শনিবার   ১৮ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ৪ ১৪২৬   ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

দেওভোগে হিজড়া দিয়ে মাদক বিক্রি ! 

প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি ২০২০  

যুগের চিন্তা রিপোর্ট : শহরে ও শহরতলীতে কতভাবেই না মাদক বিক্রি হচ্ছে। সম্প্রতি এমপি’র স্টিকার লাগানো প্রাইভেটকার থেকে ও মাদক উদ্ধার হয়েছে। ধরা পড়েছে ক’জন মাদক ডিলার।

 

শহরে ভিন্ন এক কৌশলে মাদক বিক্রি করছে একটি চক্র। হিজড়াদের  কেউ সন্দেহ করবেনা। এই তীক্ষè কৌশলে মাদক ব্যবসা করছে একটি চিহ্নিত চক্র। গুটি কয়েক হিজড়া রয়েছে ওদের দলে। 


হিজড়া সাথে নিয়ে মাদক ব্যবসা করছে চক্রটি। চক্রটি জ্বালিয়ে খাচ্ছে  দেওভোগবাসীকে। আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে শহরের দেওভোগ এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা। গুটি কয়েক মাদক বিক্রেতার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। 


চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকার এক মাদক দম্পতির সূত্র ধরে  দেওভোগ পানির ট্যাংকী, দাতা সড়ক,  বেপারীপাড়া, তাঁতীপাড়া, নাগবাড়ি, পশ্চিম দেওভোগ মাদ্রাসা, লিচুবাগ, শান্তিবাজার ও আমবাগান এলাকাসহ আশপাশে হাত বাড়ালেই মিলে সব ধরনের মাদকদ্রব্য। তবে নেশাগ্রস্তদের কাছে চাহিদা বেশি থাকায় মাদক বিক্রেতাদের প্রথম পছন্দ ইয়াবা। 

চেয়ারম্যান বাড়ির এলাকার মাদক দম্পতি সুমন খন্দকার ও রুমা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছে। 
দেওভোগ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দেওভোগ এলাকার চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকার মাদক বিক্রেতাদের সম্রাট হিসেবে পরিচিত সুমন খন্দকার ওরফে রুমার জামাই। 

স্বামী ও স্ত্রী মিলে নিজেদের বাড়িতেই মাদকের আস্তানা গড়ে তুলেছে। সুমন খন্দকার মাদক বিক্রি করতে গিয়ে এর আগেও বেশ কয়েকবার ধরা খেয়েছে। তার অবর্তমানে মাদকের ব্যবসা চালায় তার স্ত্রী রুমা। স্থানীয়রা জানিয়েছে, প্রতিদিনই তাদের বাড়িতে মাদকের হাট বসে। 


অপরিচিত লোকের আনাগোনায় তাদের বাড়িতে নানা জমজমাট থাকে। হিজড়াদেরও এই বাড়িতে সরব আনাগোনা। উঠতি বয়সী ছেলেদের মাদকের সাথে সম্পৃক্ত করতে বাড়িতে নানা অসামাজিক কার্যকলাপের ব্যবস্থাও রেখেছেন এই দম্পতি। প্রভাবশালী মহলের নেক নজর থাকায় আর প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা মাদকের জমজমাট ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। 


পুলিশের অভিযানে এরআগে সুমন খন্দকার ধরা পড়লেও প্রভাবশালী মহলই তাকে জামিনে বের করে নিয়ে আসে। পুরো দেওভোগ এলাকার মাদকের সবচেয়ে বড় কারবার দেখাশোনা  করে এই দম্পতি। 


স্থানীয়রা জানিয়েছে, কিশোর গ্যাং এর নেতৃত্ব দেয় আকাশ নামে এক ব্যক্তি। তার নেতৃত্বে আরো ৮/১০ জনের একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে বাইতুল নূর জামে মসজিদের পাশে এক ছাপাখানায় মূলত মাদকের লেনদেন হয়। সেখানেই তাদের মূল আড্ডাখানা। তাদের এই সিন্ডিকেট ওই মহল্লার ছাপাখানায় বসে মাদক সেবন ও বিক্রি বাণিজ্য করে থাকে। 


অজ্ঞাত কারণে সেটির ব্যাপারে পুলিশের কাছে তথ্য থাকলেও ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। এছাড়া মিনু রাসেল ও সালাউদ্দিনের ছেলে আলাউদ্দিনের নেতৃত্বেও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের আলাদা আলাদা সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তবে তাদের এসব কুকর্মের ব্যাপারে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাননা। 


একাধিক সূত্র জানায়, প্রভাবশালী এক কাউন্সিলরের লোক পরিচয় দিয়ে ওই এলাকায় মাদক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে এই সিন্ডিকেট। কখনো কেউ এর প্রতিবাদ করলে প্রাণনাশের হুমকি এবং মারধর করে এসব মাদক ব্যবসার সাথে যুক্ত ব্যাক্তিরা। 


স্থানীয়দের দাবি, এসব মাদক ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে প্রশাসনের কাছেও তথ্য রয়েছে। কিন্তু কি কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা এটি বোধগম্য নয়। যার দরুণ স্কুল-কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদেরও তারা আকৃষ্ট করছে মাদকের মরণ ছোবলে। অনতিবিলম্বে অত্র এলাকায় মাদকের বিস্তার ঘটনো ব্যক্তিদের প্রতি প্রশাসনের আরো কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকাবাসী।    


এ বিষয়ে একজন উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছি। যেসব জায়গা থেকেই আমাদের কাছে তথ্য আসছে সেখানেই আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। আমাদের এ অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং থাকবে।    


নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)  মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, এলাকাবাসীর প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আমরা এব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।    
 

এই বিভাগের আরো খবর