বৃহস্পতিবার   ১৪ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ৩০ ১৪২৬   ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

জনবল সংকটে ধুঁকছে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতাল

প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে বড় সরকারি হাসপাতাল খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতাল। হাসপাতালের শয্যা বৃদ্ধি করে ৩০০ থেকে ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণের কাজ চলমান আছে। নগরী ছাড়াও জেলার সকল শ্রেণির মানুষ এই হাসপাতাল থেকে সেবা গ্রহণ করে। বিশেষ করে নিন্মবিত্ত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অন্যতম আস্থার কেন্দ্র এই হাসপাতাল।


মাত্র ১০ টাকা টিকেটে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সেবাসহ বিনামূল্যে ঔষধ প্রদান করা হয়। হাসপাতালে সেবাদানের যাবতীয় নিয়ম থাকলেও সেবা পেতে রোগীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। হাসপাতালটিতে সেবা দেওয়ার সকল নিয়ম থাকলেও নেই পর্যাপ্ত জনবল। ফলে অতিরিক্ত রোগীর সেবা দিতে হিমসিম খাচ্ছেন প্রয়োজনের তুলনায় কম থাকা চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের।


হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়,  ১৯৮৬ সালে নারায়ণগঞ্জে এই ২০০ শয্যা হাসপাতাল দিয়ে যাত্রা শুরু। প্রথম ৫ বছর জাপান সরকারের দ্বারা হাসপাতাল পরিচালিত করে। এরপর থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।


২০১৩ সালে হাসপাতালটি ১০০ শয্যা বৃদ্ধি করে ২০০ শয্যা থেকে ৩০০ শয্যা হাসপাতালে রূপান্তর হয়। কিন্তু শয্যা বাড়লেও ৫ বছরে প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি করা হয়নি। প্রতিনিয়ত হাসপাতালের রোগীর সংখ্যাও বাড়লেও চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারীর সংখ্যায় কোন পরিবর্তন হয়নি।

 
জানা গেছে, হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসকসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ রয়েছে ৪৪৪টি। এর মধ্যে চিকিৎসক, নার্স, অন্যান্য প্রশাসনিক পদে আছে ৩৫১ জন। পদ সংখ্যা শূন্য আছে ৯৩ টি। ২০০ শয্যায় যে সংখ্যক পদ ছিল একই সংখ্যক পদে হাসপাতালে জনবল নিয়োগ আছে।


চিকিৎসকের পদ ৫০টি সেখানে চিকিৎসক আছে ৪৫ জন। সেবক-সেবিকার পদ ২০২টি সেখানে সেবক-সেবিকা রয়েছে ১৭১ জন। অন্যান্য প্রশাসনিক ১৯২ টি পদে বর্তমানে কর্মচারী আছে ১৩৫ জন।


সম্প্রতি হাসপাতালটি ৫০০ শয্যায় উন্নতীকরণের কাজ চলছে। ৫০০ শয্যার হাসপাতালে রোগীদের পর্যাপ্ত সেবা দিতে হাসপাতালের ২০৩৩ জন জনবল প্রয়োজন কিন্তু জনবল আছে ৩৫১ জন। যেটা প্রয়োজনের তুলনায় ৫ ভাগের ১ ভাগ। হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দেড় হাজার রোগী সেবা নিতে আসে।


কিন্তু এতো রোগীর সেবা দেওয়ার জন্য নাই পর্যাপ্ত ব্যবস্থা, নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক। হাসপাতালের প্রতিটি বিভাগেই চিকিৎসকের সংকট রয়েছে।এদিকে হাসপাতালের নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত কর্মীদের সংখ্যাও কম থাকায় মাদকসহ নানান সমস্যায় পড়েন রোগীসহ হাসপাতালের কর্মীরা।


সরজমিনে হাসপাতালে দেখা যায়, হাসপাতালে রোগী গিয়ে প্রথম সংকটে পড়ে টিকেট লাইনে। প্রায় সময়ই টিকেট কাউন্টারে কর্মী থাকে না। ৩টি কাউন্টারের মধ্যে ২টি থেকে টিকেট সংগ্রহ করে রোগীরা। অপর একটি টিকেট কাউন্টারে কর্মীর প্রায়ই দেখা মিলে না। টিকেট কাউন্টার থেকে টিকেট নিয়ে ডাক্তার কক্ষের সামনে  সিরিয়ালে দাঁড়ান রোগীরা। সেখানেও দাঁড়িয়ে থাকে রোগীরা।


ঘন্টার পর ঘন্টা ডাক্তারের অপেক্ষায় কিন্তু ডাক্তারের দেখা মিলে না। যেখানে ডাক্তারের হাসপাতালের আসার সময় ৮ টা সেখানে ডাক্তার আসেন সাড়ে ১০ টা থেকে ১১ টায়। চিকিৎসক সংকট থাকায় একজন ডাক্তারের ঘন্টায় ২০-২৫ জন রোগী দেখে। পর্যাপ্ত সময় দিয়ে রোগী না দেখেই ঔষধ ও পরীক্ষার বিবরণীপত্র দিয়ে দেন বলে অভিযোগ করেন রোগীরা।


ফতুল্লার বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, আমি কানের ডাক্তার দেখাতে আসছি। কিন্তু টিকেট কেটে সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে আছি দেড়ঘন্টা। ডাক্তার আসে নাই। হাসপাতালের টয়লেটে গেছি, অনেক দুর্গন্ধ, ব্যবহারের অনুপযোগী। হাসপাতালে কর্তৃপক্ষের বিষয়গুলো নজরে আনা দরকার।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একজন কর্মচারী বলেন, হাসপাতাল ৩০০ শয্যার তাই রোগীও সেই মোতাবেক আসে। কিন্তু আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল নেই। আমরা চাইলেও সকল সেবা প্রয়োজন মতো দিতে পারি না। জনবল কম থাকায় সেবা থেকে বঞ্চিত হয় রোগীরা। জনবল কম থাকায় চিকিৎসায় সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়। 


নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা.আবু জাহের বলেন, হাসপাতালের জনবল সংকট অনেক আগে থেকেই। ২০০ শয্যার জনবল দিয়ে ৩০০ শয্যার কার্যক্রম কোনরকমভাবে সম্পাদন করা গেলেও ৫০০ শয্যার কাজ করা সম্ভব হবে না।


ইতিমধ্যেই আমরা ৫০০ শয্যার জন্য প্রয়োজনীয় জনবলের সংখ্যার রিকোয়ারমেন্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। কিন্তু এই জনবল পেতে সময় লাগবে। তবে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান এবিষয়টিতে নজর দিলে আশা করি জনবল পাওয়ার ব্যাপারটি আরো দ্রুত হবে।

এই বিভাগের আরো খবর