বৃহস্পতিবার   ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪   ফাল্গুন ১০ ১৪৩০

ঘর সাজাতে কদর বেড়েছে বেতের আসবাবের

আবু সুফিয়ান

প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারি ২০২৩  



প্রাচ্যের ডান্ডি নারায়ণগঞ্জ বাংলাদেশের ধনী জেলার তালিকায় প্রথম। ধনী এই জেলায় বেড়েছে সৌখিন মানুষের সংখ্যা। শুধু তাই নয় দিনকে দিন সাধারন মানুষের কাছেও বেড়েছে বেতের আসবাবের চাহিদা। বাংলাদেশের প্রাচীন কুঠির শিল্পের একটি হচ্ছে এই বেতশিল্প।

 

 

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওসহ নারায়ণগঞ্জ শহরের জামতলা, চাঁনমারিতে প্রচুর পরিমানে বেতের তৈরি আসবাব তৈরি করছেন বেতশিল্পের শিল্পরা। এতে অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের জামতলায় অবস্থিত মোছলিমা কেইন ফার্নিচার-এর মালিক কবির খানের ছেলে মো. সাব্বির বলেন, দিনে দিনে বেতের তৈরি জিনিস পত্রের চহিদা বাড়ছে।

 

 

একটা সময় ছিল যখন শুধু সৌখিন মানুষেরাই কেবল বেতের আসবাব পত্র ব্যবহার করতেন। কিন্তু এখন এই ব্যপারটা বদলে গেছে। শুধু সৌখিন মানুষ নন, অনেক সাধারন মানুষও এখন এই বেতের আসবাবের ব্যবহার শুরু করেছে।

 

 

তবে তিনি জানান, আগের থেকে বেতের দাম অনেক বেড়েছে কিন্তু সেই তুলনায় বেতের আসবাবের দাম বাড়েনি। তিনি আরোও বলেন, একেকটা দোলনা সম্পূর্ন তৈরি করতে প্রায় ৪ দিন লাগে। এই বেতের দোলনা আগে বিক্রি করতাম ৩২০০ টাকায়। তিনি জানান, তার দোকানে তিন জন কারিগর কাজ করেন।

 

 

জামতলার এই মোছলিমা কেইন ফার্নিচার-এ বেতের দোলনা কিনতে এসেছেন ফতুল্লার ইমতিয়াজ মোল্লা। তিনি বলেন, আমি আমার মেয়ের জন্য এখানে একটি পাখির বাসা দোলনা কিনতে এসেছি। আমার এই দোলনাটি আগে থেকেই পছন্দ করা ছিল। এই দোলনার দাম ৪৫০০ টাকা।

 

 

একই দোকানে বেতের সোফা কিনতে এসেছেন নারায়ণগঞ্জ শহরের নিলুফা ইয়াছমিন। তিনি বলেন, দিন দিন বেতের তৈরি আসবাবের চাহিদা বাড়ছে। এমন এখনটা সময় ছিল যখন শুধু সৌখিন মানুষ বা ধনীরাই কেবল বেতের আসবাব ব্যবহার করতেন বা কিনতেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে অনেক সাধারন মানুষ এখন বেতের তৈরি জিনিসপত্র ব্যবহার করছেন।

 

 

জামতলার আরেক দোকানের কারিগর জামালপুরের মো. মুজিবুর রহমান দীর্ঘ ২৮ বছর যাবৎ যুক্ত আছেন এই পেশায়। তিনি বলেন, আমি এই দোকানে প্রায় তিন বছর ধরে কাজ করছি। তিনি বলেন, আসবাবপত্র তৈরির জন্য এই বেতগুলো আমরা ঢাকার পান্থপথ, বনানী এবং ঐতিহাসিক বানিজ্যিক এলাকা জিঞ্জিরা থেকে।

 

 

বার্মা (মিয়ানমার) থেকে ঢাকায় এসব বেত আসে বলে তিনি জানান। বার্মা (মিয়ানমার) থেকেই সিদ্ধ করা এসব বেত চট্টগ্রামে আসে এবং সেখান থেকে ঢাকায় আসে বলে তিনি জানান। একটি বেত ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কিনতে হয়। তিনি বলেন, বাঁধনের জন্য এক কেজি আমদানি করা বেতের দাম ১০০০ টাকা।

 

 

আর এমনই দেশি বেত ৭০০ টাকা। আমাদের এখানে বেতের যে জিনিসপত্র তৈরি হচ্ছে তার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তিনি আরোও বলেন, বেতের তৈরি আসবাব ব্যবহারের অনেক ধরনের সুবিধা আছে।

 

 

বেতের আসবাব দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। নিজের পুঁজি থাকলে নিজের এই প্রতিভাকে তিনি কাজে লাগিয়ে এই শিল্পকে আরোও সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতেন বলে জানান বেতশিল্পের এই শিল্পি।

 

 

মো. মুজিবুরের দোকানের মালিক শরীয়তপুরের মো. আল ইসলাম। তার এই দোকান ঘুরে দেখা যায়, বেতের তৈরি সোফার দাম ৩৮০০ টাকা, চেয়ার ৪০০০ টাকা, ল্যাম্ব স্টাম্প ছোট সাইজের ৮০০ টাকা, বড় সাইজের ১২০০ টাকা। টুল ৮০০ টাকা শুরু করে ২০০০ টাকা পর্যন্ত।

 

 

বড় গোল সোফা ৭৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেন তারা। চেয়ার ৪০০০ টাকা, ঝুলন্ত চেয়ার ২৫০০ টাকা। মো. মুজিবুর রহমান বলেন, সারাদিন কাজের বিনিময় ৫৭০ টাকা হাজিরা পাই। তিনি জানান, বর্তমান জিনিসপত্রের যে দাম তাতে এই টাকা কিছুই না। দিন দিন সবকিছুরই দাম বাড়ছে।

 

 

তাই আমার হাজিরা বর্তমান সময়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাড়ালে আমার জন্য খুবই ভালো হতো। এই কারিগর জানান, নারায়ণগঞ্জে বেতের আসবাব তৈরি এবং বিক্রি হয় শহরের জামতলায় মোট তিনটি দোকানে।

 

 

সড়কের পাশেই দুটি অপরটি বাইতুল মোশারফ জামে মাসজিদের গলিতে। এছাড়া চাঁনমারিতে আরেকটি দোকান আছে বলে তিনি জানান। এন.এইচ/জেসি