সোমবার   ০৪ মার্চ ২০২৪   ফাল্গুন ২১ ১৪৩০

তিন মাসের গর্ভবতী মহিলাকে কমিউনিটি ক্লিনিকের ইনচার্জের চড়-থাপ্পড়

আরিফ হোসেন

প্রকাশিত: ৩ জানুয়ারি ২০২৪  

 

# সরকারি ক্লিনিক হওয়া সত্ত্বেও ২০০ টাকা নিয়েছেন এই কর্মকর্তা 
# তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে : ওসি ফতুল্লা 

 

 

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুরে ভূঁইগড় রঘুনাথপুর এলাকায় কমিউনিটি ক্লিনিকের ইনচার্জ ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে চিকিৎসা নিতে যাওয়া মিলি নামে এক তিন মাসের গর্ভবতী মহিলা ও তার শাশুড়ির সাথে দুর্ব্যবহার ও গর্ভবতী সেই মহিলাকে চর থাপ্পর দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। ২ জানুয়ারি মঙ্গলবার বেলা ১২ ঘটিকায় ভূঁইগড় রঘুনাথপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মিলি আক্তার ফতুল্লা থানায় উপস্থিত হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করে। 

 

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, আমি মিলি আক্তার (২০), স্বামী- মেহেদী হাসান, সাং- সাহেবপাড়া, জোড়া ব্রীজের সামনে, থানা- সিদ্ধিরগঞ্জ, জেলা- নারায়ণগঞ্জ। থানায় হাজির হইয়া বিবাদীনি ইয়াসমিন (৩৫), স্বামী-অজ্ঞাত, সাং- মামুদপুর, থানা- ফতুল্লা, জেলা- নারায়ণগঞ্জ এর বিরুদ্ধে এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করিতেছি যে, উক্ত বিবাদীনি অত্র ফতুল্লা মডেল থানাধীনস্থ রঘুনাথপুর ভূঁইগড় কমিউনিটি ক্লিনিকে চার্জ হিসেবে দায়িত্বরত আছে। রোগীদের যাবতীয় ঔষধ ও দেখার শোনার দায়িত্বও বিবাদীনির।

 

উক্ত ক্লিনিকটি সরকারী হওয়ার পরও বিবাদীনি রোগীদের নিকট হইতে টাকা নিয়া ঔষধ প্রদান করে এবং যে রোগী টাকা দিতে পারে না তাহার সহিত খারাপ আচরণ করে ঔষধ নাই বলিয়া জানায়। বিষয়টি আমি অবগত ছিলাম না। বর্তমানে আমি ০৩ (তিন) মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কারণে রঘুনাথপুরস্থ চাঁদের হাসি মা ও শিশু হাসপাতাল এর ডাঃ রবিউল সাহেবের সরণাপন্ন হইলে তিনি আমাকে চেকআপ করিয়া ঔষধের প্রেসক্রিপশন দেয়।

 

পরবর্তীতে অদ্য ইং- ০২/০১/২০২৪ তারিখ দুপুর অনুমান ০১.০০ ঘটিকার সময় আমি ও আমার শাশুড়ি নাজমা বেগম (৫২) আমার চেকআপের জন্য উক্ত ক্লিনিকে যাই এবং আমাকে চেকআপ করিয়া ঔষধ দেওয়ার জন্য বলি। আমি বিবাদীনির কক্ষে প্রবেশ করার পর হইতেই বিবাদীনি আমার ও আমার শাশুড়ির সহিত খারাপ আচরণ করে আমাদের সহিত মেজাজ দেখাইতে থাকে এবং আমার শাশুড়ি বোরকা পরিহিত ও মুখ ঢাকিয়া রাখার কারণে বিবাদীনি আমার শাশুড়িকে গরুর মতো দেখা যায় মর্মে সম্বোধন কররেন।

 

সরকারী ক্লিনিক হওয়ার পরও বিবাদীনি আমাদের নিকট ২০০/- (দুইশত) টাকা ভিজিট দাবী করে। বিবাদীনির খারাপ আচরণের ফলে আমি তাহাকে ভিজিট দিতে রাজি হইয়া আমাকে চেকআপ করার জন্য বলিলে উক্ত বিবাদীনি আমার উপর ক্ষিপ্ত হইয়া যায় এবং সে ডাঃ রবিউল এর কোন রোগী যেন আর তার কাছে না আসে মর্মে আমার ও আমার শাশুড়ির সহিত অহেতুক চিৎকার চেচামেচি করিতে থাকে।

 

আমার শ্বাশুড়ী বিবাদীনিকে এহেনকার্যকলাপ করিতে নিষেধ করিলে এবং সেঅহেতুক কেন আমাদের সহিত শুরু থেকেই খারাপ আচরণ করিতেছে মর্মে জিজ্ঞাসা করিলে উক্ত বিবাদীনি আমাদের উপর আরও বেশি ক্ষিপ্ত হইয়া যায় এবং আমাদেরকে মারধর করিতে উদ্যত হয়। বিবাদীনির এহেনকার্যকলাপের ফলে বিষয়টি আমি স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তি মাখন বাবুকে অবহিত করিলে মাখন বাবু বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য যুগের চিন্তা পত্রিকার সাংবাদিক মোঃ আরিফ হোসেনকে বিবাদীনির নিকট প্রেরণ করে।

 

উক্ত বিবাদীনি সাংবাদিক মোঃ আরিফ হোসেনের সহিতও খারাপ আচরণ করা সহ আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করিতে আরম্ভ করে। সাংবাদিক মোঃ আরিফ হোসেন বিবাদীনিকে গালিগালাজ করিতে নিষেধ করিলে এবং রোগীদের সহিত এহেন আচরণ করিতে বারণ করিলে উক্ত বিবাদীনি আমার উপর ক্ষিপ্ত হইয়া সাংবাদিক মোঃ আরিফ হোসেনের সম্মুখে আমাকে এলোপাথারী চর-থাপ্পর মারিতে আরম্ভ করে। একপর্যায়ে বিবাদীনি আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে আমার গভাস্থলে স্ব-জোরে লাথি মারিয়া মাটিতে ফেলাইয়া দেয়।

 

আমার ডাক চিৎকারে সাংবাদিক মোঃ আরিফ হোসেন সহ আশপাশের লোকজন আগাইয়া আসিয়া বিবাদীনিকে বাধা নিষেধ করিলে উক্ত বিবাদীনি আমাকে ও আমার শ্বাশুড়ীকে বিভিন্ন প্রকার ভয়-ভীতি ও জীবননাশের হুমকি প্রদান করে এবং আরও বলে যে, তোরা যদি আর কোন দিন এই ক্লিনিকে আসিস কিংবা এই ঘটনার বিষয়ে কোন প্রকার বাড়াবাড়ি করিস তাহা হইলে তোদেরকে জীবনে শেষ করিয়া ফেলাইবো নতুবা যেকোন মিথ্যা মামলায় ফাসাইয়া দিব মর্মে হুমকি প্রদান করে।

 

বিবাদীনির এহেনকার্যকলাপের ফলে আমার গর্ভের সন্তানের বড় ধরনের ক্ষয়-ক্ষতি হইতে পারে বলিয়া আমার আশঙ্কা হইতেছে। বিষয়টি স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গদেরকে অবহিত করিয়া থানায় আসিয়া অভিযোগ দায়ের করিতে বিলম্ব হইল। অতএব, প্রার্থনা এই যে, উল্লেখিত ঘটনা মর্মে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে মর্জি হয়।

 

এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা অফিসার ইনচার্জ নূরে আজম জানান, আমরা অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

 

এ বিষয়টি অবগত করার জন্য নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জনকে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। এস.এ/জেসি

এই বিভাগের আরো খবর