শুক্রবার   ২৯ মে ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪২৭   ০৬ শাওয়াল ১৪৪১

ঝুঁকি নিয়ে চলছে তরমুজ কেনাবেচা, মানা হচ্ছেনা সামাজিক দুরুত্ব

প্রকাশিত: ৭ এপ্রিল ২০২০  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : করোনা ভাইরাসের সংক্রামণে ঝুঁকিপূর্ণ জেলা হিসেবে চিহ্নিত। একদিকে নগরজুড়ে অঘোষিত লকডাউন অন্যদিকে প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। চিরচেনা নগর যেন জনশূন্য হয়ে পড়েছে। তবে শহরের চারারগোপ ফলের আড়তে দেখা যায় পুরোপুরি ভিন্ন চিত্র। বর্তমান পরিস্থিতিতে যেখানে জনসমাগম পুরোপুরি নিষিদ্ধ সেখানে ফলের আড়তের ফল ব্যবসায়ীরা মৌসুমী ফলের ব্যবসায়ে ব্যস্ত।
 
চারারগোপ ফলের আড়তের সড়ক জুড়ে ৬-৭টি ছোট-বড় াভার্ড ভ্যান দাড়িয়ে আছে। বেশিরভাগ কাভার্ড ভ্যানেই গ্রীষ্মকালীন ফল তরমুজ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তরমুজ নিয়ে আসছে কৃষক ও পাইকারী ব্যবসায়ী। তরমুজের দরদাম করছে ক্রেতারা। বিক্রি হলেই সেই তরমুজ আড়তে নামাতে ব্যস্ত শ্রমিকেরা। আড়তের ব্যবসায়ীরা আবার স্থানীয় পাইকারী ব্যবসায়ীদের নিকট তরমুজ বিক্রিতে ব্যস্ত। তবে চারিদিকে সামাজিক দুরুত্ব বজায় রাখার স্লোগান চললেও চারারগোপের ফলের আড়তের  সে রকম কোন দৃশ্য চোখে পড়ে নি। যে যার মতো নিজের চালিয়ে যাচ্ছে। কেউ তরমুজ নিয়ে আসছে। কেউবা ফল আড়তে রাখছে। আবার কেউ ফল কিনে নিয়ে ফিরছে। সকলেই যার যার কাজে ব্যস্ত। কাজ শেষে তারাই একসাথে বসে জিড়িয়ে নিতে নিতে আড্ডাটাও বেশ জমিয়ে তুলছে।

 

জেলা জুড়ে যখন সকলে করোনা ভাইরাসের সংক্রামণ নিয়ে আতঙ্কিত সরজমিনে চারারগোপের এমনি ঝুঁকিপূর্ণ এই চিত্র দেখা যায়।

 

তরমুজ কভার্ড ভ্যান থেকে নামিয়ে এক দোকানের ছায়ায় বসে আছেন রফিক। ধুমপান করতে করতে বাকি সকলের কথায় মেতে আছেন। বাড়ি তার নিতাইগঞ্জ। মুখে মাস্ক ছাড়া এভাবে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ, বিষয়টি তিনি জানেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মুখ আটকাইনা ওইটা (মাস্ক) নাই। জিনিস উঠাইয়া-নামাইয়া  টাকা নিয়া বাড়ি ফিরমু। একটু জিরায় নিতাছি।

 

কোলাহল নিষিদ্ধ সত্ত্বেও সামাজিক দুরুত্ব না রেখে আড়তে এভাবে কাজ করার কারণ জানতে একজন ব্যবসায়ীর সাথে কথা হয়। নাম  প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই ব্যবসায়ী বলেন, এটা হইলো ফলের মৌসুম। এই মৌসুমে বাজারে অনেক ফল আসে। সেই তুলনায় এবার ফল অনেক কম আসতাছে। মৌসুমী বাজার এখন মানুষ বেশি হবেই। দুরুত্ব বেশি রাইখা তো কাজ করাও যায় না। তবুও আমরা  চেষ্টা করছি সাবধানে কাজ করতে। আর শ্রমিক যারা কাজ করতাছে তাদেরকেও সাবধান করছি।

 

এদিকে চড়া দামে স্থানীয় পাইকারী ব্যবসায়ীদের নিকট তরমুজ বিক্রি করছে আড়ত ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে আড়ত ব্যবসায়ী খলিফা জানান, তরমুজ ক্ষেত থেকে নিয়ে আসা টাই কঠিন হয়ে পড়েছে। তরমুজ ক্ষেত থেকে আনার ব্যবস্থা করতে পারছে না অনেক কৃষক। মজুত অনেক কম। আর মৌসুমের শুরুতে দাম যেমন থাকে আমরা সেরকম মূলেই বিক্রি করছি। 
 

এই বিভাগের আরো খবর