সোমবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯   ভাদ্র ৩১ ১৪২৬   ১৬ মুহররম ১৪৪১

ডিসবাবু আতঙ্কের রেশ এখনো কাটেনি

প্রকাশিত: ১৪ মে ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বিতর্কিত ১৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু ওরফে মাউরা বাবু ওরফে ডিসবাবুকে নিয়ে বিব্রত পরিস্থিতিতে রয়েছেন ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। ১৮ এপ্রিল বন্দর থানায় একটি চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার হন ডিসবাবু। 


গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর থেকেই একের পর থলের বিড়াল বের হতে থাকে। ডিসবাবুর কুকর্মে বিব্রত পরিস্থিতিতে পড়েছে এলাকাবাসী। চিহ্নিত ও দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীর মতো ডিসবাবুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা, অপহরণ ও ডাকাতির অভিযোগ ওঠে। একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এসব জঘন্য অপরাধের অভিযোগ থাকায় এলাকাবাসীও অস্বস্তিতে। 


ডিসবাবু ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর থেকে বেপরোয়া কর্মকান্ড শুরু করে। কুকর্ম আর অবৈধ অর্থের জোরে অর্জিত ক্ষমতার দাপটে সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী কিংবা প্রভাবশালী সাংসদ শামীম ওসমানকেও তোয়াক্কা করতোনা ডিসবাবু এমন কিছু তথ্য জানিয়েছে ওই ওয়ার্ডবাসী। 


নিজের প্রভাব বিস্তার করার জন্য ডিসবাবু ১৭নং ওয়ার্ডে কয়েকটি বাহিনী গড়ে তুলেছিলো। এসব বাহিনীর মাধ্যমেই ডিসবাবু পুরো এলাকায় অত্যাচার ও নির্যাতন চালাতো। তার ভয়ে তটস্ত থাকতো পুরো এলাকা। কেউ ভয়ে মুখ খোলাতে দূরের কথা প্রতিবাদ করারও সাহস পেতোনা। 


ওই ওয়ার্ডের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, ডিসবাবুর কৌশল ছিলো কেউ যদি ডিসবাবুর বিরোধিতা করতো তাহলে তাকে ডিসবাবু তার বাহিনীর লোকজনের মাধ্যমে মাদক দিয়ে ফাঁসাতো। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তুলে দিতো। 


এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, ডিসবাবুর কথার কথায় বলতো, ‘ওরে আইন্না পুলিশে ধরাইয়া দেন’। যে কোন অপরাধ করার পর কেউ সেটি নিয়ে প্রশ্ন তুললেই ডিসবাবু পুলিশের নাম জমে সেটি এড়িয়ে যেতেন। কেউ এরপরেও প্রতিবাদ করলে তার উপর নেমে আসতো ভয়ংকর নির্যাতন, হয়রানি। 


১৭নং ওয়ার্ডে সরেজমিন ঘুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ওয়ার্ডের পাইকপাড়া, নয়াপাড়া, আমহাট্টা, ভূঁইয়াপাড়া, শাহসুজা রোড, পাইকপাড়া খেলার মাঠ এলাকার পুরোটা জুড়েই থাকতো ডিসবাবু ও তার বাহিনীর অত্যাচার। ডিসবাবুর কাছে নানা এলাকা থেকে অপরিচিত লোকে ভরপুর থাকতো পুরো ওয়ার্ড। 


ওইসব লোক ওয়ার্ডবাসীর সাথে নানা আজেবাজে ব্যবহার করতো। কেউ প্রতিবাদ করলেই তাকে  ডিসবাবুর অফিসে নিয়ে নাজেহাল করে ছাড়তো। আজেবাজে নানা লোক ডিসবাবুর বাহিনীর সাথে বিভিন্ন স্কুলকলেজের সামনে অবস্থান নিতো। এতে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা নানা বিপত্তির মুখে পড়তো। তবে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারতোনা। 
 
জানা গেছে, নলুয়াপাড় খালপাড়, নয়াপাড়া খালপাড়, জল্লারপাড় এলাকায় ডিসবাবুর বাহিনী ছিলো সবচাইতে বেপরোয়া। যাকে তাকে হেনস্থা করে ছাড়তো ডিসবাবুর গুন্ডাপান্ডারা। সম্প্রতি ডিসবাবু গ্রেপ্তারের পর গা ঢাকা দিয়েছে ডিসবাবুর সাঙ্গপাঙ্গরা। পুরো এলাকায় স্বস্তি বিরাজ করছে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ অপরাধীদের বিরুদ্ধে যে ধরণের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তাতে এলাকাবাসীও মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন। 


তারা ডিসবাবুর নানা ফিরিস্তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তুলে ধরছেন। তবে তাদের শঙ্কা জামিনে বের হয়ে ডিসবাবু আগের চেয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। সেটি নিয়েও তারা শঙ্কা প্রকাশ করছেন। তবে পুলিশের চলমান অভিযানে একত্রিত হচ্ছেন ১৭নং ওয়ার্ডবাসী। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ডিসবাবু এলাকায় আসলে কোন ধরণের অত্যাচার অনাচার পরিস্থিতির সৃষ্টি করলে সবাই মিলে সেটিকে তারা প্রতিহত করবেন। 


উল্লেখ্য, গত ১৮ এপ্রিল বন্দরের ফরাজিকান্দা এলাকার ডিস ব্যবসায়ী হাসানের কাছ থেকে দশ লাখ টাকার চাঁদা দাবি করেন ডিস বাবু। চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে হাসান ডিসবাবুর বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে বন্দর থানায় একটি চাদাঁবাজি মামলা দায়ের করে। ওইদিন দুপুর আড়াইটায় সদর উপজেলার পাইকপাড়া এলাকা থেকে ডিসবাবুকে গ্রপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। 


এরপর গত ২১ এপ্রিল মাসদাইর এলাকার সফিকুল ইসলাম কুসুম ও পশ্চিম দেওভোগ এলাকার মোক্তার হোসেন চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে ডিসবাবুর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। এছাড়াও গত ২৮ এপ্রিল অপহরণসহ চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে ১৭ নং ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা বারেক মিয়া ডিসবাবুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। 


এছাড়া ১৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু ওরফে মাওরা বাবু  ওরফে ডিসবাবুর নামে ডাকাতির মামলায় সম্পূরক চার্জশীট গ্রহণ করে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সিডব্লিউ প্রেরণ করে সদর মডেল থানা পুলিশ। ২০১৩ সালের ১২ জুলাই ডাকাতির অভিযোগ তুলে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন ৯৩নং শাহসুজা রোডের জল্লারপাড় এলাকার সালাহউদ্দিন এর ভাড়াাটিয়া মো.রাজ্জাক ওরফে আঃ ছালাম (৫৮)। 


এছাড়া ডিসবাবুর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধীরে ধীরে ডিসবাবুর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমা হচ্ছে। ডিসবাবুর  নানা অপকর্ম ও কুকীর্তি প্রকাশ্যে আসছে।  
 

এই বিভাগের আরো খবর