বৃহস্পতিবার   ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪   ফাল্গুন ১০ ১৪৩০

খাদের কিনারে না.গঞ্জ জাপা

ইউসুফ আলী এটম

প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি ২০২৪  

 

সরকারের সাথে আসন ভাগাভাগিসহ নানা বিষয়ে দর কষাকষির পর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে আশানুরূপ আসন না পাওয়ায় হতাশায় ভোগছে জাতীয় পার্টি(জাপা)। এই হতাশার রেশ খামছে খাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জাপাকেও। নারায়ণগঞ্জ জাপার রাজনীতি এখন খাদের কিনারে দোদুল্যমান।

 

বহুমুখি সমস্যা চেপে ধরেছে দলটিকে। সংসদ নির্বাচনের পর জাপার কপালে আওয়ামী লীগের বিটিম খেতাব পোক্তভাবে লেপ্টে গেছে। স্বকীয়তা হারিয়ে জাপা এখন আওয়ামী লীগে বিলীনের পথে। ২০২২ সালের শেষদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির কমিটি গঠনের পর দলটির সাংগঠনিক কর্মকান্ডে কোন গতি আসেনি।

 

নতুন নেতৃত্বের ব্যর্থতা দলটিকে আওয়ামী লীগের বিটিমে পরিণত করেছে। ২৫১ সদস্য বিশিষ্ট জেলা জাপার নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান যথাক্রমে সানাউল্লাহ সানু ও আবু নাঈম ইকবাল। অপরদিকে ১৭২ সদস্য বিশিষ্ট মহানগর জাপার সভাপতি হন মোদাচ্ছেরুল হক দুলাল আর সাধারণ সম্পাদকের পদ পান মো. আফজাল হোসেন।

 

দলীয় কার্যালয় হলো রাজনীতিবিদদের সেকেন্ড হোম। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক এমপি প্রয়াত নাসিম ওসমান ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জাপার প্রাণ ভোমরা। তখন বঙ্গবন্ধু সড়কে জাপার বিশাল কার্যালয় ছিলো। সেখানে রাতদিন নেতাকর্মীদের আনাগোনায় জমজমাট পরিবেশ বিরাজমান ছিলো। কিন্তু তিনি লোকান্তরিত হওয়ার পর জাপা কার্যালয়হীন হয়ে পড়ে। জেলা জাপার নেতাকর্মীরা অভিভাব ও কার্যালয়হীন যাযাবরে পরিণত হয়ে যান।

 

দীর্ঘ ১০ বছরেও নারায়ণগঞ্জের প্রাণকেন্দ্রে জাতীয় পার্টি কোন কার্যালয় খুঁজে না পাওয়াটা নানা রহস্যের জন্ম দিচ্ছে। এসব নানা কারণে নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টির অনেক নেতাকর্মী দল বদল করে আওয়ামী লীগে যোগদান করছেন বলে জানা গেছে। সোনারগাঁয়ের প্রায় ৭০/৮০ জন নেতাকর্মী ইতোমধ্যেই জাতীয় পার্টি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি উপজেলাতেই জাতীয় পার্টির এমন করুণ চিত্র দেখা দিবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

আওয়ামী লীগের করুণায় বেঁচে আছে জাতীয় পার্টি। আওয়ামী লীগের ডামি প্রার্থীর কাছেও জাপা প্রার্থীর শোচনীয় হার খুবই লজ্জাজনক। কিন্তু দলটির প্রধান জিএম কাদের বেহায়ার মতো সংসদে সরকারি দলের আজ্ঞাবহ গৃহপালিত বিরোধী দল হতেই লালায়িত। হয়েছেও তাই। নারায়ণগঞ্জে যাদের হাতে দলটির নেতৃত্ব অর্পণ করা হয়েছে তারা সবাই আনকোরা।

 

দল পরিচালনার কোন যোগ্যতাই তাদের নেই বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকগন। সাংগঠনিক  দক্ষতা অর্জনের মতো মেধাও নেই বেশিরভাগ নেতার। জেলা এবং মহানগর কমিটির নেতাদের সিংহভাগই নারায়ণগঞ্জের একটা বিশেষ পরিবারের আজ্ঞাবহ। 

 

জাপার কেন্দ্রীয় নেতাদের অবস্থা আরো করুণ। ত্রিমাত্রার কোন্দলে জর্জরিত কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কোন্দলের বলি হয়েছেন এরশাদপত্নী রওশন এরশাদ । সংসদ নির্বাচনে তাকে  এবং তার ছেলেকে জাপা মনোয়ন দেয়নি। মনোনয়ন পাননি দলটির সাবেক মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা। 

 

জাপার সাংগঠনিক কাঠামো এতোটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে, আগামীতে দলটি টিকে থাকবে কিনা এ নিয়েই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রের সংকট জেলায় জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে। নারায়ণগঞ্জেও এর ঢেউ আছড়ে পড়ছে। নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টির রাজনীতি এখন খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে। একবার পড়ে গেলে আর উঠে দাঁড়াবার শক্তি না পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। এস.এ/জেসি     
 

এই বিভাগের আরো খবর