বৃহস্পতিবার   ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪   ফাল্গুন ১০ ১৪৩০

দুরূহ কাজে নেমেছেন শামীম ওসমান

ইউসুফ আলী এটম

প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০২৪  

 

সমাজ থেকে চিরতরে মাদক নির্মূল করতে চান নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের টানা ৩ বারের নির্বাচিত সাংসদ একেএম শামীম ওসমান। কাজটি অনেক দুরূহ এবং বিপদসঙ্কুল জেনেও সমাজকে মাদকমুক্ত করার সংগ্রামে নামার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। সংগ্রামে নামার আগে তিনি জনমত সংগ্রহের লক্ষ্যে জনসংযোগও শুরু করে দিয়েছেন।

 

ইতোমধ্যেই তিনি নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে এ বিষয়ে খোলামেলা মতবিনিময় করে সাংবাদিকদের সমর্থন ও সহযোগিতা চান। গত রোববার (২১ জানুয়ারি) নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের চেক বিতরণকালেও তিনি মাদক নির্মূলের সংগ্রামে সামিল হওয়ার জন্য সাংবাদিকসহ সকল পেশার মানুষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। 

 

এ লক্ষ্যে আগামী ২৭ জানুয়ারি শহরের ইসদাইরে নির্মিত একেএম শামসুজ্জোহা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সাথে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছেন তিনি। ওই সভায় প্রত্যাশা সংগঠনের নামে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। শামীম ওসমানের এ উদ্যোগের সাথে দ্বিমত পোষণ করার মতো লোক না থাকারই কথা।

 

কারণ দেখা গেছে, একটা পরিবারকে ধ্বংস করতে একজন মাদকসেবীই যথেষ্ট। যে পরিবারে একজন মাদকসেবী থাকে, সেই পরিবারের সবাই সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। এমনকি পবিারের কর্তাব্যক্তিটিও সমাজের কাছে অপাংত্তেয় হিসেবে গণ্য হন। তাই সমাজের প্রতিটি মানুষ মাদককে ‘না’ বলতে চান। শামীম ওসমানের এ উদ্যোগ সন্দেহাতীত ভাবে প্রশংসার দাবি রাখে। মাদক নির্মূলের সংগ্রামে তিনি সমাজের সব পেশার মানুষেরই সমর্থন পাবেন।

 

যেমনটি পেয়েছিলেন ১৯৯৯ সালের জুলাই মাসে ৪ শ’ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত টানবাজার যৌন পল্লী উচ্ছেদাভিযানে। এটি ছিলো দেশের বৃহত্তম এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় পতিতালয়ের একটি। এখানে প্রায় ৪ হাজার যৌনকর্মী পতিতাবৃত্তি পেশার সাথে জড়িত ছিলো। ওই সময় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের কনিষ্ঠতম সাসংদ শামীম ওসমান টানবাজার যৌন পল্লী উচ্ছেদের ডাক দিয়ে মাঠে নামেন। তিনি জনতা ও প্রশাসনের সক্রিয় অংশগ্রহণে একরাতেই নিষিদ্ধ পল্লীটি উচ্ছেদ করেন।

 

কিন্তু মাদক নির্মূলের অভিযান খুবই রিস্কি মনে করেন বোদ্ধামহল। কারণ, ২০০২ সালে অপারেশন ক্লিনহার্ট চলাকালে ২২ অক্টোবর প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সন্ত্রাস ও মাদকব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছিলেন তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব এড. তৈমূর আলম খন্দকারের আপন ছোটভাই ব্যবসায়ীনেতা সাব্বির আলম খন্দকার। তিনি তার বক্তব্যে মাদক ব্যবসায়ীদের নাম প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন।

 

তার এই বক্তব্য প্রদানের কয়েক মাস পার ২০০৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি মাসদাইর এলাকায় তার বাসার সামনে দুর্বৃত্তের গুলিতে তিনি নিহত হয়েছিলেন। তার হত্যাকান্ডের পর তার বড়ভাই মামলা করলেও আজ পর্যন্ত বিচার হয়নি। 

 

তবে শামীম ওসমান ‘আলাদা চীজ’। তিনি যা বলেন, তা করেও দেখান। টানবাজার পতিতালয় উচ্ছেদে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি নারায়ণগঞ্জ বাসীর কাছে সাহসী বীর হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে সমর্থ হয়েছিলেন। এখন বয়সের ভারে শরীরে কিছু অলসতার ছোঁয়া লেগেছে, এই-ই যা!

 

মাদক মানব সমাজের কাছে অভিশাপের বার্তা নিয়ে হাজির হয়। এই অভিশপ্ত মাদক নির্মূলে শামীম ওসমানের ডাকে সাড়া না দেয়ার কোন কারণ নেই। শামীম ওসমান যে আন্তরিকতা নিয়ে এর বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন, তা বিফলে যেতে পারে না বলেই বোদ্ধামহল মনে করেন। এস.এ/জেসি
 

এই বিভাগের আরো খবর