সোমবার   ০৪ মার্চ ২০২৪   ফাল্গুন ২১ ১৪৩০

জেলা-মহানগর আ.লীগের জটিলতা নিরসনের উদ্যোগ নেই

এম মাহমুদ

প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি ২০২৪  

 

# জেলায় খসড়া কমিটি করে দায় সেরেছেন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক
# মহানগরে সম্মেলনের বছর পার করে কমিটি অনুমোদনের উদ্যোগ নেই

 

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নানা অযুহাত দেখিয়ে সংগঠনকে ধীরে ধীরে দূর্বল সংগঠনে পরিণত করছেন। সংগঠনে তাদের গড়িমসির প্রতিচ্ছবি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট হিসেবে ফুঁটে উঠেছে। তারপরও জেলা এবং মহানগরে সাংগঠনিক দূর্বলতা নিরসনে কোন রকম উদ্যোগ নিচ্ছে না জেলা এবং মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক।

 

দলীয় সূত্র বলছে, ২০২২ সালের ২৩ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেল অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে পূর্বের সভাপতি আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো শহীদ বাদলকে পূণরায় বহাল রাখা হয়। তবে তাদের বহাল রাখতে গিয়ে শর্ত সাপেক্ষ বিভিন্ন বিধি নিষেধ দেন দলীয় সাধারণ সম্পাদক। পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে পূর্ণ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেন।

 

কিন্তু দীর্ঘ কয়েক মাস পর গিয়ে খসড়া কমিটি করে কেন্দ্রে জমা দিলেও সভাপতি আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো শহীদ বাদল উভয়ই পাল্টাপাল্টি আলাদা করে খসড়া কমিটি কেন্দ্রে জমা দেন। যার কারণে জেলা আওয়ামীলীগের কমিটি অনুমোদনে কেন্দ্রে জটিলতা সৃষ্টি হয়। আর এই জটিলতা নিরসরণে কেন্দ্রে একীভূত হয়ে কমিটি জমা দেয়ার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু তারা সেটা করতে পেরেছে কিনা সন্দীহান। তবে সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠিত হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়াতে জেলা আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে নানা রকম জটিলতা সৃষ্ট হচ্ছে।

 

কারণ দুজনের মধ্যেই কমিটি সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে জেলার অন্যান্য নেতাদের কোন দায়িত্ব নেই বিধায় জেলা আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে এক প্রকার দৈন্যদশা সৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়া সংসদ নির্বাচনে ভোটের হিসেবেও জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাংগঠনিক দূর্বলতার প্রভাব পেড়েছে। কারণ জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি থাকলে দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতারা জেলার বিভিন্ন স্থানে ভোটের হিসেব বাড়াতে সহায়ক হিসেবে কাজ করত।

 

কিন্তু দুজনে কমিটি সীমাবদ্ধ থাকায় জেলার অন্যান্য নেতারা ভোটের মাঠে সক্রিয় ছিল না। তবে নির্বাচনের পরও জেলার কমিটি পূর্ণাঙ্গ করে সৃষ্ট জটিলতা নিসরণ করার কোন উদ্বেগ নিচ্ছে না জেলার সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক। অপরদিকে ২০২২ সালের ২৫ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও আবহাওয়া জনিত কারণে বাতিল করা হয়। তবে সম্মেলন বাতিল হওয়ার বছরের অধিক সময় অতিবাহিত হলেও এখনো সে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি।

 

তবে কেন্দ্রীয় নেতারা মহানগরের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে নির্দেশনা দিয়েছিল মেয়াদউত্তীর্ণ কমিটিগুলো গঠনের মাধ্যমে ফের সম্মেলনের সময় নির্ধারণ করতে। সে অনুপাতে ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ১৭ ওয়ার্ডের সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নেন মহানগরের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা। তারই ধারাবাহিকতায় মহানগরের ১৭টি ওয়ার্ডের সম্মেলন করেন সম্মেলন করলেও সম্মেলন অনুষ্ঠিত ১০টি ওয়ার্ডে কোন কমিটি দিতে পারেনি।

 

বাকি ৭টি ওয়ার্ডে কমিটি দিলেও এর মধ্যে অর্ধ কমিটি গঠনের নজির রয়েছে। তবে নানা ভাবে সময় অতিবাহিত করে মহানগরের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের মধ্যকার বিভেদের অযুহাত সর্বশেষ নির্বাচনী অযুহাত দেখিয়ে ওয়ার্ড কমিটি গুলো অনুমোদন দেয়ানি। নির্বাচনের পরও কমিটিগুলো অনুমোদনের উদ্বেগ নেই। মহানগর আওয়ামীলীগের সম্মেলন করবে দূর থাক। কিন্তু ওয়ার্ড কমিটি গঠনের গড়িমসির প্রভার এবার ভোটের মাঠেও পড়েছে।

 

কারণ মহানগর আওয়ামীলীগের ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র ১৭টি ওয়ার্ডের সম্মেলন করতে পেরেছে। বাকি ১০টি ওয়ার্ড সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলের ওয়ার্ডগুলোর সম্মেলনই করেননি কমিটি গঠন হবে দূর থাক। এর প্রভাব দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটের হিসেবেও প্রভাব পড়েছে। কারণ সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলের ১০টি ওয়ার্ড নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন এলাকা জুড়ে যেখানে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন।

 

কিন্তু নির্বাচিত সাংসদ প্রশ্ন তুলেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার ওয়ার্ডগুলোতে যতটা ভোট প্রত্যাশা করেছিলেন তিনি তার চেয়ে কম ভোট পড়েছে। তবে এখনো মহানগরের নেতাদের টনক নড়েনি নির্বাচনের পর মহানগরের ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠনের জটিলতা নিরসনের। এস.এ/জেসি
 

এই বিভাগের আরো খবর