বৃহস্পতিবার   ১৪ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ৩০ ১৪২৬   ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

দখল মুক্ত হচ্ছেনা জিয়া হল: ফের শীতবস্ত্র হস্ত ও কুটির শিল্প মেলা

প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০১৯  

যুগের চিন্তা ২৪ : আবারো মেলা বসছে জিয়া হলে। একই মেলা একই প্যান্ডেলে একই জায়গায় বসছে ভিন্ন মোড়কে। অথচ আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো যেহুতু চাষাঢ়া জিয়া হলের এই বারোমাসব্যাপী মেলার কারণে চাষাঢ়া এলাকায় যানজট তৈরি হয় সেহুতু এখানে আর মেলা বসানো হবেনা। 


জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হলেও বাস্তবিক চেহারা ভিন্ন। গেলো কয়েকমাস মাসব্যাপি চলা তাঁতবস্ত্র মেলা এখন নাম বদলে শীতবস্ত্র হস্ত ও কুটির শিল্প নাম নিয়ে থাকছে চাষাঢ়া জিয়া হলেই। অবাক করা বিষয় জেলা প্রশাসন থেকে একই ব্যক্তিরাই এই মেলা চালানোর অনুমতি নিয়েছেন বলে দাবি করছেন তারা। 


আইনশৃঙ্খলা সভায় সিদ্ধান্ত হওয়ার পরও কি করে এই মেলা চলছে তা নিয়ে বিস্ময় ও ক্ষোভ ঝেড়েছেন আইনশৃঙ্খলা সভায় উপস্থিত অনেকে।


জানা গেছে, চাষাঢ়ার জিয়া হলের সামনের এই মেলা নিয়ে নাগরিক সমাজ বারবার ক্ষোভ ঝেড়েছেন। তবে তা আরো গুরুত্ব পায় যখন গত ১২ মে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ হারুন অর রশীদ জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘জিয়া হলে মেলা বসানোর কারণে যানজট  তৈরি হচ্ছে। 


এটি একটি পরিত্যক্ত ভবন। জিয়া হলে মেলা হলে মূল সড়কে যানজট তৈরি হয়। এখানে মেলা না হলেই ভালো হতো।’ তখন জেলা প্রশাসক ছিলেন রাব্বী মিয়া। তিনি ওই সভাতেই মেলা বসানোর আর কোন অনুমোদন দেয়া হবেনা। এই সভাতেই সেটি নিয়ে মৌখিক সিদ্ধান্ত হয়। 


জেলা প্রশাসক বদল হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপত এড.মাহবুবুর রহমান মাসুমসহ সবাই চাষাঢ়া জিয়া হলে মেলা না বসানোর ব্যাপারে একমত পোষন করেন। এব্যাপারে সিদ্ধান্তও গৃহিত হয়। সর্বশেষ আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাতেও এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। 


তবে বাস্তবিকচিত্র ভিন্ন। মাত্র কয়েকদিন আগ পর্যন্ত জিয়াহলের সামনে তাঁতবস্ত্র চালাচ্ছিন মো.চাঁন মিয়াসহ তাঁর আরো ৪ পার্টনার। শীতকে সামনে রেখে তারাই আবার ওই আগের মেলার নাম বদলে শীতবস্ত্র হস্ত ও কুটির শিল্প নাম দিয়ে মেলা চালানোর উদ্যেগ নিয়েছেন। 


মেলা কিভাবে চালাচ্ছেন জানতে চাইলে চাঁন মিয়া জানান, ‘প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই মেলা চালাচ্ছি। কাগজপত্রও নিয়েছি। অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এর দেওয়া কাগজের পেছনে অবশ্য লেখা আছে যে কোন মুহুর্ত্বে মেলা ভেঙে দেয়া হতে পারে। 


এই প্যান্ডেলের ১২টি স্টল নিয়েই ছিলো তাঁত মেলা এখন এটির নাম বদলে হচ্ছে শীতবস্ত্র হস্ত ও কুটির শিল্প মেলা। শুধু নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। শীত আসছে ভেবে এই নাম দেয়া। তিনি জানান, তাঁর সাথে মঞ্জুর আহমেদসহ সর্বমোট ৫ জনের পার্টনারশিপে এই মেলা চলছে।’ 


জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় সিদ্ধান্ত হওয়ার পরও জিয়া হলের মেলা চলায় বিস্মিত নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি এড.মাহবুবুর রহমান মাসুম। তিনি বলেন, জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় জিয়া হলে কোন মেলা চলবেনা বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরপরেও যদি মেলা চলে তবে প্রয়োজনে মামলা দায়ের করা হবে। এতে পুরো শহরে যানজট তৈরি হয়।

 

নাগরিক সমাজ বলছে, খোদ এসপি সাহেব বলেছেন, তবে কার স্বার্থে বারবার এই মেলার অনুমোদন দেয়া হচ্ছে। বারবার বলা হচ্ছে জিয়া হলে কোন মেলা বসবেনা। এরপরেও নগরবাসীকে দুর্ভোগে রেখে কারা মেলা বসাতে এতো তৎপর।


নাগরিক কমিটি নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি এড.এবি সিদ্দিকী বলেন, ‘জিয়া হলে এই মেলা বসানো অনেকদিন ধরেই চলছে। এটা কেন, কার স্বার্থে করা হয় এটা কেউ জানেনা। এখানে মেলা বসানোর পক্ষে কোন যুক্তি নেই। এমনিতেই যানজটে  আমরা অতিষ্ট এরপর চাষাঢ়ার মতো জায়গায় এই মেলা বসানো। যানজট কমানোর জন্য পুলিশ ফাঁড়ি, ডাকবাংলোর কিছু জায়গা ছেড়ে দেওয়ার আন্দোলন চলছে। 


মেলা বসালে এখানে যানজটের একটি সমস্যা তো করেই উপরন্তু বারোমাসি এই দোকানের জন্য আশেপাশের ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটা কার স্বার্থে করা হচ্ছে আমরা সেটিকে ঘৃণা করি। এধরণের কর্মকান্ড থেকে প্রশাসন দূরে থাকুক এইটা আমরা কামনা করি।

 

ভবিষ্যতেও যাতে তারা এটি না করে এটিও তাদের যাতে নজরে থাকে। নতুন করে আবারো মেলা বসাতে চাইলে প্রশাসনের কাছে দাবি অবিলম্বে এই মেলা বন্ধ করুন।’        

 
এব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘জেলা আইনশৃঙ্খা সভায় জিয়া হলের সামনে মেলা না বসানোর ব্যাপারে কোন রেজ্যুলেশন হয়েছিলো কি না সেটি জানি না। সেটি জেনে দ্রুত এব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’ 
 

এই বিভাগের আরো খবর