বুধবার   ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪   ফাল্গুন ৮ ১৪৩০

জ্যোতিষ্কের আজ জন্মদিন

নাসিম আফজাল

প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল ২০২৩  


দুরুদুরু বুকে হাত রেখেছি কিবোর্ডে। কিছু লিখব, কি নিয়ে লিখব, কাকে নিয়ে লিখব বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা। ব্যত্যয়টি ওখানেই। কোথায় সেই যোগ্যতা। তবু ধৃষ্টতা দেখিয়ছি আঙুলে চাপ দিয়েছি। লিখতে হবে এক মনিষীকে নিয়ে। সত্যি দুঃসাহসিক কাজ। মুজিবুল হক কবীর। একাধারে কবি,প্রাবন্ধিক,সাহিত্য বোধ্যা, শিক্ষাবিদ ও আলোচক।

 

 

এতো গুনে গুণান্বিত মানুষের বিষয়ে আমার মতো ক্ষুদ্র মানুষের ধৃষ্টতা বৈ আর কিছু নয়। পত্রিকায় মুজিবুল হক কবীর এর কবিতা আমাকে মুগ্ধ করে।তখন তাঁকে আমি চিনতাম না। যদিও একই মহল্লায় (১নং বাবুরাইল) আমাদের বসবাস। তাঁর লেখার সাথে পরিচয় হওয়ার পূর্বে তাঁর পিতা শ্রদ্ধেয় সিরাজুল হক এর সাথে কিঞ্চিত পরিচয় হয়েছিলো পৌর পাঠাগারে।তাঁর লেখা পাঠ, কথা ও ধীরলয়ের ক্ষীণ যাদুকরী উপস্থাপনায় মোহিত হয়েছিলাম। তাঁর সেই সম্মোহনী শক্তি আমাকে টেনে নিয়েছিল তাঁর বাসায়।

 

 

ছেলেবেলায় যখন প্রথম-দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ি তখন পাঠ্য বইয়ের ছড়া-কবিতাগুলো আমাকে আকৃষ্ট করতো। আকাঙ্খা জাগত আমিও যদি এমনি করে লেখতে পারতাম, ‘আয় ছেলেরা আয় মেয়েরা ফুল তুলিতে যাই, বাপুরাম সাপুড়ে কোথা যাস বাপুরে’ ইত্যাদি।আজ এসে মনে করি সেই আকাঙ্খারই প্রতিফলনের বীজ বোনা হয়েছিল সিরাজুল হকের মাধ্যমে। 

 

 

আমার জীবনে প্রথম লেখক হিসেবে দেখা ও সান্নিধ্য পাওয়া তাঁর অত্যান্ত মোলায়েম স্বভাব যারপরনাই লেখকদের প্রতি আমাকে মোহিত করেছে ততোধিক। তাঁর সান্নিধ্যে সল্প সময়ে থেকে নেশা জাগল আমিও লিখব।তারও আগে এই বাবুরাইলের কবি কুটিরে সাহিত্য রসে স্নান করতে নিয়মিত আসতেন ইমদাদুল হক মিলন। তিনি অকপটি স্বীকার করেছেন, ‘ঢাকা থেকে উড়ে এসে সুসাহিত্যিক সিরাজুল হক স্যারের সান্নিধ্য না পেলে আমার এতদূর পৌঁছানো সহজ হতো না।’

 

 

বাসায় আসা যাওয়ার সুবাদে পুত্র মুজিবুল হক কবীর এর সাথে মিলনের বন্ধুত্ব হয়ে ওঠে। পড়াশোনার সুবাদে হুমায়ূন ফরিদী নারায়ণগঞ্জ অবস্থানকালে কবীর ভাইয়ের সাথে গভীরতর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে এবং নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ানো, তাদের প্রধান আড্ডাস্থল ছিল বঙ্গবন্ধু সড়কস্থ আলম কেবিন। আড্ডা মাতিয়ে রাখার মধ্যমনি ছিলেন হুমায়ূন ফরিদী। কবির ভায়ের মাধ্যমে ফরিদীর সাথে তাঁর বেসকিছু বন্ধুর পরিচয় ঘটে। 

 

 

আমরা যেহেতু একই মহল্যায় বাস করি এবং তাঁর বাসায় যাতায়াতের মধ্যদিয়ে মুজিবুল হক কবীর ভায়ের ছোটো ভাই শামীমের সাথে আমার বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। কবীর ভাইকে তখন থেকে কবি পরিবারের সদস্য হিসেবে চিনতাম, লেখক হিসাবে নয়। তার লেখা গ্রন্থ ‘লোপামুদ্রা’ ও 'পাযে আমার অনর পাথর'হাতে পেলাম এবং পাঠে বিস্মিত হলাম। মনে হলো তিনিতো কবি নন শুধু, কবিদের স্যার।

 

 

মুজিবুল হক কবীর ১৯৮০ সনে নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলে শিক্ষককতায় চাকরিতে যোগদান করেন এবং আমার ভাগ্নি সাহিদা বেগমের সাথে ১৯৮১ সনে শুভ পরিণয়ে আবদ্ধ হন। তিনি লেখালেখি শুরু করেন সত্তুর দশকের গোড়ায় ৭২এ তাঁর প্রথম লেখা প্রকাশিত হয়।তাঁর বইয়ের সংখ্যা তেইশ। জ্যোতিষ্ক পিতার সাহিত্যের দ্যুতি ছড়িয়েছেন কবি মুজিবুল হক কবীর সমগ্র দেশ থেকে বিদেশেও।কবি লেখকদের কোনো জাতপাত নেই, কোনো সীমারেখা নেই যদিও মাটির গর্বের জায়গা থাকতেই হয়।

 

 

মুজিবুল হক কবীরের জন্ম নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ায়। সমাদৃত এই মহান কবি ও লেখককে নিয় আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী গর্ভবোধ করি। কবি'র এক কন্যা পুনম ও এক পুত্র সৌরভ।  ১৯৫২ সনের ১১ এপ্রিল কবি জন্মগ্রহন করেন। মানুষকে আলোকিত করার জন্য কবি মুজিবুল হক কবীর এর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ জীবন কামনা করি। এন.হুসেইন/জেসি