বুধবার   ২৭ মে ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১২ ১৪২৭   ০৪ শাওয়াল ১৪৪১

দুই-চাইরটা পোটলা দিয়া ছবি তুইলা গেট বন্ধ কইরা দেয়’

প্রকাশিত: ৫ এপ্রিল ২০২০  

শামীমা রীতা (যুগের চিন্তা ২৪) : ‘খাওন পামু কই ? যেনেই যাই ওইখানেই দুই-চাইরটা পোটলা দিয়া  বড় ক্যামেরায় কয়টা ছবি তুইল্যা গেট বন্ধ কইরা দেয়।’ এমন হাহাকার অন্ধ আলেম মিয়ার। ত্রাণের আশায় শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে চাষাঢ়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন অন্ধ আলেম মিয়াসহ আরো কয়েকজন। 

 

অন্ধ আলেম মিয়ার আকুতি, ‘প্রতিদিন বাইর অইতাছি। সকাল ৭টায় বাইরোইছি জায়গায় জায়গায় দৌড়াইতাছি। শুনছি এনে খাবার দিতাছে। তাই দাঁড়াইয়া আছি। দেখি আল্লাহ কপালে কি রাখছে? আলেম মিয়ার পাশেই মাথায় হাত দিয়ে বিষন্ন মুখ নিয়ে বসে আছে সত্তরোর্ধ্ব নুরজাহান বেগম। গত তিনদিন যাবৎ চিড়া আর পানি খেয়ে দিন কাটছে বৃদ্ধা নুরজাহান আর তার আট বছর বয়সী নাতনীর। 

 

ত্রাণ পেয়েছেন কি না জিজ্ঞেস করতেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে নুরজাহান বেগম বলেন, আল্লাহ্ আমাগো মত গরীব মাইনষে গো কপালে খাওন দেয় নাই। যা গো আছে তাগোরেই দিতাছে। গত সাতদিন যাবৎ কতজনের বাইত গেছি কিন্তু কেউ এক মুঠ খাওন দেয় নাই। দুগা চিরা (অল্প চিরা) আছিলো তাও শেষ।


এদিকে সন্ধ্যার আগেই বাড়িতে আলু আর চাল নিয়ে ফিরতে হবে রিকশা চালক মুরাদ হাজীর। তা না হলে রাতে বেলাও দুপুরের মত না খেয়ে কাটাতে হবে। 


মুরাদ হাজী বলেন, গত কয়েকদিন যাবৎ রাস্তায় লোকজন কম। রিকশা নিয়ে নামলেও ক্ষেপ পাওয়া যায় না। যাই পাই তা দিয়ে কোনোমত চাল-ডালের যোগান দেওন যায়।  

 

কোমড়ের ময়লা গামছাটার একটি অংশ নিয়ে কপালের ঘাম মুছতে মুছতে মুরাদ হাজী বলেন, আমাগো কপাল এতই খারাপ যে মাইনষের কাছে গিয়া যে হাত পাতমু তার কোনো সুযোগ নাই। শরমের চোটে (লজ্জায়) কয়বার যে লাইনে গিয়ে ফিরা আইছি। 


ওদিন গেছিলাম এক নেতার বাড়িতে গুইন্না ১০-১৫ টা ব্যাগ দিল কয়ডা ছবি তুইলা আমাগো পরে দিব কইয়া বাইর কইরা দিল। তারপর আর যাই নাই। মইরা যামু কিন্তু হাত পাতমু না। গরীব হইতে পারি কিন্তু আমাগোও তো সনমান (সম্মান) আছে। কি কন আফা!


করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে গত ২৬ মার্চ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ঘোষিত এ  ছুটিতে বাধ্য হয়ে গৃহবন্দী দিনপার করতে হচ্ছে খেটে খাওয়া পরিবারগুলোকে। 


একদিকে করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি অন্যদিকে খাদ্যের অভাব এ সকল দুঃস্থ পরিবারগুলোর জন্য মরার ওপর খারার ঘাঁ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিপাকে পড়েছে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোও। 


ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েও অনেকেই বেরিয়ে পড়েছে জীবিকার সন্ধানে। কিন্তু আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর কড়া নজরদারী ফলে তাও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। 


তাদের অভিযোগ এদিকে  হাতেগোনা যে দুই-একজন নেতা, জনপ্রতিনিধি, সংগঠন যাই সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন তার তুলনায় তাদের সেলফি আর পত্রিকায় ছবির পরিমাণই বেশি।
 

এই বিভাগের আরো খবর