সোমবার   ০৪ মার্চ ২০২৪   ফাল্গুন ২১ ১৪৩০

তালিকায় অবৈধ পাইকপাড়ার সূর্যের হাসি ক্লিনিক

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৬ জুন ২০২২  

 

# নির্ভীকভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে তারা
# প্রশাসনের নির্বিকার ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

 

গত সপ্তাহ থেকে সারাদেশে অবৈধ ক্লিনিক ডায়াগনিস্টিক সেন্টার এবং হসপিটাল বন্ধের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে সিলগালা করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জে তার ব্যতিক্রম নয়। জেলা সিভিল সার্জন তালিকা অনুযায়ী নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার পাইকপাড়া সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ক ক্লিনিক অবৈধ তালিকায় রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানাযায়, প্রায় ৩ যুগ ধরে এই প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ দিন যাবৎ চিকিৎসা বানিজ্য করে আসছেন। কর্তৃপক্ষের দাবী তাদের সকল কাগজপত্র আছে। কিন্তু অবৈধ তালিকায় কেন তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম আসছে তারা তা নিয়ে জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে যোগাযোগ করছেন।

 

 

খোঁজ নিয়ে জানাযায়, নগরীর পাইকপাড়ার সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ক ক্লিনিকের ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এর ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে। কিন্তু ডিজি হেলথের অনুমোদনের জন্য সকল কাগজপত্র আবেদন জমা দেওয়া আছে। যা এখনো হাতে পাওয়া হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সচিব উম্মে হাবিবা স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে ৩০ জুন পর্যন্ত অনুমোদন আছে।

 

এসময় মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করলে তখন তাদের এই অনুমোদন ছাড়পত্র দেখাতে পারবে। প্রশ্ন উঠেছে তাহলে জেলা সিভিল সার্জনের বৈধতালিকায় তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম নেই কেন।তার উত্তরে সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ক ক্লিনিকের ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম বলেন, ২০২১ সাল পর্যন্ত আমাদের সকল কাগজপত্র অনুমোদন আছে। ডিজি হেলথের ছাড়পত্র আপডেট করা নেই। তাই হয়ত এই অবৈধ তালিকায় আছে।

 

এদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় পাইকপাড়া সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ক ক্লিনিক তাদের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। তাদের এইখানে গাইনী বিশেজ্ঞ ডাক্তারের মাধ্যমে গর্ভবতী নারীদের প্রতিদিন সেবা দেয়া হয়ে থাকে। একই সাথে প্রতিদিন ২ জন নারী প্যারামেডিকেল কোর্স করা মাঠ পর্যায়ের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের সেবা নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি তারা সেবাদানে কতুটুক দক্ষ তা নিয়ে আতঙ্কে থাকে সেবা গ্রহনকারী ব্যক্তিরা। তাদের সহকারি হিসেবে আরও ২ জন থাকেন।

 

অন্যদিকে স্বাস্থ্যখাতে স্বচ্ছতা আনতে ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। একই সাথে দেশে প্রায় ৩ শতাধিক বেসরকারি হাসপাতাল,ক্লিনিক ডায়াগনিস্টিক সেন্টার রয়েছে যাদের চিকিৎসার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, যে সকল প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন নেই সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে। যারা মানসম্মত চিকিৎসা দিতে পারছে না তাদের সতর্ক করে দেয়া হবে। এদিকে খোজ নিয়ে দেখা যায় নারায়ণগঞ্জের নিবন্ধনহীন অবৈধ ক্লিনিকগুলো নিয়মনীতি না মেনে দিব্বি চিকিৎসা বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।

 

জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ৪৭ টি অবৈধ ক্লিনিক, ডায়াগনিস্টিক সেন্টার রয়েছে। তার মাঝে পাইকপাড়া সূর্যের হাসি, নেটওয়ার্ক ক্লিনিক নিবন্ধনহীন ভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর দাবী জানান সচেতন মহল। চিকিৎসা সেবায় স্বচ্ছতা আনতে তা এখন সময়ের দাবী বলে জানান নগরবাসী। এবিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন মশিউর রহমানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন কলটি রিসিভ করেননি। এমই/জেসি

এই বিভাগের আরো খবর