বুধবার   ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪   ফাল্গুন ৮ ১৪৩০

দালাল সিন্ডিকেটে জিম্মি হাসপাতাল

রাকিবুল ইসলাম

প্রকাশিত: ৪ এপ্রিল ২০২৩  

 

# দালাল চক্র নিয়ে অভিযান চালালেও সুফল নেই

 

 

নারায়ণগঞ্জ শহরে সরকারি ভাবে দুটি হাসপাতাল রয়েছে। তার মাঝে খানপুরে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল, নিতাইগঞ্জে নগর ভবনের সাথে ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতাল। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, এই হাসপাতাল গুলো দালাল সিন্ডিকেটের কাছে রোগীরা জিম্মি হয়ে আছে। তবে অভিযোগের প্রেক্ষিতে একাধিক বার প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে দালাল চক্রদের গ্রেপ্তারও করে। কিন্তু তাতেও প্রতিকার মিলে নাই। কেননা তারা জামিনে বের হয়ে আবার এই পেশায় যোগদান করেন।

 

এদিকে এই হাসপাতাল ছাড়াও নারায়ণগঞ্জের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ঘিরে সক্রিয় দালাল সিন্ডিকেট রয়েছে। তাদের নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালের শয্যার ব্যবস্থা করা, সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি ভাড়া করে দেয়া নিয়ে সক্রিয় এ রকম একাধিক সিন্ডিকেট রয়েছে। হাসপাতাল ঘিরে শক্তিশালী বলয় গড়ে তুলেছে তারা। এদের কাছে জিম্মি রোগীরা। পদক্ষেপ নিয়েও এদের দৌরাত্ম্য কমাতে হিমশিম খায় কর্তৃপক্ষ। এদের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝেই অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কিন্তু কয়েক দিন আড়ালে থেকে আবার প্রকাশ্যে আসে এদের প্রতাপ। এরা খুবই সংঘবদ্ধ।

 

খোঁজ নিয়ে জানাযায়, ২০১৯ সনের জুলাই মাসে নগরীর নারায়ণগঞ্জ ৩‘শ শয্যা হাসপাতালে র‌্যাব ১১ অভিযান চালিয়ে শহরের বিভিন্ন ক্লিনিক, হসপিটাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ৯ দালালকে আটক করে ৭ দিনের কারাদন্ড দেয় র‌্যাবের ভ্যাম্যমাণ আদালত। তার আগে ২০১৫ সনে একই ভাবে প্রশাসনের গোয়েন্দা সংস্থা অভিযান চালিয়ে তিন মহিলাসহ ছয় দালালকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে এ চক্রটি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জের ৩’শয্যা হাসপাতালে সেবা পেতে গেলে বিভিন্ন দালালদের মাধ্যমে গেলে দ্রুত সেবা পাওয়া যায় বলে জানান একাধিক ব্যক্তি। অন্যথায় দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তাছাড়া অনেকে ডাক্তারদের দেখা পায় আবার অনেকে না পেয়ে ফিরে যান। কিন্তু রোগীদের মাঝে যারা দেখা পান তারা ডাক্তারের প্রেসকিপশন নিয়ে বের হলে তা নিয়ে বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকা ঔষধ কোম্পানির কর্মচারীরা ছবি তুলার জন্য হুরোহুরি করে এক ধরনে টানা হেচরা করেন।

 

তার মাঝে আবার ডাক্তার পরীক্ষা দিয়ে থাকলে বিভিন্ন ক্লিনিকের দালাল চক্র তাদের ডেকে নিয়ে ওই ক্লিনিকে নিয়ে যান। আবার ডাক্তাররা সেবা নিতে আসা রোগীদের বলে দেন কোন ক্লিনিকে গিয়ে তার লিখে দেয়া পরীক্ষা করাতে হবে। তাদের দেয়া ক্লিনিকে না গেলে তখন রোগিকে আবার ওই জায়গায় পাঠানো হয় অভিযোগ রোগীদের। তার মাঝে দালাল চক্রদের দরকষাকসি রয়েছে। আর এই প্রতিকুলতা নিয়ে সেবা নিতে আসা নানা মানুষের অভিযোগ রয়েছে দালার চক্রদের বিরুদ্ধে। সেই সাথে প্রশ্ন তোলেন তাদের কেন বন্ধ করা যায় না।  

 

নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে সেবা নিতে আসা গর্ভবতী নারী সুমাইয়া জানান, ডাক্তারের থেকে বের হওয়া মাত্র আমাকে চার-পাঁচ জন মিলে ঘিরে ধরেছেন আমার প্রেসকিপশনের ছবি তোলার জন্য। তারা আমার প্রেসকিপশন নিয়ে এক ধরনের টানাটানি অবস্থা তৈরী হয়। তার একটু সামনে যেতেই কয়েকজন বলে উঠে আপা কী পরীক্ষা দিয়েছে আমাদের ক্লিনিক থেকে পরীক্ষা করান। আর তাদের দেয়া ক্লিনিকে গেলে কম টাকা রাখবে। এভাবে জায়গায় জায়গায় চলছে দরকষাকষি।

 

অপরদিকে শহরের জেনারেল ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল থেকে বের হয়ে শফিক বলেন, হাসপাতালের সামনে বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির ব্যক্তিরা দাঁড়িয়ে থেকে আমাদরে প্রেসকিপশনের ছবি তোলে। তার সামনেই আরেকজন বলে উঠে ভাই কি ভর্তি হবেন। তাহলে আমাদের ক্লিনিকে ভর্তি হলে কম খরচ হবে। পরে জানতে পারি তিনি একটা ক্লিনিকের দালাল। কোন বেতন ভুক্তকর্মচারি নন। এই ভাবে দালালরা রোগীদের বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়ে যান। তাছাড়া অনেক ক্লিনিকের ডাক্তারদের ম্যানেজ করা রয়েছে ক্লিনিক মালিকদের। যাতে করে তাদের কাছে রোগী পাঠিয়ে দেয়।

 

হাসপতালের সামনে থাকা ভ্রাম্যমাণ দোকানি বলেন, অনেক সময় মুমূর্ষু রোগী হলে তাদের ডাক্তাররা তাদের ঢাকা রেফারড করে দেন। তখন ওই রোগীকে ঢাকা যেতে হলে অ্যম্বুলেন্স করে যেতে হয়। তখন রোগীর স্বজনদের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স চালকদের ম্যানেজ করতে গিয়ে বাগবিতন্ডার চিত্র দেখা যায়। দালাল ধরে এলে কিছুটা কমে ভাড়া পায়।

 

ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের আর এমও ডা. ফরহাদ বলেন, গেটে আমাদের লোক থাকে। এখানে  দালালের কোন আনাগোনা নেই। এগুলো অযাচিত কথা।

এস.এ/জেসি

এই বিভাগের আরো খবর