শনিবার   ২৪ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৯ ১৪২৬   ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

গণপিটুনীতে নিহত সিরাজের স্ত্রী-কন্যার খোঁজ নেই 

প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : সিদ্ধিরগঞ্জে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে গণপিটুনীতে নিহত সিরাজ (৩০) এর স্ত্রী,কন্যার খোঁজ মেলেনি। রোববার (২১ জুলাই) রাতে নিহতের  ছোট ভাই আলম এ তথ্য নিশ্চিত করে।


নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে  জানা যায়, সিরাজ জন্ম থেকেই বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। ১০ বছর আগে সিরাজের সাথে বিয়ে হয় শামসুন্নাহারের নামে এক নারীর বিয়ে হয়। বিয়ের পরে তাদের মিঞ্জু নামে এক কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। 


পরে ২০১৫ সালে সিরাজ  শামসুন্নাহারকে  নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইলো এলাকার মোহন চান্দের বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস শুরু করে। এখানে এসে  প্রতিবেশী  মান্নানের সাথে শামসুন্নাহারের সাথে পরিচয় হয়। এক পর্যায় মান্নানের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। 


পরে সাত মাস আগে শামসুন্নাহার সিরাজকে তালাক দিয়ে ৭ বছরের কন্যা মিঞ্জুকে নিয়ে মান্নানের সাথে পালিযে যায়। এরপর থেকে সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলো। মেয়ে ও স্ত্রীর খোঁজে প্রায়ই সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি আল আমিন নগর এলাকায় যেত। 


সেখানেই পরিচয় হয় আইডিয়াল ইসলামিক স্কুলের  শিশু শ্রেণীর শিক্ষার্থী ও একই এলাকার সোহেল মিয়ার মেয়ে সাদিয়ার (৬) সাথে। মেয়ের মুখের সাথে মিল থাকায় সে সাদিয়াকে নিজের মেয়েভেবে প্রায়ই ওকে দেখতে স্কুলের সামনে আসতো।


শনিবার  সকালেও সে সাদিয়া দেখতে এসে হাত ধরে নিয়ে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছিলো। কিন্তু স্থানীয়রা ছেলেধরা সন্দেহে তাকে গণপিটুনী দিয়ে আহত করে। পরে পুলিশ খবর পেয়ে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।


নিহতের বাবা আব্দুর রশিদ জানান, আমার ছেলে কানে শুনতো না কথা বলতে পারতো না। আমার পা ভাইঙ্গা যাওয়ার পর থাইকা কাম করতে পারতাম না। শুধু অভাবের তাড়নায় ছেলেকে সিদ্ধিরগঞ্জে আনছিলাম। তারপর বউডাও মাইয়া লইয়া চলে যায়। 


যাওয়ার পর থাইকাই মাইয়ারে খুঁজতো। খাইতো না ঘুমাইতো না খালি মাইয়া মাইয়া কইরা এদিক সেদিক খুঁজতো। ওদিন ও গেছিলো কিন্তু আমার পোলাডারে ওরা মাইরা লাইলো। আমি আমার পোলার খুনিগো বিচার চাই। 
 

এই বিভাগের আরো খবর