রোববার   ৩১ মে ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১৭ ১৪২৭   ০৮ শাওয়াল ১৪৪১

করোনার ছুটিতে শহরের চিত্র 

খেয়াঘাটে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায়

প্রকাশিত: ৬ এপ্রিল ২০২০  

স্টাফ রিপোর্টার : করোনায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার উদ্দেশ্যে বন্ধ আছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ কলকারখানা। বন্ধ আছে গণপরিবহন। এই সুযোগে শহর সংলগ্ন নদীঘাটগুলোতে ভাড়া নিচ্ছে ইচ্ছেমতো। যেখানে আগে পারাপারের জন্য খরচ হতো এক টাকা থেকে দুই টাকা সেখানে এখন পাঁচ টাকার নিচে কোন ভাড়াই নেই। 


আবার কোন কোন জায়গায় নদী পার হতে গুণতে হচ্ছে সাত টাকা কিংবা আরো বেশী। নৌকায় ছাউনি ভিতরে ও বাইরে মোট ১২ থেকে ১৫ জন যাত্রী  নেয়ায়  করোনা বিস্তার রোধে ঘোষিত সামাজিক দূরত্বের কোন নিয়মকানুনই মেনে চলা সম্ভব হচ্ছেনা। বিভিন্ন খেয়াঘাটগুলো ঘুরে ভোগান্তির এমন চিত্র দেখা গেছে।


শহরের পাশেই অবস্থিত হাজীগঞ্জ গুদারাঘাটে দেখা যায়, ট্রলারহ বা নৌকা যাই হোক না কেন সর্বনিম্ন ভাড়া পাঁচ টাকা। এর মধ্যে লোক এক/দু’জন হলে তারা কেউ ২৫ টাকা আবার কেউ ৩০ টাকা দিলে চলে যাবারও ঘোষণা দিচ্ছে। কিন্তু পাঁচ টাকা করে ভাড়া দিলে নৌকা প্রতি কয়জন করে লোক নিবে তার কোন অঙ্গীকার নেই।


নবীগঞ্জ ঘাট এলাকায় নাজিমুদ্দিন নামের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, এখানে এর আগে যখন টোল ছিল তখন ঘাট মাঝি জনপ্রতি এক টাকা করে নিত। তখন তাদের পক্ষ হতে পারাপারের জন্য বিনে পয়সায় গুদারা বা ট্রলার ছিল। টোল ফ্রি হওয়ার পর থেকে যে ট্রলার গুলো আলাদা কোন টাকা নিত না তারাই দুই টাকা করে পার করা শুরু করে। 

এক টাকায় পারাপারের সব রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু করোনার ছুটি ঘোষণার পর থেকে ওই ট্রলারসহ সব নৌকাই ৫ টাকা করে ভাড়া আদায় করছে।


৫ নং খেয়াঘাট এলাকায় দেখা যায়, ঘাটে টোল আদায় করছে ২ টাকা এবং নৌকায় ৫টাকা অর্থাৎ মোট ভাড়া লাগছে ৭টাকা। এই ঘাটে (দুপুর আড়াইটা) এ সময় কোন ট্রলার চোখে পড়েনি। স্কুল ঘাট হিসেবে পরিচিত টানবাজার ঘাটে টোল নেয়া হয় ২টাকা। তবে ট্রলারের ব্যবস্থা আছে। শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকার ফায়ার ঘাট হিসেবে পরিচিত মেরিন ঘাটে জনপ্রতি টোল আদায় করা হচ্ছে ৫ টাকা। 


এখানকার যাত্রিরা জানান, এখানে ভাড়া বিহীন ট্রলারের ব্যবস্থা আছে, তবে করোনার ছুটি ঘোষাণার পর থেকেই এখানে টোল দিতে ৫টাকা।


তবে নারায়ণগঞ্জের সেন্ট্রাল খেয়াঘাট হিসেবে পরিচিত বন্দর খেয়াঘাটে দেখা যায় সব ট্রলারই সারিবদ্ধভাবে বেঁধে রাখা হয়েছে। সরকারী বন্ধ ঘোষণা পর থেকেই এই ট্রলারগুলো বন্ধ। সেখানে নৌকায় জনপ্রতি ভাড়া আদায় হচ্ছে ৫ টাকা। লোক নেয়া হয় ইচ্ছে মতো। সামাজিক দূরত্ব রাখার মতো কোন ব্যবস্থাই নেই সেখানে। 


এখানে আসিফ নামের একযাত্রি জানান, ছুটি ঘোষণা ওয়ার পর থেকেই এখানকার ট্রলারগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখানে উন্মুক্ত কোন নৌকাই নেই। উন্মুক্ত নৌকা হলে এবং লোক সংখ্যা কম হলে তবুও একটু দূরে দূরে দাড়ানোর চেষ্টা করা যায়। বদ্ধ নৌকাতে এখন আর সে সুযোগ নেই, নৌকাতে বাধ্য হয়েই গাদাগাদি করে পার হতে হয়। আর ভাড়াতো কমপক্ষে ৫টাকা বাধ্যতামূলক।
 

এই বিভাগের আরো খবর