রোববার   ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৩০ ১৪২৬   ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১

ডাকাতির মামলায় ডিসবাবু, কুকর্ম ফাঁস হচ্ছে

প্রকাশিত: ৮ মে ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : সদর থানার একটি ডাকাতি মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু ওরফে মাওরা বাবু  ওরফে ডিসবাবুর নামে সম্পূরক চার্জশীট গৃহিত (নং-২৬২) করে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সিডব্লিউ প্রেরণ করা হয়েছে। বুধবার (৮ মে) কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

২০১৩ সালের ১২ জুলাই ডাকাতির অভিযোগ তুলে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন ৯৩নং শাহসুজা রোডের জল্লারপাড় এলাকার সালাহউদ্দিন এর ভাড়াাটিয়া মো.রাজ্জাক ওরফে আঃ ছালাম (৫৮)। 

 

মামলার এজহারের সংক্ষিপ্ত বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১১ জুলাই রাত সোয়া ৮টার দিকে তারাবী নামাজের সময় মসজিদে যান আঃছালাম।  তিনি বাসায় ফিরে জানতে পারেন, রাত ৯টার দিকে বাড়ির ম্যানেজার রাসেলের পরিচয় দিয়ে দরজা খুলতে বললে তার স্ত্রী দরজা খোলেন। এসময় অজ্ঞাতনামা ৪ জন লোক (দুজনের মুখে মুখোশ রয়েছে) বাসায় ঢুকে তার স্ত্রীকে ধাক্কা মেরে ১০ লাখ টাকা কোথায় তা জানতে চায়।

বাদীর স্ত্রী টাকা নেই বলার সাথে সাথে তাঁর গলায় ছুড়ি ঠেকায় তারা।  এসময় বাদী ছালামের পুত্রবধুর শিশু কন্যাকে কেড়ে নিয়ে তার গলায় ছুড়ি ধরে জবাই করার ভয়ভীতি দেখায়। তারা ছালামের স্ত্রীর কাছে থেকে চাবি নিয়া আলমারী খুলে ২টি স্বর্ণের চেইন, ২টি স্বর্ণের বালা, কানের দুল, ৫টি আংটি আনুমানিক ৩ লাখ টাকা মূল্যমানের স্বর্ণ, বাসায় থাকা ৫০ হাজার টাকা মূল্যেই ইউরো মুদ্রা, মোবাইল সেট নিয়ে বের হয়ে যায়। চাপাতি, ছুরি হাতে বাড়ি হতে বাহির হওয়ার সময় বাদীর ছেলে সাদ্দাম হোসেন রাজু তাদের আটকানোর চেষ্টা করেন।

 

এসময় তাদের মধ্যে একজন ছোড়া দিয়ে রাজুর বুকে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। এসময় রাজুর ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে রাসেল নামে একজনকে আটক করে গণপিটুনি দেয়।  পরে পুলিশ রাসেলকে তাদের হেফাজতে নেন। এঘটনার পরদিনই মামলা দায়ের করেন আঃছালাম।  

 

মামলার প্রথমে তদন্তভার গ্রহণ করেন সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো.আতাউর রহমান। তিনিসহ কয়েকজন কর্মকর্তা বদলী শেষে সর্বশেষ উপ-পরিদর্শক (এসআই) উত্তম কুমার রায় মামলাটির তদন্ত শেষে আদালত বরাবর ১২ জন আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র প্রদান করেন। এবং ৪ জনের অব্যাহতি প্রার্থনা করে ২০১৭ সালে ৪ এপ্রিল অভিযোগপত্র দাখিল করেন। 

 

তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে অব্যহতিপ্রাপ্ত আসামীদের বিষয়ে ভবিষ্যতে সনাক্ত রা সম্ভব এবং পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে মর্মে উল্লেখ করেন। 

 

এই মামলায় অভিযুক্ত চারআসামী আদালতে নিজেদের সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। তাদের জবানবন্দিতে মামলার ৬নং আসামী জাদিুল রহমান সজিব (২৮), ৭নং আসামী বিপুল হোসেন ওরফে শুক্কুর (৩৫), ১০ নং আসামী মো.রনী ওরফে চৌধুরী রনি (৩৯) ও ১১নং আসামী নূরে আলম সিদ্দিক ওরফে সাবু (৩২) ওই বাসায় লুন্ঠিত মালামাল ডিসবাবুর অফিসে নিয়ে যায়।

 

মামলার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) মোহাম্মদ ছাইফুল ইসলাম  উল্লেখ করেন, এই মামলায় অব্যাহতিপ্রাপ্ত আব্দুল করিম বাবু ওরফে মাওরা বাবু ওরফে ডিসবাবু সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বাবু দীর্ঘদিন যাবৎ ডিসব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। ডিস ব্যবসা পরিচালনার জন্য সে নারায়ণগঞ্জে এককভাবে ডিসবাবু হিসেবে সকলের কাছে পরিচিতি লাভ করে এবং পুরো জেলাতে একমাত্র তিনিই ডিসবাবু হিসেবে পরিচিত। 

 

ডিসবাবু ওরেফে আব্দুল করিম বাবু দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকায় বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডের মূল হোতা। এবং আড়ালে থেকে বিভিন্ন অপরাধীদের মাধমে অপরাধ কর্ম পরিচালনা করে থাকে। এলাকায় তার ভয়ে কেউ তার অপরাধের বিষয়ে মুখ খোলার সাহস পায়না। এমনকি থানায় এসে অভিযোগ করতেও ভয় পায়। 

 

এই মামলার গ্রেপ্তারকৃত আসামী ঝন্টু ও দেলু আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে লুন্ঠিত মালামাল ডিসবাবুর অফিসে নিয়ে যায় বলে প্রকাশ করে। এবং আসামী সজিব ও সাবু ডিসবাবুর অফিসে মালামাল রেখে ৫০টি ইয়াবা ও ৫ হাজার টাকা নিয়ে জিমখানা মাঠে ফিরে আসে বলে জবানবন্দিতে প্রকাশ করে। আদালতে ২ জন আসামীর জবানবন্দিতে ডিসবাবুর কথা উল্লেখ আছে। 

এই বিভাগের আরো খবর