শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৫ ১৪২৬   ২০ মুহররম ১৪৪১

শেখ সাদী খান

জীবন মানে যন্ত্রনা নয় ফুলের বিছানা

প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০১৮  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : শেখ সাদী খান। বাংলাদেশের সঙ্গীতের যাদুকর বলা হয় যাকে। বাবা সুর সাধক ওস্তাদ আয়াত আলী খান ও জ্যাঠা সুর স¤্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ছিলেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ। মেজো ভাই ওস্তাদ বাহাদুর খানের কাছে সরোদ শিখেছেন আরেক কিংবদন্তী আর ডি বর্মন। ৮ মার্চ নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে ‘ তুমি আছ ভুলে ’ নামক এ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসেছিলেন শেখ সাদী খান। এসময় দৈনিক যুগের চিন্তার সাথে সঙ্গীত জীবন নিয়ে বলেন নানা কথা।


যুগেরচিন্তা ২৪.কম : স্যার কেমন আছেন ?
সাদী খান : ভাল আছি।


যুগেরচিন্তা ২৪.কম : কি কারণে অন্য পেশা নয়, সঙ্গীতের সাথে সারা জীবন ঘর বাঁধলেন ?
সাদী খান : পারিবারিক কারণে। বাবা, জ্যাঠা, ভাইয়েরা সবাই সঙ্গীতের এক এক দিক পাল। তারা সবাই বিভিন্ন যন্ত্র বাজাতেও ছিলেন পটু। বেহালায় কেউ ছিলেন না তাই আমি স্কুল জীবন শেষ করে মেজো ভাই ওস্তাদ বাহাদুর খানের (প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক ঘটকের অধিকাংশ ছবির সঙ্গীত পরিচালক ) সাথে ভারত য্ইা বেহালায় উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শিখতে।


যুগেরচিন্তা ২৪.কম : মান্না দে’র সাথে মধুর স্মৃতি রয়েছে, যদি বলতেন —
সাদী খান : ১৯৮৫ সালে সুখের সন্ধানে ছবির গানের জন্য আমি তাঁর সাথে ফোনে কথা বলি। প্রথমে ব্যস্ততার কথা জানান। পরে যখন বলি আমি ওস্তাদ বাহাদুর খানের ভাই, তখন বলেন আরে মশাই আগে বলবেনতো। পরে গান দেখে তিনি খুব পছন্দ করেন। বললেন, মা’কে নিয়ে গান আমি অবশ্যই গাইব। ওই গানের কথ ছিল ’ বল মা কেন এত ক্লান্ত লাগে ’। গীতিকার ছিলেন শহিদুল হক খান।


প্রসঙ্গত, শেখ সাদী খানের সুরে আশা ভোসঁলে গেয়েছেন, ‘কাল সারা রাত ছিল স্বপনের রাত’ । হৈমন্তী শুক্লা ‘ ডাকে পাখি খোল আখি এবং ‘তুমি আমার প্রেমের অনন্ত এক সুখের ঝলক’, কুমার শানু গেয়েছেন ‘ আমার মনে আকাশে আজ জ্বলে শুকতারা। এ ছাড়াও তার সুর করা বিখ্যাত গানের মধ্যে রয়েছে ‘ হাজার মনের কাছে প্রশ্ন রেখে’, আমার এ দু’টি চোখ পাথরতো নয় , কেন ভালবাসা হারিয়ে যায়- দু:খ হারায় না, একটা দোলনা যদি কাছে পেতাম, তুমি রোজ বিকেলে আমার বাগানে ফুল নিতে আসতে, শোন সোমা একটু দাঁড়াও , ওগো বিদেশিনী তোমার চেরী ফুল দাও, তোমার চন্দনা মরে গেছে, ভালবাসলেও সবার সাথে ঘর বাঁধা যায় না’ সহ অনেক গান।


যুগেরচিন্তা ২৪.কম : রেডিও, টেলিভিশন হয়ে এক সময়ে চলচ্চিত্রে পা রাখলেন, কিভাবে ?
সাদী খান : সঙ্গীতজ্ঞ খোন্দকার নূরুল আলমের সহকারী হিসেবে প্রথম কাজ শুরু করি। খুব জ্ঞানী লোক ছিলেন তিনি। তিনি আমার চলচ্চিত্র সঙ্গীতের ওস্তাদ। দেশে সঙ্গীতের এখন ভ্রান্ত সময়। এ সময়ে তাঁর মতো গুণী লোকের আরো দরকার ছিল।
যুগেরচিন্তা ২৪.কম : পুরস্কার পেয়েছেন যদিও আরো আগেই পাওয়া উচিত ছিল ।


সাদী খান : অনেক আগেই পাওয়া উচিত ছিল। পাইনি কারণ আমি উল্টো ¯্রােতের লোক। সুস্থ বিচার হলে আমি ’৮০’র দশকে পুরস্কার পেতাম। এর শিকার শুধু আমি একা নই আরো আছেন। এসময় পাশে থাকা সঙ্গীত শিল্পী সুবীর নন্দী’র দিকে তাকিয়ে বললেন ‘ তাই না সুবীর ’। সুবীর নন্দী মৃদু হাঁসলেন।
প্রসঙ্গত, কলমিলতা, মোহনা, প্রিন্সেস টিনা খান, মহানায়ক, সুখের সন্ধানে, পরিণীতা, বাবার আদেশ, পোকা মাকড়ের ঘর বসতি, হাঙর নদী গ্রেনেড, এক খন্ড জমি, ঘানি, ভালবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না, মধুমতি, রাজা সূর্য খাঁ, একই বৃত্তেসহ অসংখ্য সিনেমায় সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন শেখ সাদী খান। চলচ্চিত্র পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কার ও গীতিকার মাসুদ করিম সম্মাননা পেলেও একটা না পাওয়ার বেদনার সুর বাজে ১৯৭১’র মুক্তিযুদ্ধের সময়ে স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের এই শব্দ সৈনিকের মনে।


যুগেরচিন্তা ২৪.কম : ‘জীবন মানে যন্ত্রনা, নয় ফুলের বিছানা ’ জীবন আসলেই যন্ত্রনার – স্যার ?
সাদী খান : এ গানটি আব্দুল্লাহ আল মামুন পরিচালিত এখনই সময় ছবির গান। এ চলচ্চিত্র দিয়েই আমার প্রথম সঙ্গীত পরিচালনা শুরু। তিনি, আলমগীর কবির অনেক গুণী ও মেধাবী পরিচালক ছিলেন। তাদের সানিধ্যে আসা ভাগ্যের ব্যাপার। এই সময়ে তাদের খুব প্রয়োজন ছিল। শেষে মুচকি হেঁসে বললেন –জীবনে না পাওয়ার যন্ত্রনাই বেশী। তবুও মানুষ আশা নিয়ে বঁাঁচে।


অত্যন্ত সদালাপী গানের মানুষ শেখ সাদী খানের জন্ম ব্রাহ্মনবাড়িয়ায়। বাংলা গান নিয়ে এখনো আশাবাদী তিনি। দেশকে প্রাধান্য দিয়েই গান করতে হবে বলে তাঁর মত। সেতার, সরোদ, দোতারা, বাঁশী না থাকলে গানে প্রাণ আসে না। মৃত্যুর পর স্বীকৃতি বা পুরস্কার নিয়ে দ্বিমত আছে এই গুণী মানুষটির। তিনি বলেন, বেঁচে থাকতেই সম্মাননা জানানো উচিত, তবেই অনুজরা উৎসাহিত হবে।

এই বিভাগের আরো খবর