বৃহস্পতিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৪ ১৪২৬   ১৯ মুহররম ১৪৪১

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী রনি’র নির্বাচনী ইশতেহার

প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার ( যুগের চিন্তা ২৪) : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির ৬ষ্ঠ কাউন্সিলকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই প্রার্থীরা তাদের নিজস্ব নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে।‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সোনালী সম্ভাবনার প্রত্যাশায় আমার প্রতিশ্রুতি’ স্লোগানকে সামনে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছেন সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ও নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি।

 

মশিউর রহমান রনির প্রকাশিত নির্বাচনী ইশতেহার হলো-
১। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে জালিম শাহীর কারান্তজাল থেকে মুক্ত করার সংগ্রামকে বেগবান করা।
২। মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবিনাশী দর্শন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ এবং তার প্রবর্তিত ১৯ দফা প্রচার প্রসারের লক্ষ্যে সমন্বিত কর্মসূচী গ্রহণ করা।
৩। তৃণমূল রাজনীতির প্রবক্তা দেশনায়ক তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারকে বাধ্য করতে কার্যকর আন্দোলন গড়ে তোলা।

 

৪। জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন ও সাবেক ছাত্রদল নেতাদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শের আলোকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের জন্য গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করা।
৫। গুম হয়ে যাওয়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় বেগম জিয়ার প্রবর্তিত নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য ফ্যাসিবাদী সরকারকে বাধ্য করার নিমিত্তে কার্যকর ও দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আন্দোলন গড়ে তোলা।
৬। দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কার্যক্রম শুরু করা।

 

৭। ছাত্র রাজনীতির ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব সৃষ্টির স্বার্থে সহ-অবস্থান নিশ্চিত করতে ডাকসুসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কাজ করা।
৮। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রশ্নপত্র ফাস, নকল প্রতিরোধ, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতিরোধ, আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, নতুন হল প্রতিষ্ঠা, বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, পরিবহন সুবিধা বৃদ্ধি করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া।
৯। ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস ঐতিহ্যের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন এবং সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজভিত্তিক ছাত্র রাজনীতির চর্চা ও অনুশীলনে উদ্যোগী হওয়া।

 

১০। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের তারুণ্যনির্ভর মেধাবী সাহসী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় তৃণমূল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সদস্য সংগ্রহ জোরদার করা।
১১। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নিয়মিত মুখপত্র প্রকাশ করা, যাতে সারাদেশের ছাত্র আন্দোলন ও শিক্ষাঙ্গনের প্রতিবেদন স্থান পায়।
১২। বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশের ছাত্র সংগঠনগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সক্রিয় করা।

 

১৩। সারাদেশে অবৈধ সরকার বিরোধী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে মামলা, হামলার শিকার, গুমের শিকার, আহত, নিহত নেতা কর্মী ও সমর্থকদের সহায়তার লক্ষ্যে “সহায়তা তহবিল” প্রতিষ্ঠা করা।
১৪। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রচার ও প্রসারে এবং প্রশিক্ষিত জাতীয়তাবাদী কর্মী তৈরির লক্ষ্যে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, বুদ্ধিজীবী ও বিশিষ্টজনদের নিয়ে নিয়মিত মতবিনিময় সভা ও গবেষণা সেল গঠন করা।
১৫। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটির প্রতিটি পদকে কার্যকর করা ও বিষয়ভিত্তিক সম্পাদকীয় দায়িত্বশীলদের দায়িত্ব নিশ্চিত করা।

 

উল্লেখ্য, চলতি মাসের  ১৪ তারিখ অনুষ্ঠিত হবে দেশের বৃহৎ ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিল। শীর্ষ দুই পদে নেতা নির্বাচিত হবেন গণতান্ত্রিক পন্থায়। এবার সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক হিসাবে ২৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে সভাপতি হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন ৯ জন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ১৯জন।


নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, ছাত্রদলের প্রতিটি শাখার শীর্ষ পাঁচজন নেতা ভোট দিতে পারবেন। সংগঠনটির ১০টি সাংগঠনিক বিভাগের ১১৬ শাখায় মোট ৫৬৬ জন ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগের ৯ শাখায় ৪৫ ভোট, ঢাকা বিভাগের ২৯ শাখায় ১৩৮ ভোট, চট্টগ্রাম বিভাগের ১২ শাখায় ৫৮ ভোট, কুমিল্লা বিভাগের ছয় শাখায় ৩০ ভোট, খুলনা বিভাগের ১৪ শাখায় ৭০ ভোট, ময়মনসিংহ বিভাগের ৯ শাখায় ৪৫ ভোট, রাজশাহী বিভাগের ১১ শাখায় ৫২ ভোট, সিলেট বিভাগের সাত শাখায় ৩৫ ভোট, রংপুর বিভাগের ১৩ শাখায় ৬৩ ভোট ও ফরিদপুর বিভাগের ছয় শাখায় ৩০ ভোট রয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর