বৃহস্পতিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৪ ১৪২৬   ১৯ মুহররম ১৪৪১

ঝাঁঝ কমছেনা আদার, অপরিবর্তিত সবজির দামও

প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : রান্নায় অপরিহার্য উপাদানগুলোর মধ্যে আদা-রসুন অন্যতম। মাংস, মাছ বা ডিম তা ঝোল হোক বা ভুনা এ উপাদানগুলো ছাড়া রান্নার প্রকৃত স্বাদ গ্রহণ করা অসম্ভব।  অতএব আদা-রসুনকে বলা চলে রান্নার প্রাণ। 

কিন্তু যে হারে প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে আদা-রসুনের দাম এতে করে সামনের সময়গুলো আদা-রসুন নিজেদের চাষ করতে হবে নয়তো এটা ছাড়াই খেতে হবে।
 
বর্তমানে পাইকারী বাজারে আদার দাম রয়েছে ১০০-১২০ টাকা দরে। আর খুচরা বাজারে কিছু ব্যাতিক্রম ছাড়া ১৩০-১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে আদা। ঈদের এক মাস অতিবাহিত হলেও একই দরে বিক্রি হচ্ছে এ পন্যটি। 
 
এদিকে একই অবস্থা রসুনেও। পাইকারী দরে বিক্রি হচ্ছে  ৮০-১০০ টাকা করে। অন্যদিকে খুচরা বাজারে গেলো সপ্তাহের চেয়ে রসুন কেজি প্রতি ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। 

আর এসব নিয়ে ক্রেতাদের অভিযোগের অন্ত নেই। তবে ব্যবসায়ীরা বলছে, যেমন দামে কিনছি তেমন দামেই তো বিক্রি করতে হবে।
 
শনিবার ( ২৯ সেপ্টেম্বর) নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ সকল তথ্য জানা যায়। বাজার ঘুরে আরো জানা যায় আদা-রসুনের দাম বাড়তি থাকলেও স্থিতিশীল রয়েছে সবজির বাজার। 
 
জানা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে শিমের দাম কেজিতে কমেছে প্রায় ৪০ টাকা। বর্তমানে বাজার ও মানভেদে প্রতিকেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে শিমের কেজি ছিল ১০০-১২০ টাকা। সে হিসাবে শিমের দাম কেজিতে কমেছে ৪০ টাকা। তবে বাজারভেদে একই মানের শিম ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে।
 
শিমের দাম কমার কারণ হিসেবে রেললাইনের পাশে কাঁচা বাজার নিয়ে বসা ব্যবসায়ী আহসান মিয়া জানান, বাজারে শিম আইছে অনেকদিন হইছে। আগে শিমের চাহিদা আছিলো বহুত।  তাছাড়া বাজারে শিমও বাড়তাছে। যে কারণে দাম কিছুটা কমেছে। সামনে আরও কমবো।
 
শিমের দাম কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে অন্যান্য সবজির দাম। কেজিতে ৫ টাকার মতো কমতি পেঁয়াজের দামও অপরিবর্তিত রয়েছে। 
 
বাজারভেদে পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা কেজি। একই দামে বিক্রি হচ্ছে গাজর। আগের সপ্তাহেও এ সবজি দুটির দাম এমনই ছিল। বাজারের দামি আর এক সবজি ফুলকপিও আগের সপ্তাহের মতো ৫০-৬০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।
 
তবে কিছুটা দাম বেড়েছে শসার। গত সপ্তাহে ৩০-৪০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া শসার দাম বেড়ে ৫০-৬০ টাকা হয়েছে। এ ছাড়া বেগুন, উস্তা, বরবটি, কাকরল, করলা, পটল, ঝিঙা, ধুন্দল, ঢেঁড়স, লাউ, পেপের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
 
বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৩০-৫০ টাকা কেজি। উস্তার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা। বরবটি ৫০-৬০ টাকা, চিচিংগা, পটল, ঝিঙা, ধুন্দুল, কাকরুল বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা কেজি। পেঁপে আগের মতো ২০-৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ঢেঁড়স পাওয়া যাচ্ছে ৩০-৪০ টাকা কেজির মধ্যে। 

বাজারে আসতে শুরু করেছে মৌসুমী সবজি, যদিও দাম একটু চড়া। খুচরা বাজারে পটল ৪০টাকা, ঢেঁড়শ ৫০টাকা, ঝিঙ্গে ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ টাকা, কাকরোল ৪৫ টাকা, টমেটো ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা, করল¬া ৫০ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিছ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, লাউ ৪০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
 
এ ছাড়া গত সপ্তাহে কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়ে যাওয়া বয়লার মুরগির দাম আজও একই রয়েছে। বাজারভেদে মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৫০ টাকা কেজি । সাদা ডিম পাড়া সাদা মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৮০ টাকা কেজি। আর লাল লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০-২২০ টাকা কেজি। বয়লার মুরগির মতো লালা লেয়ার ও সাদা মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
 
দ্বীগুবাবু বাজার মুরগী ব্যবসায়ী  লতিফ হাসান বলেন, কোরবানির ঈদের পর অনেকদিন বয়লার মুরগির কেজি ১১৫-১২০ টাকা বিক্রি হয়। তবে গত সপ্তাহে দাম কিছুটা বেড়ে ১৩০ টাকা হয়। এখনো বয়লার মুরগি আগের সপ্তাহের দামে বিক্রি হচ্ছে। 
 
এছাড়া গরু ও খাসির মাংসও বিক্রি হচ্ছে আগের মতই। এদিকে ইলিশ মাছের দাম  বৃদ্ধি পয়েছে। ইলিশ বিক্রি হচ্ছে হালিতে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকায়। তবে  স্থিতিশীল  রয়েছে অন্যান্য মাছের দাম। 

দেশি রুই মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাক, আইড় মাছ ৭০০ টাকা, পাবদা মাছ ৬০০ টাকা, কাতল ৪০০ টাকা, বড় চিংড়ি ৮০০ টাকা কেজি , বাইল্লা মাছ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইলিশ মাছের দাম নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দে ভুগছে ক্রেতারা। তবে বিক্রেতারা বলছে,ইলিশ মাছ বাজারে কম তবে চাহিদা রয়েছে ভালই। 

ইলিশ বিক্রেতা মঙ্গল জানান, নদীতে ইলিশ কম। তাই সরবরাহ কম। দাম তো একটু থাকবোই। কিন্তু ক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ ঠিকই আছে বিক্রেতারাই দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

এছাড়া উর্ধ্বমূখীতে স্থিতিশীল রয়েছে চাল, ডাল, তেল, আটা, লবন,মশলাসহ নিত্যপন্যের দামও। 
 

এই বিভাগের আরো খবর