বৃহস্পতিবার   ০৯ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ২৬ ১৪২৬   ১৫ শা'বান ১৪৪১

খুলে দেয়া হয়েছে ত্রিবেনী সেতু, সুবিধা পাচ্ছে স্থানীয়রা

প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

শাহজাহান দোলন : অবশেষে যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে বন্দরের ২১নং ওয়ার্ডের ত্রিবেনী খালের উপর নির্মিত সেতুটি। ২০১৭ সালের জুনে জাইকার অর্থায়নে বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রাখতে সেতুটির (ত্রিবেনী ব্রিজ) নির্মাণ কাজ শুরু করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। এরপর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি নাগাদ সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কার্যত তা হয়নি। 

 

নানা জটিলতার কারণে দুই ধাপে বাড়ানো হয়েছে কাজের সময়সীমা। ফলে ২০২০ সালে এসে, শেষ হয়েছে সেতুটির প্রায় ৯০ ভাগ কাজ। চলছে কার্পেটিং ও সেতুর দুই পাশের রেলিং স্থাপন। তবে সাধারণ মানুষের যাতায়তের সুবিধার্থে শতভাগ নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পূর্বেই যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে সেতুটি।

 


সর্বমোট ৫ কোটি ৭৯ লাখ ১৮ হাজার ৪৬৮ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুর মোট দৈর্ঘ্য ১৮ মিটার এবং প্রস্থ রয়েছে সাড়ে ৯ মিটার। সেতুর উত্তর দিকে রয়েছে ৯৬ মিটার দীর্ঘ এক প্রবেশপথ। অন্যদিকে দক্ষিণে রয়েছে ৮৮ মিটার এপ্রোচ রোড (সংযোগ সড়ক)। মূলত এই দুটি প্রবেশ পথই ১০০ ফিট আলী আহম্মদ চুনকা সড়ক এবং রূপালী গেইট সড়ককে সেতুর সাথে সরাসরি সংযোগ করেছে।


সরেজমিনে গিয়ে এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেতুটি দৃশ্যমান না হওয়ার পেছনে, আশেপাশের জায়গা দখলমুক্ত করাসহ বেশ কয়েকটি কারণ দায়ী ছিলো। তাই সেতুর নির্মাণ কাজ ধীর গতিতে চলতে থাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি ছিলো প্রতিদিনের সঙ্গী। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে না হলেও এখনই সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া আছে। ফলে সোনাকান্দা, মদনগঞ্জ, রূপালী গেইটসহ বেশ কয়েকটি এলাকার সাথে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ করতে সেতুর সুবিধা পাচ্ছে। 

 

বন্দরের রূপালী গেট এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, এই সেতুটি নির্মাণ করতে নাসিক অনেক সময় নিয়েছে। সাধারণত এমন স্বল্প দৈর্ঘ্যরে একটি সেতু নির্মাণ করতে সময় লাগে ১ বছরের একটু বেশি। কিন্তু ত্রিবেনী সেতু নির্মাণ করতে সময় লেগেছে  তিন বছরের বেশি। এর জন্য আসলে কিছু কারণও দায়ী। যাই হোক, এখন সেতুটি খুলে দেয়াতে যানবাহনের মাধ্যমে লোকজন ভালোভাবেই চলাচল করতে পারছে।

 

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইসমাইল হোসেন সিরাজী বলেন, সেতুটির উত্তর এবং দক্ষিণে প্রবেশপথ প্রশস্থ করতে রাস্তার দুইদিকেই আমাদের উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছে। এতে অনেক সময় গেলে যায়। তাছাড়া সেতুটির নীচ দিয়ে বৈদ্যুতিক তার, গ্যাস এবং  পানির লাইনের সংযোগ থাকাতে কাজে অনেক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। তাই দুই দুইবার আমরা সেতু নির্মাণে সময় বাড়িয়ে কাজ শেষ করছি। 

এই বিভাগের আরো খবর