বৃহস্পতিবার   ১৪ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ৩০ ১৪২৬   ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

খুব শীঘ্রই লাঘব হতে চলেছে রেলযাত্রীদের দুর্ভোগ

প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : রেলের ইঞ্জিন, বগি’র মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে অনেক দিন আগেই। তবুও এই নিয়েই চলছে বিপজ্জনক ট্রেনযাত্রা। রেলপথের অবস্থাও শোচনীয়। লাইনে পর্যাপ্ত পাথর থাকার কথা থাকলেও তা নেই। পাথরের পরিবর্তে ফেলে রাখা হয়েছে নানারকম আবর্জনা।


কোথাও কোথাও কাঠের স্লিপারগুলো উধাও হয়েছে। কোথাও রেলক্লিপের বদলে স্লিপারগুলোকে নামমাত্র জোড়া দিয়ে রাখা হয়েছে। অনেক স্থানে খুলে নেওয়া হয়েছে রেল ক্লিপ। কোথাও কাঠের অংশকে রেলক্লিপ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।


এই চিত্র ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলরুটের ২২ কিলোমিটার রেললাইনের। সকাল সাড়ে পাঁচটা থেকে রাত সোয়া এগারোটা পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি তিনটি ট্রেন ৩২ বার যাতায়াত করে। রাজধানীর কমলাপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত ২২ কিলোমিটারের রেলপথে স্টেশন রয়েছে সাতটি।


প্রতিদিন আনুমানিক ৩০ হাজার যাত্রী  ট্রেনের ভেতরে, ইঞ্জিনে ও বগির উপরে বসে যাতায়াত করে থাকেন। ৪৫ মিনিটের এ যাত্রায় যেমন রয়েছে ভোগান্তি ও ঝুঁকি অন্যদিকে মাঝপথে ট্রেন থেমে যাওয়া নিয়ে থাকে আতঙ্ক।


তবে খুব শীঘ্রই লাঘব হতে চলেছে রেল যাত্রীদের দুর্ভোগ। পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন প্রকল্পের কাজ। থাকবে আধুনিক রেল স্টেশনসহ নানা সুযোগ-সুবিধা। অল্প সময়েই যাতায়াত করতে পারবে।


২০১৫ সালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বিদ্যমান মিটারগেজ রেললাইনের সমান্তরাল একটি ডুয়েলগেজ ডাবললাইন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। কিন্তু রেললাইনের পাশে অবৈধ স্থাপনা থাকার কারণে কাজে বাধাগ্রস্থ হচ্ছিল। এমনকি কয়েকবার প্রকল্পের নির্মাণ সময় পেছানো হয়েছে।


কিন্তু সম্প্রতি রেল কর্তৃপক্ষ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু করলে নতুন করে এই রেলপথ নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। জমি উদ্ধারসহ ইতিমধ্যেই এ প্রকল্পের অর্ধশতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ফলে গতি ফিরতে শুরু করেছে ডুয়েল গেজ প্রকল্পের কাজে এমনটাই জানলেন প্রকল্পের পরিচালক আল ফাত্তাহ মো. মাসুদুর রহমান।


রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২০ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ প্রকল্পটির অনুমোদন করা হয়।তারপর প্রকল্প বাস্তবায়নে ২০১৭ সালের ২০ জুন চায়না ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান পাওয়ার কনস্ট্রাকশন করপোরেশন লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করে রেলওয়ে।
এরপর দুই দফায় বেড়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ। ২০২০ সালের জুনের মধ্যে এই ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া নিয়ে ঝামেলা রয়েছে।


ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মিটারগেজ রেল লাইন সমান্তরাল ডুয়েল গেজ প্রকল্পের পরিচালক (জেডিজি-ইঞ্জিনিয়ার) আল ফাত্তাহ মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে এই প্রকল্পের কাজের গতি পেয়েছে। আমরা পুরোদমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। ডাবল লাইন প্রকল্পের অবকাঠামোগত ৫২ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে।২০২০ সালের জুন মাস নাগাদ এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও জমি সংক্রান্ত  জটিলতায় সময় কিছুটা বেশি লাগতে পারে।’


তিনি আরও বলেন, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডাবল লাইন নির্মাণে রেলওয়ের নিজস্ব জমি দখলে নিতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। রেলের ইজারা দেওয়া জমিগুলো ছাড়তে অনীহা ছিল ইজারাদারদের। নিজেদের জমি দখলমুক্ত করতে গিয়ে আইনি বাঁধার মুখে পড়েছে রেলওয়ে। বেশ কিছু জমি নিয়ে মামলাও চলছে।
এতে ঠিক সময়ে ঠিকাদারকে প্রয়োজনীয় জমি বুঝিয়ে দেওয়া যায়নি তাছাড়া নতুন জমিও অধিগ্রহণ করা যায়নি।  ফলে এ প্রকল্পের নির্মাণ কাজের সময় দফায় দফায় বাড়াতে হয়েছে।


রেলওয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (ভূমি) নজরুল ইসলাম জানান, পর্যায়ক্রমে আমরা আশেপাশের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে সক্ষম হয়েছি। ইতিমধ্যেই ৮০ শতাংশ রেলওয়ের জমি আমরা উদ্ধার করতে পেরেছি।


এদিকে গত ২৩ অক্টোবর ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন প্রকল্প পরিদর্শনে যান রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। প্রকল্প পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। রেলওয়ের জমি উদ্ধার চলছে। দ্রুত এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে বলেও তিনি জানান।  

 

যা যা থাকবে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন প্রকল্পে : প্রকল্পটির আওতায় ঢাকা গেন্ডারিয়া অংশে ১২.০৫ কিলোমিটার ডাবল লাইন নির্মাণ করা হবে। নারায়ণগঞ্জ, চাষাড়া ও ফতুল্লা স্টেশনে ৫.১০ কিলোমিটার ডুয়েল গেজ লুপ লাইন নির্মাণ করা হবে। রেললাইন ছাড়াও এ রেলপথে ১১টি সেতু ও কালভার্ট, দুটি ওয়াশপিট, একটি অফিস কাম স্টেশন বিল্ডিং, ৫টি আধুনিক স্টেশন ভবন ও প্ল্যাটফর্ম শেড, চারটি ফুট ওভারব্রিজ, ৩৮ হাজার ১৭৭ ঘনমিটার ব্যালস্ট সংগ্রহ, ১২টি লেভেল ক্রসিং গেট নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্প মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৭৮ কোটি ৬৫ লাখ ৫৭ হাজার টাকা।

এই বিভাগের আরো খবর