রোববার   ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৪ ১৪২৬   ১০ রবিউস সানি ১৪৪১

কে কার ভাতিজা, কে কার ছেলে সেটি কোন বিষয় না : শামীম ওসমান

প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০১৯  

যুগের চিন্তা রিপোর্ট : চলমান শুদ্ধি অভিযান নিয়ে একমাসের বেশি সময় ধরে সরকারের চলমান অভিযানে আওয়ীমী লীগের সংসদ সদস্য, হুইপসহ ২২ জনের দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা এবং প্রভাবশালী ২৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬০০ ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। সরকারের এই চলমান শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে সম্মেলনেও ঢেউ লাগতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর সম্মেলনগুলোতে। 


আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের কাছে প্রায় দেড়হাজার ব্যক্তির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী  ও প্রধানমন্ত্রী নিজ দলের বির্তকিতদের বিরুদ্ধে খুবই কঠোর। বিতর্কিতরা কোনভাবেই নেতৃত্বে আসতে পারবেনা। ডিবিসি চ্যানেলের ‘রাজকাহন’ অনুষ্ঠানে বিষয় ছিলো শুদ্ধি অভিযানে : ত্যাগী বনাম হাইব্রীড। 


অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান,  বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এড.তৈমূর আলম খন্দকার, সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ দারা এবং বিএনপি চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদিন ফারুক।  


সাংসদ শামীম ওসমান অনুষ্ঠানে বলেন, অপরাধী কে তা কোর্ট সাব্যস্ত করবে। মিডিয়া ট্রায়াল করে দেয়া ঠিক না। আমি খুব কষ্ট পাই আমাদের মানষিকতা কত নিচ্।ু আমি গর্বিত। আমাদের নেত্রী অপরাধের খবর পাওয়া মাত্র ব্যবস্থা নিচ্ছেন। কোন আত্মীয় কিংবা স্বজনপ্রীতি করেননি। ক্যাসিনো কোন দুর্নীতি না। এটি একটি অপকর্ম। অপকর্ম আর দুর্নীতিকে মিলিয়ে ফেলাটাকে ঠিক হচ্ছেনা। 


এটাও করাপশন। এগুলো আসলো কোথা থেকে। খালিদ, জিকে শামীম, পাপনের ক্যাসিনোর কথা আসছে। বিএনপি চেয়ারপারসন দুর্নীতির অপরাধে কারাগারে আছে এটি আদালতের রায়। জিয়াউর রহমানের পরিবার ভাঙা স্যুটকেস ছিলো কিন্তু তারা আজ কিভাবে বিলিনিয়ার হলো সেটিও কেন বলছিনা। প্রধানমন্ত্রী যখন কোন উদ্যোগ নেন সেই দলের নেতাদের এব্যাপারে কতখানি কথা বলার অধিকার আছে।


শামীম ওসমান বলেন, আমাদের দেশে দুই দেশের বুদ্ধিজীবী আছে। অনেক বুদ্ধিজীবি আছে যারা নিজেরাই বলেন তারা বুদ্ধিজীবী। সিপিডি, সুজন যাই বলেন না কেন সমালোচনা করার সময় তো সমালোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী যে উদ্যোগুলো নিচ্ছেন তা অন্তর দিয়ে না হোক মুখ দিয়ে হলেও জাতির জনকের কন্যাকে ধন্যবাদ জানাই।


উপস্থাপিকা শামীম ওসমানের কাছে প্রশ্ন রাখেন আপনাদের মধ্যে কোন ভীতি কাজ করে কিনা। অনেকেই গ্রেপ্তার হচ্ছে। সম্প্রতি সেপ্টেম্বরে আপনার ভাতিজা আজমেরী ওসমানের বাসায় ও অফিসে এধরণের অভিযান চালানো হয়েছে চাঁদাবাজির অভিযোগে।


উত্তরে শামীম ওসমান বলেন, কথাটি ঠিক না। এখানেই হচ্ছে মিডিয়া প্রব্লেম। একটা বিষয় হচ্ছে কে কার ভাতিজা, কে কার ছেলে সেটি কোন বিষয় না। জ্যোতি বসু একটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলো তাঁর ছেলেকে নিয়ে একটি কথা জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো। উনি বলেছেন, তার বয়স কত। সে প্রাপ্ত বয়স্ক। এটি তার দায়িত্ব। তাই আমি এই প্রসঙ্গে গেলামনা।  


আর ভীতির কথা বলছেন, এজিনিসটা শুরু করার মাত্র ৭দিন আগে আমি নারায়ণগঞ্জে একটি জনসভা করেছিলাম। সেখানে কয়েক লাখ লোক হয়েছিলো। সেখানে বলেছিলাম একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে তিন পুরুষ ধরে রাজনীতি করি, সিএস, আরএস, এসএ পর্চা চেক করা হোক। আমার রাজনীতিক গুরু আমার বাবা। 


আমরা যেমন ধনী ছিলাম তেমনি রাজনীতি করতে এসে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। ভালো মন্দ সব জায়গাতেই আছে। এটি পৃথিবীর সৃষ্টির ইতিহাস থেকে এসেছে। আমরা রাজনীতিকে দোষরোপ করছি। কিন্তু নিজেদের দোষারোপ করছিনা। বুয়েটের আবরার হত্যাকান্ড অনেক কষ্টদায়ক একই সাথে মেধাবী আরো ২০টি ছাত্রের ক্যারিয়ার শেষ। আমরা মানুষ তৈরি করছিনা। সবাই চায় সাক্সেস।  
 

এই বিভাগের আরো খবর