এর বাইরে নিজ উদ্যোগে এসব রাস্তার সংস্কারকাজের প্রয়োজনীয়তা খুবই কম অনুভব করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

সড়ক মেরামতে বা সংস্কারে প্রতি বছর বিপুল অর্থ বরাদ্দ থাকলেও সঠিকভাবে এসব অর্থের ব্যবহার না করায় সড়কগুলো সংস্কারের কিছুদিনের মধ্যেই ভেঙ্গে পুরনো অবস্থায় ফিরে যায়। ফলে সৃষ্টি হয় আবার গর্ত। আর এসব গর্তে পানি জমে প্রতিনিয়তই গর্তগুলো বড় আকার ধারণ করে। নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড, নারায়ণগঞ্জ-চিটাগাংরোড, ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ সড়কে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে যানবহন চলাচল করছে। নারায়ণগঞ্জের প্রধান সড়কগুলোর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে একাধিক সংস্থা। এর মধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা) এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন রয়েছে। চাষাঢ়া-সাইনবোর্ড লিংক রোডের সংস্কার কাজ নিয়ে সড়ক ও জনপথের (সওজ) এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো.আব্দুস সাত্তার শেখ বলেন, নগরীর চাষাঢ়া থেকে সাইনবোর্ড লিঙ্ক রোড পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার ১০০মিটার রাস্তার মধ্যে আপাতত সাইবোর্ড থেকে ৭ কিলোমিটার পর্যন্ত রাস্তার একপাশের ওভারলেপের কাজ হয়েছে। কাল থেকে মিলিং মেশিনে কাজ শুরু হবে। তবে এর মধ্যে ২৮০ মিটার রাস্তার কাজ বাদ রয়েছে। চাষাঢ়া অংশেও আগামীকাল থেকে কাজ শুরু হবে।

 

তবে এক্ষেত্রে চাষাঢ়া অংশে একপাশে সিটি করপোরেশনের কাজ করছে বিধায় তার জন্য রাস্তায় জলাবদ্ধতা তৈরী হয়েছে। ড্রেনের কাজ চলছে বিধায় আমরা কষ্ট করে কাজ বন্ধ রেখেছি। সিটি করপোরেশন ড্রেন না করা পর্যন্ত এটা এমনভাবেই থাকবে। কাজ শেষ হতে কত দিন সময় লাগতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাস্তার লিঙ্ক রোডের একপাশের কাজ আমরা ১৫ দিনের মধ্যে করে ফেলতে পারবো। চিটাগাংরোড থেকে হাজীগঞ্জ পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে সওজ নারায়ণগঞ্জ। এ ব্যাপারে সওজের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ আশফিয়া বেগম বলেন, অচিরেই এ অংশের সংস্কার কাজ শুরু হবে। এটা সামনের সপ্তাহ থেকেই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা। হাজীগঞ্জ থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত সড়ক দেখভালের দায়িত্ব সম্ভবত সিটি করপোরেশনের। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এএফএম এহতেশামূল হক বলেন, সংস্কারকাজ নিয়মিতভাবেই চলছে। যার যার রাস্তা অনুযায়ী রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। তবে নারায়ণগঞ্জ চাষাঢ়া জেলা পরিষদের ডাক বাংলা থেকে পঞ্চবটি ফতুল্লা হয়ে পোস্তগোলা সেতু পর্যন্ত সড়ক রক্ষণা বেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) ঢাকা বিভাগ।

 

এ ব্যাপারে জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী ইরাজ উদ্দিন দেওয়ান বলেন, আমি যতদূর জানি এ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে সড়ক ও জনপথ। আমাদের জেলা পরিষদের এখানে কিছু করণীয় নেই। এছাড়া তিনি বলেন, হাজীগঞ্জ-মেট্রোহল পর্যন্ত সড়কেও রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের দায়িত্ব জেলা পরিষদের নয়। নারায়ণগঞ্জের সড়কগুলোতে খোঁড়াখুঁড়ি করা হচ্ছে। এসব সড়কের কিছু অংশের কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। আবার কিছু সড়কে এখনও খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। অনেক সড়কের অর্ধেক কাজ করে ফেলে রাখা হয়েছে। অনেক সড়কে আবার কোন কাজই করা হয়নি। ফলে অধিকাংশ সড়কের অবস্থাই নাজুক। নাগরিক ভোগান্তি কমাতে নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে বের হওয়ার ঢাকার সকল রাস্তাগুলোর সংস্কার করা নাগরিকদের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। পাশপাশি সকল রাস্তা সংস্কারের সময় এর স্থায়িত্ব ও গুণগতমান নির্ণয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও গুরুত্ব দেয়া উচিত বলে মনে করেন নগরবাসী।

এই বিভাগের আরো খবর