মঙ্গলবার   ১২ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ২৮ ১৪২৬   ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

নগরীর অবশিষ্ট দু’টি সিনেমা হলও বন্ধ হওয়ার পথে

প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০১৯  

বিশেষ প্রতিনিধি (যুগের চিন্তা ২৪) :  নারায়ণগঞ্জ শহরের শেষ দু’টি সিনেমা হলও বন্ধ হওয়ার পথে। এই হলগুলোর জমিতে গড়ে উঠছে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন। ভালো মানের ছবির অভাবে দর্শক কমে যাওয়ার কারণেই, এমনটা হচ্ছে বলে দাবি, হল মালিক ও সংশিষ্টদের। সিনেমা হল বাঁচাতে সরকারের সহযোগিতা  চেয়েছেন তারা। 


নারায়ণগঞ্জ শহরে কয়েক বছর আগেও সিনেমা হল ছিল ৮টি। প্রায় আধা কিলোমিটার দুরত্বে ছিল গুলশান, নিউ  মেট্রো, ডায়মন্ড, হংস, আশা ও মাসা সিনেমা হল। আর প্রায় এক কিলোমিটার দুরত্বে ছিল দুইটি হল রূপালী ও লাইট হাউজ। কিন্তু দর্শক ও ব্যবসা না থাকায় এরইমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে ৬টি হল। অবশিষ্ট গুলশান ও নিউ মেট্রো হল দুইটিও বন্ধ হবার উপক্রম।  


বন্ধ হওয়া হলগুলোর জায়গায় গড়ে উঠেছে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন। সম্প্রতি বন্ধ হয়ে যাওয়া আশা ও মাসা সিনেমা হলও ভেঙে ফেলার কাজ চলছে। হল মালিকরা বলছে, মোটা অংকের টাকা দিয়ে ছবি এনেও নানা খরচ মিটিয়ে হল চালানো সম্ভব নয়। 


গুলশান সিনেমা হলের মালিক ফয়েজ উদ্দিন লাভলু বলেন, ‘এতো বড় হল চালিয়ে এখন আমরা ভাত খাওয়ার পয়সা পাচ্ছিনা। বাধ্য হয়ে আমরা কি করবো। আমাদের হল বন্ধ করে দিতে হবে।অথচ আমরা যদি হল ভেঙে এখানে একটা মার্কেট করি তাহলে আমাদের বড় অঙ্কের একটা এমাউন্ট আমরা মাসে ইনকাম করতে পারবো।’


এদিকে, ভালো মানের ছবির অভাবে হলগুলোতে দর্শক কমে যাচ্ছে বলে জানায় হল সংশ্লিষ্টরা।  নিউ মেট্রো হলের টিকেট বিক্রেতা বলেন, ‘এখন খুবই দুরাবস্থা। টিকে থাকাটাই খুব কঠিন।’


গুলশান হলের টিকেট বিক্রেতা জানান, ‘রাজ্জাক, শাবানা অভিনয়ে থাকাকালীন মানুষের ভীড় সামলানোই কঠিন ছিলো। তখন হলের মধ্যে চাকরীতে শান্তিতে ছিলো। স্ত্রী, সন্তান নিয়ে ভালোভাবে চলতে পারতাম।

 

কিন্তু এখন ভালো মানের ছবি যেমন নেই, তেমনি নেই দর্শকও। যার ফলে পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে চলতে হচ্ছে।’ শুধু শহর না সিদ্ধিরগঞ্জেও বন্ধ হয়ে গেছে তিনটি সিনেমা হল।
 

এই বিভাগের আরো খবর