বুধবার   ১৩ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ২৯ ১৪২৬   ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

কিস্তিতে ঈদ সালামি নিতাম: আড়াইহাজার এসিল্যান্ড উজ্জল

প্রকাশিত: ৪ জুন ২০১৯  

আড়াইহাজার (যুগের চিন্তা ২৪) : আর মাত্র কয়েক ঘন্টা তারপরই মুসলামান ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম উৎসব ঈদুল ফিতর। এরই মধ্যে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে ঘরে ঘরে। কেনাকাটা নানা আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত  ছোট-বড় সকলেই।  আয়োজনে পিছিয়ে নেই যুগের চিন্তা পরিবারও। প্রতি ঈদের ন্যায় এ ঈদের ঈদ আনন্দে ভাগ করে নিতে আমাদের সাথে যুক্ত হয়েছে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। ঈদুল ফিতরে যুগের চিন্তা ২৪’র ঈদ আড্ডার বিশেষ আয়োজনে আমাদের সাথে এবার যুক্ত হয়েছেন আড়াইহাজার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উজ্জল হোসেন।

 

এবারের ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি সম্পর্কে উজ্জল বলেন, যেহেতু সরকারের স্থানীয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকুরি, সেহেতু ঈদ কোথায় করা হবে তা নির্ভর করে ছুটি প্রাপ্তির ওপর। এবারের ঈদ কর্মস্থল নারায়ণগঞ্জেই করতে হবে। আমার সাথে ঈদ করবেন আমার সহধর্মিণী ও আমার মা।  আমাদের কেনাকাটা প্রায় শেষ। গ্রামের বাড়িতে থাকা পরিবারের স্বজনদের জন্য কিছু টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।এবারের ঈদ তেমন কোনো বিশেষ পরিকল্পনা নেই। 

 

শৈশবের ঈদের স্মৃতিচারণ করে উজ্জল বলেন, সবচেয়ে মজার ছিল কিস্তিতে সালামি নেওয়া। আমার মা কখনও একবারে ঈদের সালামি দিতেন না। সকালে বিশ টাকা, আবার বিকালে বিশ টাকা। ঈদের পরের দিন আবার বিশ টাকা সালামি দিতেন। সকাল বেলা নামাজ থেকে বাসায় ফিরে যেখানে যাকে পেতাম সালামির জন্য ধরতাম। দুই টাকা থেকে শুরু করে দশ টাকা পর্যন্ত সেলামি পেতাম। খুব বেশি হলে বিশ টাকা পেতাম। এর বেশি কেউ দিতোই না। সব টাকা একত্রে বেশি হলে ৫০ কি ১০০ টাকা হতো। 

 

তিনি বলেন, আরেকটু যখন বড় হলাম তখন সবাইকে সালামীর একটা রেট ধরিয়ে দিতাম। এই রেটে সালামি না দিলে নিতে চাইতামই  না।  কারো কারো ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনায় ছাড় দিতাম। ছোটবেলায় ঈদের জন্য অধীর আগ্রহে বছর ধরে অপেক্ষা করে থাকতাম। মা’কে মাঝে মাঝে জিজ্ঞাসা করতাম ঈদ আসতে আর কত দিন বাকি। ঈদের সপ্তাহ আগে গ্রামে পরে যেত ঈদের আমেজ।  প্রত্যাশার ঈদ ধরা দিতো অপেক্ষার প্রহরে। কিন্তু আবার চলে যেত আনন্দের পালা না ফুরতেই। সত্য কথা বলতে কি ছোটবেলায় ঈদ ছিলো একান্তই নিজের।  আর এখন ঈদ নিতান্তই দায়িত্বশীলতা। ঈদের আনন্দ এখন উদ্যাপন করতে হয় কর্মস্থলে। আবার কখনো পরিবারের সাথে। আবার কখনো বা একাকি। 

 

এবারে ঈদের পরিকল্পনা খুবই সাদামাটা জানিয়ে উজ্জল বলেন, যেহেতু কর্মস্থলেই ঈদ করা হচ্ছে। ঈদের নামাজ শেষে ডিসি বাংলোতে অনুষ্ঠিত ঈদের প্রোগ্রামে যোগদান করতে হবে। বাসায় ফেরার পর শুরু হবে নিজ ও পরিবারের ঈদ । ঈদের দিন বিকাল বেলা কয়েকজন বিশেষ আতœীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। চাকুরির প্রোটকল অনুযায়ী ঈদের দিন পার করতে হয়। সকাল বেলা সিনিয়র স্যারগণের সহিত ঈদ্গাহে নামাজ আদায়ের পর জেলা প্রশাসকের বাংলোতে গিয়ে প্রোগ্রামে অংশ নিতে হয়।

 

উজ্জল বলেন, ঈদের দিনের বিকাল বেলাটা নিজের মত করে কাটানো যায়। এখন চাকুরির ব্যস্ততার কারণে প্রাত্যাহিক জীবনে পরিবারকে সেভাবে সময় দেয়া যায় না। সবার এক সাথে সময় কাটানো হয়ে উঠে না। ঈদের দিনগুলোতে চেষ্টা করি পরিবারকে সময় দিতে। সন্ধ্যার পর ঘুরতে বের হই। অনেক ছোটবেলায় নানা বাড়িতে কাটানো ঈদে সেলামি নিয়ে রয়েছে মজার স্মৃতি। 

 

শুভানুধ্যায়ীদের ঈদের অগ্রীম শুভেচ্ছা জানিয়ে উজ্জল হোসেন বলেন, ঈদে সবাই সার্বজনীনভাবে আনন্দ উপভোগ করুক, সবার ঈদ কাটুক নির্বিঘেœ ও আনন্দে সেই কামনা করি। 

এই বিভাগের আরো খবর